Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯, ০৬ চৈত্র ১৪২৫, ১২ রজব ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

ব্যবসায় আস্থা

প্রকাশের সময় : ২৭ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বেড়েছে এশিয়ায় কর্পোরেট রিপোর্ট : বছরের প্রথম প্রান্তিকে এশিয়ায় ব্যবসায় আস্থা বেড়েছে। তিন মাস আগেও এ অঞ্চলের বড় কোম্পানিগুলোর আস্থা ছিল চার বছরে সবচেয়ে কম। এবার আস্থা বৃদ্ধির কারণ হলো, এসব কোম্পানির কর্মকর্তারা এখন চীনের অর্থনীতির উন্নতির ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। গণমাধ্যম ও তথ্য-বিষয়ক বহুজাতিক করপোরেশন থমসন রয়টার্স ও ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইনসিড) এক জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স। থমসন রয়টার্স/ইনসিড এশিয়ান বিজনেস সেন্টিমেন্ট ইনডেক্সের জন্য এ মহাদেশের ৯৭টি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে আগামী ছয় মাসের সম্ভাবনা জানতে চাওয়া হয়েছিল। দেখা গেছে, চলতি মার্চ মাসে এ কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় আস্থা সূচক ৬৫, যা ডিসেম্বরে ছিল ৫৮। আস্থার সূচকটি ৫০-এর উপরে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্টদের মনোভাব ইতিবাচক বলে ধরে নেয়া হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো নিজেদের ব্যবসায় সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে চীনে চাহিদার পতনকে চিহ্নিত করেছে। ঝুঁকির তালিকায় এর পরে রয়েছে মুদ্রাবাজারে অতিরিক্ত অস্থিতিশীলতা ও তেলের পতনশীল দাম। চীনে চাহিদার পতনের মতো বিরাজমান ঝুঁকিকে সবচেয়ে বড় বলে চিহ্নিত করা সত্তে¡ও খোদ চীনে ও সে দেশের বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোয় ব্যবসায়ী ও ব্যবসায় সংশ্লিষ্টদের আস্থা এ প্রান্তিকেই সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ইনসিড সিঙ্গাপুর ক্যাম্পাসের অধ্যাপক আন্তোনিও ফাতা বলেন, ব্যবসায় আস্থা সূচকটি যে খুব বেশি উপরে তা নয়। তবে এটা নিশ্চিত যে, পূর্ববর্তী জরিপের চেয়ে এবার হতাশা কম দেখা গেছে। অর্থনীতির শিক্ষক ও গবেষক আন্তোনিও ফাতা বলেন, চীনের অর্থনীতির মন্থরতাকে আত্মস্থ করেই মানুষ আশাবাদী হয়ে উঠছে। সাবধানতাবাদী না হয়ে তারা সম্ভাবনার সন্ধান করছে। আর এ বিষয়টিই পুরো অঞ্চলে, বিশেষত সিঙ্গাপুরে আস্থার সূচকে উঠে এসেছে। নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে ব্যবসায় আস্থা সবচেয়ে বেশি ২৯ পয়েন্ট বেড়েছে। পূর্ববর্তী দুটি প্রান্তিকে গভীর হতাশার পর এবারের ২৯ পয়েন্ট বৃদ্ধি সিঙ্গাপুরের ব্যবসায় আস্থা সূচককে সাম্যাবস্থা অর্থাত্ ৫০-এ নিয়ে এসেছে। এর মানে হলো, ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আশাবাদী না হলেও আগের মতো হতাশ নন। সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার চীনে ব্যবসায়ী আস্থা সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে ৭১-এ উন্নীত হয়েছে। সবশেষ সরকারি উপাত্তে দেখা যায়, চীনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো হচ্ছে। স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ছে এবং পুঁজির বহিঃপ্রবাহ কমছে। চীন সরকার চলতি বছর ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এশিয়ায় সার্বিক আস্থা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে চীনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশেরই শীর্ষ তিন বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে চীন রয়েছে। এশিয়া বিজনেস সেন্টিমেন্ট ইনডেক্সে সার্বিক আস্থায় উন্নতি দেখা গেলেও মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও ইন্দোনেশিয়ায় কয়েকটি উপসূচক এখনো ৫০-এর চেয়ে ঢের নিচে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের আস্থায় সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চলতি প্রান্তিকে তিনবার সুদহার কমানো হয়েছে। একই সময় ব্যবসায়ীদের আস্থা সূচক ডিসেম্বরের চেয়ে ২৩ পয়েন্ট কমে ৪২ হয়েছে। মালয়েশিয়ার কোম্পানি কোসান রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ এ জরিপে অংশ নিয়েছে। কোম্পানির করপোরেট অ্যাফেয়ার্স জেনারেল ম্যানেজার এডওয়ার্ড ঈপ বলেন, আমি মনে করি বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এমন বলার সময় হয়নি। কারণ দেশজ অর্থনীতি সেরে উঠতে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সুদের হার বাড়ায়নি। এ থেকেই বোঝা যায়, আস্থার বিষয়টি কত নাজুক। খাতওয়ারি হিসেবে দেখা গেছে, গেরস্থালি, খাদ্য ও পানীয়সহ আটটি খাতের আস্থা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে আস্থা কমেছে চায়না প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স গ্রুপ, পিটি ব্যাংক রাকিয়াত ইন্দোনেশিয়ার মতো আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ