Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭, ০৮ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

‘বিশ্বের অর্ধেক সম্পদ ৪২ জনের হাতে’ পোশাক শিল্পে সবচেয়ে কম মজুরি বাংলাদেশে

| প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : সম্পদের সুষম বন্টনের স্বপ্ন আর বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে। কিছু মানুষ দিন দিন গরীবতর হচ্ছে আর কিছু মানুষ ফুলে ফেঁপে উঠছে সম্পদে। ফুলে ফেঁপে উঠা মানুষগুলোর হাতেই আছে বিশ্বের মোট সম্পদের ৮২ শতাংশ সম্পদ। তবে তারা শত শত কোটি মানুষের মাত্র এক শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধনী-গরীবের বর্তমান বৈষম্য ১০০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। কেবল ২০১৭ সালেই বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সম্পদ বেড়েছে চার গুণ। ২০১৭ সালের হিসাবে দেখা গেছে মাত্র ৪২জন মানুষের কাছেই বিশ্বের মোট সম্পদের অর্ধেক আছে। বাকি অর্ধেক সম্পদ পৃথিবীর বাকি মানুষদের জন্য। তবে ২০১৬ সালে কিন্তু এই সংখ্যাটা ছিল ৬১জন। সে বছর ওই ৬১ জনের হাতে ছিল পৃথিবীর মোট সম্পদের অর্ধেক। এতে বোঝা যায় প্রথম দিকের ধনকুবেররা আরও বেশি ফুলে ফেঁপে উঠছেন দিন দিন। শুধু তাই নয়, প্রতি দুই দিনে এখন একজন করে মানুষ বিলিয়নেয়ার হচ্ছে।
ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অক্সফাম সম্প্রতি বলেছে, বিশ্বের মাত্র এক শতাংশ মানুষে হাতে রয়েছে বিশ্বের ৮২ শতাংশ সম্পদ। অক্সফামের ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে তারা জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে দুই হাজার ৪৩ জন বিলিয়নেয়ার রয়েছে। এ বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ গত ১২ মাসে ৭৬২ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক উইনি বিয়ানিমা বলেন, মাত্র গুটি কয়েক মানুষের হাতে এত সম্পদ থাকার বিষয়টি অনুচিত, কারণ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রতি ১০ জনের একজন প্রতিদিন দুই ডলারেরও কম দিয়ে জীবনযাপন করছে। অক্সফামে বলছে, বিশ্বের পূর্ণবয়স্ক অর্ধেক মানুষের হাতে রয়েছে মোট সম্পদের মাত্র এক শতাংশ। ২০০৮ সালে বিশ্বমন্দা শুরুর পর এ বৈষম্য বাড়তে থাকে। ফলে ধনী ক্রমে আরো ধনী হয়ে উঠছে অন্যদিকে গরিবরা হচ্ছে আরও গরীব।
এদিকে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পে যারা কাজ করেন তাদের মজুরি সবচেয়ে কম। তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী সাতটি দেশের মধ্যে মজুরির দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। এখানকার শ্রমিকরা যে অর্থ পান তা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও কঠিন। পোশাক খাতের শ্রমিকদের মধ্যে নারীরা সবচেয়ে দুরবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা অক্সফামের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। প্রতিবেদনে বিশ্বের সাতটি প্রধান পোশাক তৈরিকারক দেশের ন্যূনতম ও বসবাসের জন্য শোভন মজুরির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও আছে ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শ্রমিকেরা সবচেয়ে কম মজুরি পান। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বসবাসের জন্য শোভন মজুরি প্রয়োজন ২৫২ মার্কিন ডলারের সমান অর্থ। এর বিপরীতে বাংলাদেশের একজন শ্রমিক পান ৫০ ডলার। ভারত ও শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫০ ডলার। তবে ভারতে শোভন জীবনযাপনের জন্য ২০০ ডলার এবং শ্রীলঙ্কায় ২৫০ ডলারের বেশি অর্থ দরকার হয়।
অক্সফামের প্রতিবেদনে নারী শ্রমিকদের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কাজের চাপে শৌচাগারে যেতে না পারায় অনেক অল্পবয়সী নারী শ্রমিক মূত্রনালির সংক্রমণে ভোগেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের তৈরি পোশাক শিল্পের বড় কারখানার পাঁচ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) চার দিনে যে আয় করেন, তা বাংলাদেশের একজন নারী পোশাক শ্রমিকের সারা জীবনের আয়ের সমান।
অক্সফাম এ প্রতিবেদন তৈরি করতে বিশ্বের ১০টি দেশের এক লাখ ২৩০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ করেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অংশে দেশের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জীবনমানের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ