Inqilab Logo

বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪ কার্তিক ১৪২৮, ১২ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ছাড়াই শতবর্ষী গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩১ জানুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত শতবর্ষী গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত অবৈধ ছিল বলে জানিয়েছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ছাড়াই সড়ক বিভাগ গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। কমিটির পক্ষ থেকে শতবর্ষী গাছগুলো রেখেই সড়ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি আগামীতে গাছ বাঁচিয়ে সকল উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটি সদস্য মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, নবী নেওয়াজ ও মো. ইয়াসিন আলী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, শতবর্ষী গাছগুলো কাটার বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ নিয়মানুযায়ী পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নেয়নি। এমনকি বনবিভাগের মতামতও নেয়নি। ফলে ওই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। আদালতের আদেশে ওই গাছ কাটা স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গাছগুলো কাটা যাবে না। গাছ রেখেই সড়ক সম্প্রসারণ করতে হবে।
দেশের বিভিন্ন বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সভাপতি বলেন, একটি গাছের বয়স শত বছর হয়ে গেলে সেখানে একটি ইকো সিস্টেম দাঁড়িয়ে যায়। গাছটি কাটা হলে পুরো সিস্টেমের উপর আঘাত পড়ে। যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই যে কোনো উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশের কথা বিবেচনায় নিতে হবে। গাছ রেখেই উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে স¤প্রতি সড়ক বিভাগ ওই সড়কের শতবর্ষী গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের পরই গাছ রক্ষায় আন্দোলন শুরু করে পরিবেশবাদীরা। আন্দোলনে নামেন স্থানীয়রা। এরপর উচ্চ আদালত ওই গাছ কাটার উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করে। সর্বশেষ সংসদীয় কমিটি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের সুপারিশ করল। জ্বালানিতে ধ্বংস হচ্ছে কক্সবাজারের বন : গত আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে কক্সবাজার অঞ্চলের ৪০০ কোটি টাকার বনজ সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বনের গাছ কেটে জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহারের কারণে এই ক্ষতি হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে। আর পরিবেশগত ক্ষতি কয়েক হাজার কোটি টাকা। কারণ এই সময়ে পাহাড়, জলাশয়, সমুদ্রসৈকতসহ পরিবেশের অন্যান্য খাতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। কমিটির পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের বিকল্প জ¦ালানি সরবরাহের কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জ¦ালানির কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রাকৃতিক বন থেকে তারা জ¦ালানি সংগ্রহ করছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। টেকনাফ রুটের গাছগুলো উজাড় হয়ে যাচ্ছে। বন অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী এপর্যন্ত শুধু বনের ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বনের পাশাপাশি পরিবেশের অন্যান্য খাতেও ক্ষতি হচ্ছে। পরিবেশের ক্ষতির হিসাব কয়েক হাজার কোটি টাকা হবে বলে তিনি জানান।
বাঘের সংখ্যা উদ্বেগজনক : কমিটির বৈঠকে বাঘের সংখ্যা কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে একের পর এক পিটিয়ে বাঘ হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাঘ রক্ষার পাশাপাশি বাঘের বংশ বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। বাঘের বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করে মতামত গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে বোটানিক্যাল গার্ডেন নির্মাণ প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ