Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ১১ রমজান ১৪৩৯ হিজরী

কর কমানোর চিন্তা করছে সরকার -পরিকল্পনা মন্ত্রী

পরিকল্পনা মন্ত্রীর সাথে ডিসিসিআই’র পরিচালনা পরিষদের সাক্ষাৎ

| প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য শিল্পখাতে বিদ্যমান করের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে কস্ট অফ ডুইয়িং বিজনেস কমে আসবে। একই সঙ্গে ভোলায় ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ায় দেশের বর্তমান গ্যাসের মজুদ ১৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে। এছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে এডিপি’র প্রায় ৩২শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে বরে উল্রেখ করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।
গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র সভাপতি আবুল কাসেম খানের নেতৃত্বে ডিসিসিআই’র পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল-এর সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করলে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, এসডিজি’র লক্ষ্য অর্জনে সরকার ও বেসরকারী খাত কে একযোগে কাজ করতে হবে কারণ এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে প্রায় ১ দশমিক ৩১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। আহম মুস্তফা কামাল মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়নে বেসরকারী খাতের অংশগ্রহণ আরো বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণে বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারের সাথে বেসরকারীখাতকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। চট্রগ্রাম বন্দরের বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, দ্রæতই এ বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। গত বছর বাংলাদেশ হতে ১০ লাখ ৩০ হাজার ১৫০ জন জনবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে এবং বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আহরনের পরিমাণ বছরে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান এ সময় সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ৭ দশমিক ২৮শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন ও ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানব সম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়সমূহকে গুরুত্বারোপের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রী কে ধন্যবাদ জানান। তিনি বেসরকারিখাতের বিনিয়োগের পরিমান ২৩ দশমিক ১শতাংশ থেকে ২৯শতাংশ উন্নীত করার পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প-প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, শুল্ক কাঠামোর সংষ্কার ও আধুনিকায়ন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দক্ষ জনসম্পদ তৈরির জন্য কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের আহবান জানান।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বিশেষকরে দেশের মেগাপ্রকল্পগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারী ও বেসরকারী খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ অথরিটি ‘ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকাচার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং অ্যাডভাইজরি অথরিটি (নিডমা)’ গঠনসহ ২০১৯ ও ২০২০ সালকে ‘অবকাঠামো বছর’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব করেন। আবুল কাসেম খান বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে প্রস্তাবিত এমআরটি, বিআরটিসহ সবধরনের ফাষ্ট ট্রাক প্রকল্পসমূহ যথাশীঘ্র বাস্তাবায়ন ও নির্দিষ্ট সময়ে সম্পূর্ণ করতে পারলে আমাদের প্রতিবছর প্রায় ২হাজার কোটি টাকার কর্মঘন্টা রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি চট্রগ্রাম বন্দরের স্টোরেজ ক্যাপাসিটি ও কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা বৃদ্ধি, জেটির আধুনিকায়ন ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সংযোজন বাড়ানোর উপর জোরারোপ করেন।
ডিসিসিআই’র সভাপতি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জিডিপি’র ২ দমমিক ৮৭শতাংশ অবকাঠামো খাতে ব্যয় করে এবং এটাকে জিডিপি’র ৫শতাংশ উন্নীতকরণ ও আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে শুধুমাত্র অবকাঠামো খাতে ৩২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ নিশ্চিতকরনের প্রস্তাব করেন। তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক সাশ্রয়ী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে আরো বেশি হারে গুরুত্বারোপের আহবান জানান। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি এসডিজি অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অবদান বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও কর প্রদান করে এসডিজি বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব করেন।
ডিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন, পরিচালক আন্দালিব হাসান, খন্দকার রাশেদুল আহসান, কে এম এন মঞ্জুরুল হক, মো. আলাউদ্দিন মালিক, ইঞ্জি. মো. আল আমিন, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন, এস এম জিল্লুর রহমান এবং মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর