Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১০ মাঘ ১৪২৪, ৫ জমাদিউস আউয়াল ১৪৩৯ হিজরী

বিজয়ের বিকল্প ভাবছে না আওয়ামী লীগ

ডিএনসিসি নির্বাচন : দু’দলেরই জয়ের প্রত্যাশা

তারেক সালমান | প্রকাশের সময় : ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপ-নির্বাচনে বিজয়ের বিকল্প ভাবছে না আওয়ামী লীগ। এ উপ-নির্বাচনের ফলাফল প্রভাব ফেলবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর। সে কারণে এ উপ-নির্বাচনে জয়ের বিকল্প দেখছে না ক্ষমতাসীনরা। সেজন্য সতর্কতা হিসেবে প্রার্থী বাছাইকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ক্লিন ইমেজের কর্মঠ, স্বপ্নচারী ও সাহসী আনিসুল হকের মতোই কাউকে প্রার্থী করতে চায় দলটি। ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরের উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন মাঠে নেমে পড়েছেন। তবে, জয়ের বিকল্প না ভাবার কথাতেই জোর দিয়ে আসছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বারবার বলে আসছেন, উত্তর সিটিতে মেয়র পদে উপ-নির্বাচনে উইনেবল প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবে আওয়ামী লীগ।
দলীয় সূত্রমতে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনে মরহুম মেয়র আনিসুল হকের মতোই একজন গতিশীল ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দিতে চায় আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে দলটি। তফসিল ঘোষণার পর গত বুধবার দলের আগ্রহীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের আহŸান জানিয়েছে দলটি। দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির অফিস থেকে আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ (শনি-রবি ও সোমবার) জানুয়ারি ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নের আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে এবং ১৫ জানুয়ারি (সোমবার) সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে মনোনয়নের আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তরের নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। জাতীয় নির্বাচনের সামনে রেখে খোদ রাজধানীর এই সিটিতে নির্বাচনে পরাজয় দিয়ে ‘ভোটে নেগেটিভ আবহ’ তৈরি করতে চায় না টানা তৃতীয়বার রাষ্ট্র ক্ষমতা প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ। তাই জয়ের বিকল্প কিছু ভাবছেও না দলটি। এজন্য এই সিটিতে ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে সুফল পাবে বলে ভাবছে দলটি। এক্ষেত্রে রংপুর সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের পর প্রার্থী নির্বাচনে সতর্ক থাকতে চায় আওয়ামী লীগ। জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহুর্তে ডিএনসিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কোনোভাবেই ঝুঁকি নিতেও রাজী নয় তারা। তাই ভেবে চিন্তে দলের নেতাকর্মীদের মনোনভাব ও মাঠে ভোটের জরিপের উপর নির্ভর করেই চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলটি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নানাভাবে লবিং-তদবির করছেন। দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েছি- এমন দাবি নিয়ে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ করছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানীকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম। তবে আশাবাদী দলের অন্য নেতারাও। তারাও সমানতালে বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যোগাযোগ রাখছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও। তাদের মধ্যে রয়েছেন আরেক ব্যবসায়ী হক গ্রæপের স্বত্ত¡াধিকারী শিল্পপতি আদম তমিজি হক। তিনিও দাবি করছেন-আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তাকেও প্রচারণা চালাতে বলেছেন। আতিকুল ইসলাম ও আদম তমিজি হক দুজনই ইতোমধ্যে নগরবাসীকে একটি আধুনিক ঢাকা উপহার দিতে যেসব কাজ করা প্রয়োজন সেভাবে রোডম্যাপ তৈরি করেছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি অভিনেত্রী কবরী সারোয়ারও নৌকার মনোনয়ন নিয়ে উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচন করতে চান। এছাড়াও আওয়ামী লীগ থেকে উত্তর সিটিতে মেয়র পদে নির্বাচন করতে চান ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মিডিয়া কমিটির সমন্বয়কারী কবি রাসেল আশেকি। আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একজনকে ‘গ্রীণ সিগন্যাল’ দেয়ার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। ওই দিন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনান সভাপতিত্বে ওই সভাতেই দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে থেকে চ‚ড়ান্ত করা হবে নৌকার প্রার্থী।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও গত নির্বাচনে উত্তরে দলীয় প্রার্থীর সমন্বয়কের দ্বায়িত্বপালনকারী লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, আমরা মূলত তিনটা বিষয় মাথায় রেখে দলীয় মনোনয়ন দেবো। এক এলাকায় তার পরিচিত ও অবস্থান কেমন, মানে জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্কটা কেমন। দুই- আমাদের দলীয় আদর্শ ও উন্নয়ন চেতনার সঙ্গে তার কতটা মিল আছে। আর তৃতীয় হলো- ঢাকা উত্তরে নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) গতবার আনিসুল হককে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। তার একটা গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তিনি অনেক উন্নয়ন করেছেন। তার মতো তো হবে না। কিন্তু আমরা চাই তেমনি একজন গ্রহণযোগ্য ও পরিছন্ন মানুষকে মনোনয়ন দিতে।
আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডের ‘গ্রীণ সিগন্যাল’ পাওয়ার দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফারুক খান বলেন, এটা তো অস্বাভিক কিছু না। তারা তাদের মতো করে কাজ করছেন। আমার সঙ্গেও অনেকেই দেখা করেছেন। আমিও বলেছি- জনগণের কাছে যেতে, কাজ করতে। সূতরাং তাদের কাজ তারা করবেই। আমাদের দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড এ বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আমারা সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছি। এক মাস আগে থেকে বেশ কিছু জরিপ করা হচ্ছে। সেগুলোরও ফলফলও দেখা হবে।

 


Show all comments
  • তামিম ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮, ৩:৩৬ এএম says : 0
    সুষ্ঠ নির্বাচন হলে বিকল্প ভাবতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • আহমদ উল্লাহ ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮, ১:১৩ পিএম says : 0
    চাইলে সুষ্ঠু, চাইলে একতরপা। আ.লীগের অধীনে সবই সম্ভব। জলের নৌকা জয়ে ভাসবে এটাই স্বাভাবিক...
    Total Reply(0) Reply
  • Engr. Md. Shahid Ali ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮, ৯:৫৬ পিএম says : 0
    প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের পরিবারের কেউ( বিশেষ করে উনার স্ত্রী বা ছেলে) নির্বাচন করতে রাজী থাকলে তাকে মনোনয়ন দিলেই সহজেই জয়ী হওয়া যাবে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর