Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ৮ কার্তিক ১৪২৫, ১২ সফর ১৪৪০ হিজরী

খুলনার উন্নয়নমেলায় জনপ্রিয় স্টল এলজিইডি

| প্রকাশের সময় : ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

খুলনা ব্যুরো : খুলনায় ৩ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত উন্নয়ন মেলা ২০১৮ এর গতকাল শুক্রবার ছিল দ্বিতীয় দিন। খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে অুনষ্ঠিত উন্নয়ন মেলার বিভিন্ন স্টলের প্রদর্শনীতে সেবার নানা দিক তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য ও উন্নয়নের তালিকায় এগিয়ে আছে খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) স্টল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, পল্লী সড়ক শুধুমাত্র সড়ক-ই নয়; কর্মসংস্থান, জীবিকা ও উন্নততর জীবনেরও অবলম্বন। পল্লী সড়কের হাত ধরেই আসে কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য প্রবেশগম্যতা, দারিদ্র মুক্তি এবং সর্বোপরি মানব উন্নয়ন। তাই, পল্লী সড়ক উন্নয়ন বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত বিষয়। ২০০৯-২০১৭ সময়ে খুলনা জেলায় মোট ৯৮৮ দশমিক ৭৯৩ কিলোমিটার পল্লী সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এ কাজে মোট ৩৯১ দশমিক ৫৭৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমানে ২৫৬ দশমিক ৮০১ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজ চলমান। চলমান প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে আগামী দু-তিন বছরে আরও ৩২৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে।
অপরদিকে, সড়ক উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে নিয়মিতভাবে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। টেকসই সড়ক গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখে এবং সুষ্ঠু পরিচালন ব্যবস্থার একটি গতিশীল সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। ২০০৯-২০১৭ সময়ে খুলনা জেলায় মোট ৩৬৯ দশমিক ১২ কিলোমিটার পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে। এ কাজে মোট ১২৪ দশমিক ১৮৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমানে ৮৪ দশমিক ৩৩৫ কিলোমিটার সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলমান।
এদিকে, বাংলাদেশ শত শত নদী, খাল ও চরের দেশ। সড়ক যেখানে শেষ সেতু সেখানে খুলে দেয় নতুন সম্ভাবনার দ্বার। গ্রামীণ জনজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে এলজিইডি সেতু/ কালভার্ট নির্মাণ করে আসছে। ২০০৯-২০১৭ সময়ে খুলনা জেলায় মোট ১৯৬৩ দশমিক ৪৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যরে ৫১টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এ কাজে ৭৮ দশমিক ০৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে ৬৮১ দশমিক ৮৭ মিটার সেতু/কালভার্টের কাজ চলমান। চলমান প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে আগামী দু-তিন বছরে আরও ১২৯৫ দশমিক ০০ মিটার সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।
উন্নয়ন মেলার স্টলে উপস্থিত খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর সহকারী প্রকৌশীল জোবায়দা আক্তার এর কাছ থেকে আরো জানা যায়, পল্লী উন্নয়ন একটি সামগ্রিক বিষয়। এতে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোরও বিকাশ প্রয়োজন। আবার গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীল সঞ্চালনে হাটবাজার ও ঘাট নির্মাণও প্রয়োজন। তাই ২০০৯-২০১৭ সময়ে খুলনা জেলায় উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ/ স¤প্রসারণ ১ টি, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ১৭ টি, হাটবাজার/ ঘাট ৩৮টি এবং উপজেলা সার্ভার স্টেশন ৮ টি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে মোট ৪৩ দশমিক ৫৯৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলা পরিষদ ভবন ৪টি, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ৪ টি, হাট বাজার উন্নয়ন ৬ টি কাজ চলমান আছে। চলমান প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে আগামী দু-তিন বছরে আরও ৯ টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, ৩০ টি হাটবাজার/ঘাট নির্মাণ করা হবে।
এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষায় শতভাগ শিশুর উপস্থিতি নিশ্চিত এবং আনন্দময় শিক্ষা শৈশবের জন্য সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ করছে। বিদ্যালয়বিহীন গ্রামেও নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা অনুযায়ী অনেক বিদ্যালয়ের কক্ষ স¤প্রসারণ করা হয়েছে। সারাদেশের প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) ভবনসমুহের নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ, সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উপক‚লীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় পর্যাপ্তসংখ্যক সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০০৯-২০১৭ সময়ে খুলনা জেলায় ২৮৫ টি নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, ৭১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষ স¤প্রসারণ, ১১ টি পিটিআই এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। ৮৩ টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ/পুন:নির্মাণ করা হয়েছে। এতে মোট ২৫৯ দশমিক ২৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বর্তমানে ৬১ টি বিদ্যালয়, ০৭ টি সাইক্লোন শেল্টারের নির্মাণ কাজ চলমান। চলমান প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে আগামী দু-তিন বছরে আরও ১৬০ টি বিদ্যালয় নির্মাণ/স¤প্রসারণ করা হবে।
দেশে খাদ্য স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য সরকারের অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ ছিল এলজিইডির মাধ্যমে ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন। খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের পাশাপাশি এ কার্যক্রমের ফলে কৃষি, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। সারা দেশে বিগত নয় বছরে ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ২৭৫,০০০ হেক্টর জমির পানিসম্পদ উন্নয়ন করা হয়েছে। খুলনা জেলায় ৫টি উপ-প্রকল্পের ৩৫ দশমিক ২২৪ কিলোমিটার খাল খনন, ২ দশমিক ৮০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ এবং ২টি ¯øুইসগেট/রেগুলেটর/রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। চলমান প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে আগামী দু-তিন বছরে আরও ৪টি উপ-প্রকল্প উন্নয়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে চান। এর অংশ হিসেবে তিনি দেশের প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন যা এলজিইডি বাস্তবায়ন করছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নির্মিত এ সকল কমপ্লেক্সে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য জাদুঘরসহ লাইব্রেরি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিস ও মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটসহ ৭৫০০ বর্গফুটের ভবন তৈরি করা হচ্ছে। পাঁচতলা ভিত্তির এ ভবনগুলোতে আপাতত তিনতলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করা হবে। খুলনা জেলায় ৫ টি উপজেলা মুক্তি যোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবান নির্মাণ করা হয়েছে এবং ৩টি চলমান আছে। এতে ১৫ দশমিক ৪৪৫কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। এর পাশাপাশি অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেশের ৪৮৪টি জেলায় ২৯৭১টি বাসগৃহ নির্মাণ করা হচ্ছে। খুলনা জেলায় ১৮ টি বাসগৃহ নির্মিত হয়েছে। ৬ টি নির্মাণাধীন।
এছাড়া ক্রয় ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সরকার সারা দেশে ই-টেন্ডারিং চালু করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নেও এটি একটি বড় উদ্যোগ। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে এলজিইডি’র শতকরা ৯৬ ভাগ কাজ ই-টেন্ডারিং (ই-জিপি)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। জেলা-উপজেলা এ সাফল্যের অংশীদার।
উল্লেখ্য, দারিদ্র্যমুক্তির পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নে এলজিইডির ৬টি প্রকল্প কাজ করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ লাখ নারী বিভিন্নভাবে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছে। সারা দেশে এলজিইডি’র এ অর্জনের হাজারো গল্প রয়েছে।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর