Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৬ ফাল্গুন ১৪২৪, ০১ জমাদিউস সানি ১৪৩৯ হিজরী

মজুরি বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধি না থাকায় বিক্ষোভ

| প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : পোশাক শ্রমিকদের জন্য গঠিত মজুরি বোর্ডে ‘প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধি’ না থাকায় শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা নিয়ে সংশয় জানিয়েছে ১২টি গার্মেন্ট শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত গার্মেন্ট শ্রমিক অধিকার আন্দোলন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তারা।
সংগঠনটির নেতারা বলছেন, দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় শ্রমিকদের জন্য ১০ হাজার টাকা মূল বেতন রেখে ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। সমাবেশে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও সেখানে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ফলে এই বোর্ড শ্রমিকদের স্বার্থ কতটুকু রক্ষা করবে তা নিয়ে এখনই সংশয় দেখা দিয়েছে। মজুরি বোর্ড গঠনের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক নেতাদের ওপর নজরদারি শুরু হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ২০১৬ সালে সাভারে মজুরির দাবিতে সংগঠিত শ্রমিকদের ওপর কী নির্যাতন চালানো হয়েছে তা সবার মনে আছে। এখন নতুন করে গাজীপুর, আশুলিয়ায়, সাভারে শ্রমিক সংগঠনগুলো কার্যালয়ে হানা দিচ্ছে পুলিশ।
গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, পোশাক কারখানা মালিকরা জৌলুসপূর্ণ জীবনযাপন করলেও শ্রমিকরা ন্যূনতম খাদ্যের অধিকার পাচ্ছেন না। মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে বর্তমান বাজারমূল্যে কতজন মানুষের জীবন ধারণ সম্ভব সে কথাটি কেউ ভাবছে না। পোশাকখাতের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা একমাসে যেই বেতন পান অনেক নারী শ্রমিক সারাজীবন চাকরি করেও সেই বেতন পান না বলে অভিযোগ করেন মোশরেফা মিশু।
এছাড়াও শ্রমিকদের চাল, ডাল, তেল শিশু খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করা, প্রতিবছর মূল মজুরির ১০ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট, অংশীদারিত্বমূলক প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু ও ভেরিয়েবল ডিএ বা মহার্ঘ্যভাতা চালু করাসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানান শ্রমিকরা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আগামী ২৫ জানুয়ারি বিকেএমইএ ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। সমাবেশ শেষে সংগঠনের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাঈলের নেতৃত্বে মোশরেফা মিশু, তাসলিমা আখতার, জাতীয় পোশাক শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মাস্টার মোখলেছুর রহমান, গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা জলি তালুকদারের নেতৃত্বে একটিন প্রতিনিধিদল বিজিএমইএ’র সভাপতির কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়। বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের অনুমতিক্রমে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সংগঠনটির সচিব। উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি সচিবালয়ে পোশাক শ্রমিকদের জন্য চার সদস্যের মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। একজন জেলা জজের নেতৃত্বে চার সদস্যের স্থায়ী মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক পক্ষ ছাড়াও একজন নিরপেক্ষ সদস্য আছেন। যখন যে খাতের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয় সেই খাত সংশ্লিষ্ট মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একজন করে প্রতিনিধিকে যুক্ত করে মজুরি বোর্ড ঘোষণা করে সরকার। পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে স্থায়ী মজুরি বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং জাতীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার। এর আগে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর। তিন হাজার টাকা মূল বেতন ধরে ৫ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি ঠিক করা হয়েছিল তখন। নতুন কাঠামোয় ওই বেতন তারা পাচ্ছেন ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।