Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

রাতে ভূমিকম্পে উত্তরাঞ্চলে ভয় আতঙ্ক উৎপত্তিস্থল এবার দেশের ভেতরেই

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ৩১ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

বছরের প্রথমদিকে অনেকটা আচমকা ভূমিকম্প সংঘটিত হলো। গতকাল (মঙ্গলবার) রাতের এ ভূমিকম্পে দেশের সমগ্র উত্তরাঞ্চলে জনমনে ভয়-আতঙ্ক বিরাজ করে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল (ইপি সেন্টার) দেশের অভ্যন্তরেই। ভূমিকম্পটি ছিল হালকা ধরনের।
তবে মাঝেমধ্যে মৃদু হালকা কিংবা মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের অশনি সংকেত বহন করে বলে ভূ-তত্ত¡ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। গতরাতের ভূমিকম্পের পর উত্তরাঞ্চল ও আশপাশের বিশাল জনপদের লোকজন অনেকেই বাড়িঘরের বাইরে খোলা জায়গায় চলে যান। রাতভর জনমনে বিরাজ করে অজানা ভীতি ও শঙ্কা।
সর্বশেষ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ৮টা ১৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ২ পয়েন্ট। অর্থাৎ হালকা ধরনের। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী ঢাকার আগারগাঁও আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ১৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে নাটোরের কাছে গুরুদাসপুরে। উত্তরাঞ্চলে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল (ইপি সেন্টার) বিদ্যমান থাকা বিশেষজ্ঞদের মতে আশঙ্কার কারণ। উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিশাল এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চ কিংবা মাঝারি ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে অধিকাংশ মানুষ বাসাবাড়িতে কিংবা দোকান-পাটে কাজকর্মে থাকা অবস্থায় হালকা ঝাঁকুনি দিয়ে সোয়া ৮টায় ভূমিকম্প শুরু হয়। চলমান থাকে প্রায় ১০ থেকে ১২ সেকেন্ড। দু’দফায় হালকা ভূমিকম্পের দুলুনি অনুভূত হয়। এসময় নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, জয়পুরহাটসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রায় সর্বত্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
এসময় ঘরের আসবাবপত্র কাঁপতে থাকে, দুলে উঠে। পরিবারের সদস্যগণ আচমকা ভূকম্পনে ভয় পেয়ে কেউ কেউ ঘরের বাইরে খোলা মাঠে চলে আসেন। রাতেও অনেকের মাঝে ভূমিকম্পের ভীতি বিরাজ করছিল।
সংশ্লিষ্ট ভূ-তাত্তি¡ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারত, মিয়ানমার, নেপালসহ আশপাশের বিশাল অঞ্চল সুপ্ত হলেও ভূমিকম্পের বলয়ে বা জোনে অবস্থিত। ভূমিকম্পের আশঙ্কাপূর্ণ দীর্ঘ ফাটল লাইন বৃহত্তর চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, ঢাকার আশপাশ এলাকা, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে গেছে। বঙ্গোপসাগর উপকূলের কাছাকাছি এলাকাও ভূমিকম্প বলয়ে অবস্থিত। অতীতে বাংলাদেশসহ আশপাশ অঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৭ থেকে ৮ মাত্রারও অধিক পয়েন্টে প্রচন্ড শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, সচরাচর ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ৫০, ১০০, ১৫০ বছর অন্তর শক্তিশালী ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তি ঘটে থাকে।
ভূতাত্তি¡ক বৈশিষ্ট্য, মাঝেমধ্যে হালকা মাত্রার ভূকম্পন-প্রবণতা এবং টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালনের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও ভূতাত্তি¡কগণ বাংলাদেশ ও আশপাশ অঞ্চলজুড়ে অদূর ভবিষ্যতে শক্তিশালী মাত্রায় ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন। তারা এরজন্য আতঙ্কের চেয়ে প্রস্তুতি ও সতর্কতার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
নাটোরে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত
নাটোর জেলা সংবাদদাতা : নাটোরে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮ টার সময় মৃদু ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এই সময় ভয় পেয়ে অনেককেই বাড়ি এবং দোকানের বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। শিশু এবং বৃদ্ধরা আতঙ্ক গ্রস্ত হয়ে পড়ে।
আলাইপুর অধিবাসি সোহেল জানান, তিনি নিজ বাড়িতে সেই সময় বাড়িতে চেয়ারে বসে কাজ করছিলেন। এমন সময় টেবিল-চেয়ার এবং আসবাবপত্র মৃদু কেঁপে ওঠে। তখন ঘড়িতে সময় দেখেছিলেন রাত সোয়া ৮টা। কিন্তু যারা রাস্তায় হাঁটা অবস্থায় বা গাড়িতে ছিলেন তারা কোন রকম ভূমিকম্প টের পাননি। অনেকেই মুঠোফোনে এই ভূমিকম্পের কথা এই প্রতিবেদককে জানান। তবে কোথাও কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর জানা যায় নি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ভূমিকম্প

১৪ মার্চ, ২০২০
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন