Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নীতির পরিবর্তন না হলে রোহিঙ্গা পাঠানো নিরাপদ হবে না : অ্যামনেস্টি

ইনকিলাব ডেস্ক: | প্রকাশের সময় : ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

প্রত্যাবাসন নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক করার তাগিদ জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের
রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের শর্ত রেখে ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট চুক্তি স্বাক্ষরের পর আলাদা আলাদাভাবে এই আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘ চাইছে, মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদেরকে যেন স্ব-স্থানে পুনর্বাসিত করা হয়। আর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তাড়াহুড়ো না করে তা স্বেচ্ছাভিত্তিক ও নিরাপদ করাকে প্রাধান্য দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে দেশটির সেনাবাহিনীর নীতির পরিবর্তন না হলে রোহিঙ্গাদের সেখানে ফেরত পাঠানো নিরাপদ হবে না বলে মনে করছে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। রোহিঙ্গাদের উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিজ গৃহে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ায় তাদের এই প্রত্যাবর্তন ভয়ানক ভবিষ্যতের মুখে তাদের ফেলতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে গত মঙ্গলবার নাইপিদোতে চুক্তি সই হওয়ার পর উদ্বেগ জানিয়ে এক বিবৃতিতে একথা বলেছে সংগঠনটি। অ্যামনেস্টির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসগারীয় অঞ্চল বিষয়ক পরিচালক জেমস গোমেজ বিবৃতিতে বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মনে এখনও ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের দগদগে ক্ষত থাকায় তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা উদ্বেগ সৃষ্টির মতো ‘অপরিণত সময়ে নেওয়া পদক্ষেপ’। সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরের ৫৪ দিনের মাথায় দুই পক্ষ মঙ্গলবার ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ চূড়ান্ত করেছে, যাতে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সম্মত হওয়ার সময় থেকে দুই বছরের মধ্যে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি বলছে, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ওই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তারা স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফেরত যেতে পারবেন এমন কোনো নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়নি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরা এবং সেখানে বসবাসের অধিকার রয়েছে। তবে বিদ্বেষপূর্ণ একটি ব্যবস্থায় লোকজনকে পাঠাতে তাড়াহুড়া করা যাবে না। জোরপূর্বক কাউকে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন হবে। বিদ্বেষপূর্ণ ব্যবস্থার অবসান এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জবাবদিহিসহ মিয়ানমারে মৌলিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সেখানে রোহিঙ্গাদের ফেরা নিরাপদ বা মর্যাদাপূর্ণ হতে পারে না। এদিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্ব-ইচ্ছা ভিত্তিক নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে। দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র হিথার নাউয়ের্ট বলেন, ‘নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করার চেয়ে যতদিন লাগে সময় নিয়ে লোকজনের স্বেচ্ছা ও নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করাটা আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ হিথার আরও বলেন, ‘যদি কেউ দেশে ফেরাকে নিরাপদ বলে মনে না করে তবে তাদেরকে জোর করে নিজেদের বাড়িতে কিংবা স¤প্রদায়ের কাছে ফেরত পাঠানো হোক তা আমরা চাই না। এটি পুরোপুরিভাবে অকার্যকরী।’ দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সামাজিক বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছেন হিথার। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রহরীদের হাতে জাতিগত নিধনের শিকার হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সামাজিক বৈষম্য ও সহিংসতা শিকার হচ্ছেন। মুক্তমতের বিরুদ্ধে সাজা, ধর্মান্তরে বাধা কিংবা নির্দিষ্ট বিশ্বাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে প্রচলিত থাকা আইন ও নীতিমালা এই ধরনের পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’ ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করাটা ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকারের বিষয় বলেও দাবি করেন তিনি। বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা

২৫ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন