Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৪, ০৮ জামাদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

নিম্নবর্ণের স্বামীর জন্য বাবা-মা’র বিরুদ্ধে লড়াই উচ্চবর্ণের ভারতীয় নারীর

| প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : ২০১৬ সালের মার্চে ভারতের তামিলনাড়–তে দলিত স¤প্রদায়ের এক ব্যক্তির খুনের ঘটনায় প্রচন্ড ধাক্কাই খেয়েছিলো ভারত। কারণ প্রকাশ্য দিবালোকে ২২ বছর বয়সী শঙ্কর ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছিলো একটি মাত্র অভিযোগে- আর সেটি হলো তিনি উচ্চবর্ণের এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন।
শঙ্করকে যখন খুন করা হয় তখন সাথেই ছিলেন স্ত্রী কৌশল্য। পরে আদালতে নিজের পিতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তিনি এবং এখন চান এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকায় শাস্তি হোক তার মায়েরও। নিজেদের আট মাসের বিবাহিত জীবনের শেষ দিনটিতে গ্রামের বাড়িতে সকাল নটার দিকে ঘুম থেকে জেগেছিলেন কৌশল্য। পরে স্বামীর সাথে একটি বাসে করে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দুরের একটি বাজারে যান তিনি। পরদিন স্বামী শঙ্করের কলেজে একটি অনুষ্ঠান আছে, তাই তার জন্য একটি শার্ট কেনার জন্যই ওই বাজারে যান তারা। এক পর্যায়ে গোলাপি রংয়ের একটি শার্ট কিনে এনে তা আবার বদলিয়ে একটি সবুজ রংয়ের শার্ট আনার জন্য আবার বাজারটিতে ঢুকেন তারা। শার্ট নিয়ে ব্যস্ত সড়ক পার হয়ে বাসস্টপের দিকে যাচ্ছিলেন দুজনে।
কিন্তু রাস্তা পার হওয়ার আগেই দুটি মটর সাইকেলে পাঁচজন পেছন থেকে এসে তাদের পথ আটকায়। এরপর বড় ছুরি নিয়ে হামলে পড়ে। আর পুরো দৃশ্যটিই ধরা পড়ে সিসিটিভি ক্যামেরায়। আর পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র ৩৬ সেকেন্ডের মধ্যে। পরে তাদের দুজনকেই হাসপাতালে নেয়া হলেও পুরো শরীরে ৩৪টি ছুরির আঘাত পাওয়া শঙ্করের আর সুস্থ হয়ে ফেরা হয়নি।
আর ৩৬টি সেলাই নিয়ে বিশ দিন হাসপাতালে ছিলেন কৌশল্য। তার মনে পড়ে আঘাতের সময় হামলাকারী বারবার তাকে জিজ্ঞেস করেছিলো কেন নিম্নবর্ণের একজনকে ভালবাসতে গেলো সে। শঙ্কর ছিলো একজন দলিত এবং দিনমজুরের সন্তান। আর কৌশল্য প্রভাবশালী থেভার গোত্রের। পালানি শহরে তাদের দোতলা বাড়ি। তবে পারিবারিক অনেক বিধিনিষেধ এর জন্য অনেক কিছুই করা হয়নি তার। কিন্তু প্রেমের ক্ষেত্রে কোন বাধাই মানেননি তিনি। শঙ্করের সাথে তার পরিচয় হয়েছিলো কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তার মনজয় করেছিলো শঙ্কর। কিন্তু এরপর থেকে শঙ্করের সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়েছে তাকে।
এক পর্যায়ে ২০৫ সালের ১২ই জুলাই মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। এরপর তারা পুলিশের কাছে গিয়ে জানান ও দু বর্ণের বিয়ের কারণে সুরক্ষাও চান।
কৌশল্যের মতে, ‘এর পরের আটটি মাসই ছিলো আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের’। তার বাবা মা এসে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু রাজী হননি কৌশল্য। ক্ষুব্ধ বাবা শাসিয়ে গেছে যে, ‘তোমার কিছু ঘটলে আমরা দায়ী হবো না’।
পরে পুলিশী তদন্ত দেখা গেছে তার বাবাই হামলাকারীদের ভাড়া করেছিলেন। মাত্র ৫০ হাজার টাকায় মেয়ে ও জামাইকে খুন করাতে চেয়েছিলেন তিনি। কৌশল্য আদালতে ৫৮ বার তার বাবা-মাকে জামিন দেয়ার বিরোধিতা করেছেন। এরপর গত ডিসেম্বরে আদালত কৌশল্যর বাবাসহ পাঁচজনের মৃত্যুদন্ড দেয়, তবে খালাস পান তার মা। যদিও তার দাবি তার মাও সমান অপরাধী। সূত্র : বিবিসি।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ