Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৩ বৈশাখ ১৪২৫, ০৯ শাবান ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

‘সংলাপের কোন প্রয়োজন আমরা দেখছি না, সংলাপ হবে মাঠে’

ব্যারিস্টার মওদুদকে সংবিধান পড়তে বললেন ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮, ৯:১৫ পিএম

নির্বাচনকালীন সরকার সংবিধানসম্মত নয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, সংবিধানে সব আছে, আবার পাঠ করুন। তিনি বলেন, এটা আইনের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই। আইনের মুখোশ পরে তিনি বেআইনি কাজ করেন তিনি। সংবিধানে সব আছে। আবারও সংবিধানটা মওদুদ সাহেবকে পাঠ করাার অনুরোধ জানাই। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সংলাপ হবে, তবে এখন সংলাপের কোন প্রয়োজন আমরা দেখছি না। সে রকম কোন সংকট দেখা দিলে পরিস্থিতি বলে দিবে।
জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংবাদ সম্মেলনের পর তার বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগ। গতকাল শনিবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, মওদুদ আহমদ সাহেবের ব্যাপারে যত কম কথা বলা যায় তত ভালো। তিনি সেই আইনমন্ত্রী যিনি একটা বাড়ি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন চল্লিশ বছর। আদালতে মৃত ব্যক্তির নামে কাগজপত্র দিয়ে তিনি মামলায় খালাস পেতে গিয়েছিলেন। ইনি হচ্ছেন মওদুদ আহমদ সাহেব, যিনি দিনকে রাত বানান, রাতকে দিন বানান।
জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের সংলাপের আহ্বানের পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংলাপ নিয়ে মির্জা ফখরুল সাহেব কথা বলেন। কিন্তু সমঝোতা কার সঙ্গে? যারা আগুন সন্ত্রাসী, যারা নিজের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে তাদের সঙ্গে? তিনি বলেন, নির্বাচনে আসা বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকার। এটা তাদের সুযোগ নয়। অধিকার কি সরকার থেকে ‘দয়ার দান’ হিসেবে নিবে তারা? তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন হলে সংলাপ হবে। তবে এখন সংলাপের কোন প্রয়োজন আমরা দেখছি না। সে রকম কোন সংকট দেখা দিলে পরিস্থিতি বলে দিবে।
কোন ধরণের পরিস্থিতি তৈরি হলে আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসবে এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, চিরদিনের জন্য সংলাপের দরজা বন্ধ নয়। কারণ এই নির্বাচনের সবকিছু বিএনপির সঙ্গে ঠিক করা আছে। এখানে নির্বাচন কমিশনেও তাদের প্রতিনিধি আছে। আগামী নির্বাচনের আগে কোন সংলাপ নয়। সেটা সময় হলে দেখা যাবে।
কাদের বলেন, ক্রাইসিস পরিস্থিতি জনগণ দিয়ে করতে পারবে না। জনগণকে নিয়ে আন্দোলন তারা করতে পারবে না। সেই অবস্থা তাদের নেই। জনগণ আন্দোলনে আসবে না। আগুন সন্ত্রাস করবে? সেটা যদি করে তাহলে জনগণই সেই আগুন সন্ত্রাস প্রতিরোধ করবে। সেই সংলাপ হবে মাঠে।
আইয়ুব খানের আমলের সঙ্গে বর্তমান সরকারের তুলনা করে কার্যত বিএনপির পাকিস্তানী ভাবধারা ফুটে উঠেছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ঔপনিবেশিক পাকিস্তান আমলে যে ইলেকশনটি ছিল স্বাধীনতা নির্বাচন ও ম্যান্ডেট। লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার ছিল। এই লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক মেনে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। স্বাধীনতা ঘোষণা করার জন্য জনগণ কাকে ম্যান্ডেট দিয়েছিল। তিনি বলেন, আজকে তো দেশে একটা সংবিধান আছে। স্বাধীন দেশ। এই স্বাধীন দেশেও উপনৈবেশিক আমলের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের দৃষ্টান্ত তুলে ধরছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্বৈরশাসক আইয়ুবের রেফারেন্স টেনে এনেছেন। আইয়ুবের উন্নয়নের বিষয় তারা টেনে এনেছেন। এখানে কোন উন্নয়নই হয়নি তৎকালীন সময়ে।
কাদের বলেন, আইয়ুবের উন্নয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়নের তুলনামূলক চিত্র যারা তুলে ধরেন, তারা জেনে শুনেই পাকিস্তানের ভাবধারায় বিশ্বাসী। পাকিস্তানী ভাবধারাই তাদের রাজনীতি। এটা তারা আবার প্রমাণ করেছেন; এটা তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন।
হতাশা থেকে বিএনপি আবোল-তাবোল বলছে বলেও দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে, এমনকি বিএনপির সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণকে গঠনমূলক বলেছে ও প্রশংসা করেছে। এই ভাষণে জনগণ খুশি, আর বিএনপি চরম হতাশ। তিনি বলেন, এমন সুন্দর চমৎকার ভাষণ মানুষ গ্রহণ করেছে। মানুষের গ্রহণ, সমর্থন বিএনপিকে আবার হতাশ করেছে। তারা যদি ধরে নেয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ভোটের রাজনীতির, তবে বিএনপি ভোটের রাজনীতিতে হেরে যাওয়ার ভয়ে আজকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে আবোল-তাবোল যা খুশি বলছে।
প্রসঙ্গত: জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণের দলীয় প্রতিক্রিয়া দিতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ গতকাল বিকালে সম্মেলন করে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি আন্তরিকভাবে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে নতুন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে তার উচিৎ হবে এ নিয়ে সকল স্টেক-হোল্ডারদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেয়া। তিনি বলেন, আমার দল মনে করে, একটি আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে ২০১৮ সালের নির্বাচন সম্পর্কে অর্থবহ সমাধানে আসা সম্ভব। দীর্ঘকাল যাবত সকল বিরোধীদল ও সুশীল সমাজসহ সব দলের অংশ গ্রহণে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পদ্ধতি নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি।
আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ-দপ্তর বিপ্লব বড়ুয়া।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর