Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ সফর ১৪৪০ হিজরী

মুখে মুখে খালেদা জিয়া

| প্রকাশের সময় : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

স্টালিন সরকার : ‘কারাগার হলো রাজনীতিকদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়’ এই প্রবাদবাক্য দেশের কোন নেতার জীবনে কেমন প্রভাব ফেলেছে সে হিসেব অজানা হলেও ‘কারাগার’ যে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আলোকিত করছে সেটা বোঝা যাচ্ছে। গত কয়েক বছর বিশ্বরাজনীতির খাতা থেকে অনেক দূরে থাকলেও কারাগারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খালেদা জিয়ার নাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোর গুরুত্বপূর্ণ খবর হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন; কেউ পরিস্থিতি জানতে চান কেউবা ঘটনার ওপর রাখছেন তিক্ষè দৃষ্টি। গোটা বিশ্বের দৃষ্টি যেন ঢাকার দিকে বন্দী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর। জাতিসংঘ বেগম জিয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের প্রতি সম্মান দেখানোর আহবান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে মামলা পর্যবেক্ষণ করছে। ভারত খালেদা জিয়ার কারাবরণ শতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ঢাকায় কর্মরত প্রভাবশালী দেশগুলোর কূটনীতিকরা নড়েচড়ে উঠেছেন। অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা যুক্তরাজ্য ঢাকায় কর্মরত নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ‘বন্দী খালেদা জিয়ার’ ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া রুপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্রই একই অবস্থা। সবার মুখে মুখে খালেদা জিয়ার নাম।
সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ হলো নির্বাচনের বছর। দেশ বিদেশে তথা সর্বমহল চায় সব দলের অংশগ্রহণে হোক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর যারা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং যারা শুধু দেশের সঙ্গে দেশের সম্পর্ক রাখার স্বার্থে সম্পর্ক রেখেছেন তারাও চায় সবার অংশগ্রহণে ভোট হোক। নির্বাচন কমিশন সবার অংশগ্রহণে নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করে অগ্রসর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ঘোষণা দিয়েছেন চলতি বছরের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। সবার প্রত্যাশা সব দলকে নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগ দিতে হবে; এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারেন সে জন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে নির্বাচন। কিন্তু সে প্রত্যাশায় যেন গুড়েবালি।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। অথচ নির্বাচনের বছর তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছর কারাদন্ড হয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল যখন সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের ব্যাপারে তৎপর; প্রধান নির্বাচন কমিশনার যখন ‘বিএনপি ছাড়া অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়’ বলছেন; তখন আইনি মারপ্যাঁচে বেগম জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনিশ্চয়তা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কারাদন্দের কারণে বেগম জিয়া ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন; আবার প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নাও পেতে পারেন’ আদালতের এমন দুই ধরনের রায়ই রয়েছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা অবশ্য বলছেন আদালত যদি নিজস্ব নিয়মে চলে; সরকার প্রভাবিত না করেন তাহলে বেগম জিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়ায় কোনো সমস্যা হবে না। তবে অনেকেই বলছেন ‘সরকারের হাত যেহেতু আইনের হাতের চেয়ে লম্বা’ এবং নির্বাচন কমিশন সরকারের উপর নির্ভরশীল; সেহেতু এটা নির্ভর করে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। সামনে কি হবে বলা মুশকিল; এবং দুর্নীতি দায়ে অভিযুক্ত হয়ে কারাবন্দী হলেও বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ইমেজ যে দেশবাসীর কাছে উজ্বল থেকে আরো উজ্বল হচ্ছে বাতাসের গুঞ্জনই সে ইংগিত দিচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে নেয়ার পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা বেজায় খুশি। তারা এমন সব মন্তব্য করছেন-বক্তব্য দিচ্ছেন যে বেগম জিয়া নির্বাচনে অযোগ্য হলে তারা যেন স্বর্গ জয় করে ফেলবেন। প্রশ্ন হলো বেগম জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না সেটা এতো দ্রæত নিশ্চিত হলেন কিভাবে? বাস্তবতা কি বলে? বর্তমান সরকারে মন্ত্রীত্ব করছেন তিনজন মন্ত্রী সর্বচ্চো আদালতের সাজাপ্রাপ্ত। একজনের ১৩ বছর সশ্রম কারাদন্ড হয়েছে। অন্য দুই জনের কারাদন্ড ও অর্থ দন্ড হয়েছে। দুই জন এমপি কারাদন্ড হয়েছে। দন্ড নিয়েই তারা কেউ মন্ত্রীত্ব করছেন; কেউ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এসব নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যপক আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্ক হচ্ছে।
বেগম জিয়ার কারাদন্ড নিয়ে দেশের মানুষ কি ভাবছে? প্রথমেই একটু নজর দেয়া যাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে। বিজ্ঞানের বদৌলতে বর্তমান সময় ফেসবুক, বøগ, টুইটার এবং পাঠক মতামত জনমত গঠনে শক্তিশালী ভুমিকা পালন করছে। সেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিকে তাকালে দেখা যায় বেগম জিয়ার কারাবন্দী এবং ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ মামলার রায়ে ৫ বছরের কারাদন্ড নিয়ে তর্ক-বিতর্কের ঝড় বইছে। সাধারণ মানুষ দুর্নীতির মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার দন্ড নিজেদের মতো করেই মূল্যায়ন করছেন বক্তব্য দিচ্ছেন। এই বক্তব্যগুলোর মধ্যে অধিকাংশ মতই হলো বেগম জিয়ার দন্ড তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার চেষ্টায় করা হয়েছে। যারা মামলার রায়কে স্বাগত জানান, তারাও অভিমত দেন- হলমার্ক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের বিচার না করে মাত্র দুই কোটি টাকা দুর্নীতির বিচারের প্রতি অতি উৎসাহ প্রশ্নের জন্মই দেয়। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন রেন্টাল-কুইক রেন্টাল বিদ্যুতের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে যাতে কেউ মামলা করতে না পারেন সে জন্য জাতীয় সংসদে ইনডিমিনেটি বিল পাস করা হয়েছে। দেশের উন্নয়নের নামে মেগা মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে সেগুলো বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপন এবং দফায় দফায় ব্যয় বৃদ্ধি কি দুর্নীতি নয়? খালেদা জিয়ার কারাদন্ডে যে মন্ত্রীরা উৎফুল্লা তারা আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখেন না কেন? ‘এক মাঘে শীত যায় না’ প্রবাদবাক্যটি ক্ষমতাসীনদের কেউ কেউ স্মরণ করে দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
টিভির টকশোগুলোতে কি আলোচনা হচ্ছে? দেশের অধিকাংশ টিভি মিডিয়া সরকারের তল্পিবাহক হওয়ায় টকশোতে সরকারি দল অনুগত ব্যাক্তিদের বেশি আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীক কারণে দর্শক ধরে রাখার কৌশল হিসেবে ‘নিরপেক্ষ চাদর পড়তে’ হাতে গোনা কয়েকজন ভিন্ন মতাবলম্বীকে টকশো’য় ডাকা হয়। কিন্তু অধিকাংশ টকশোর সঞ্চালক ‘তল্পীবাহক’ হওয়ায় লাইভ টকশোতেই সরকারি দলের গুনগান ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির সমালোচনার প্রতি আলোচকদের প্রল্ব্ধু করেন। তার মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার দন্ডের পক্ষ্যে সাফাই গাইলেও বড় বড় দুর্নীতিগুলোর বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। টিভির হরেক কিসিমের আলোচকদের কথায় যে চিত্র উঠে আসছে; তাহলো ‘মুক্ত খালেদা জিয়ার’ চেয়ে ‘বন্দী খালেদা জিয়া’ অনেক বেশি শক্তিশালী। খালেদা জিয়া হয়তো জামিনে মুক্ত হবেন। কিন্তু নির্বাচনের বছরে বিএনপির অভ্যন্তরে যে সব বিরোধ, নেতায় নেতায় দ্ব›দ্ব ছিল সেগুলোর নিরসন হবে। সারাদেশে বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন। কিন্তু নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতি আতঙ্ক ছিল। সেটা কেটে যাবে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হবে। এই ঘটনায় যারা বিএনপিকে সমর্থন করেননি তাদের অনেকেই বেগম জিয়ার প্রতি সহানুভুতিশীল হয়ে দলটির পক্ষ্যে অবস্থান নেবেন। তাছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় সরকারে ‘ইচ্ছাশক্তি’ নিয়ে নিজেদের মতো করে বিশ্লেষন করবেন। কারণ দেশে হাজার হাজার কোটি দুর্নীতির মামলায় যারা নীরব; তাদের মুখে দুর্নীতি বিরোধী ছবক বেমানান বটে।
ওদিকে বেগম জিয়ার ৫ বছর কারাদন্ড এবং পুরান ঢাকার কারাগারে নেয়ার পর উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, কানাডা ও অষ্ট্রেলিয়া তাদের বাংলাদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের নির্দেশনা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মুখপাত্র এ প্রতিনিধির কাছে প্রেরিত এক লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের প্রতি সম্মান দেখানোর আহবান জানিয়েছেন। লিখিত প্রতিক্রিয়ায় বলা হয় বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ডেরর বিষয়টি আমরা সম্যক অবগত আছি। মামলার প্রক্রিয়াটি যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গতকাল নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের বিষয়টি ছিল সাংবাদিকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। জাতিসংঘের ডেপুটি স্পোকসপার্সন ফারহান হক লিখিতভাবে জানান, খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়টি জাতিসংঘ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ বিষয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ হয়েছে কি না তা জাতিসংঘ খতিয়ে দেখছে। প্রতিবেশি দেশ ভারত দুর্নীতির মামলায় বেগম জিয়ার কারাদন্ড বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। দিল্লী থেকে প্রকাশিত দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’য় বলা হয় বেগম জিয়ার কারাদন্ডের পর প্রতিবেশী এ দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না ভারত। এ দেশটিতে উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডে চীন অনেকখানি এগিয়ে গেছে। এ বিষয়টি পুরোপুরি খুব ভালভাবে জানে ভারত। তা সত্তে¡ও ভারত এমন অবস্থান নিয়েছে। খালেদা জিয়ার কারাদন্ড ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ঘটনাকে যে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে তা বোঝা যায় খররের শিরোনাম ও গুরুত্ব দেখে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি ও সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট, ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি, বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি, কাতারভিত্তিক আল জাজিরা, পাকিস্তানের জিও টিভি, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল.ইন, টাইম অব ইন্ডিয়া, দ্য ইকোনোমিষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে খবরটি প্রকাশ করেছে।
বেগম খালেদা জিয়ার কারাদন্ডের খবরটি আন্তর্জাতিক মহল এতো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে যে গতকাল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিদেশে মিডিয়াগুলোর সাংবাদিকদের জন্য আলাদা সংবাদ সম্মেলন করতে হয়েছে। দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি, ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির, মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি, জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে, ভারতীয় গণমাধ্যম জি মিডিয়াসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএনপি জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলার আদোপান্ত তুলে ধরেন। পাশাপাশি এই রায় যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসারমূলক এবং বেগম খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত রাখার নীল নকশার অংশ সে ব্যাপারে তথ্যাদি তুলে ধরেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার কারাদন্ডে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিএনপি দুই দিনের কর্মসূচি পালন করছে। শুধু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের ১৪ দলীয় জোট নেতারা ছাড়া প্রায় সব দলই উদ্বেগ জানাচ্ছেন প্রতিবাদ করেছেন। বিকল্পধারা সভাপতি একিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্য আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, জনমনে সন্দেহ দৃঢ় হচ্ছে জনগণের ভোটে নির্বাচিত তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভবিষ্যৎ আইনী পদক্ষেপ (আপিল, জামিন ইত্যাদি) সরকারি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রভাবিত হবে কিনা। এ রকম কিছু হলে তাঁর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হবে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতার কারণে নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে সেটার জন্য সরকারই দায়ী থাকবে। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয় জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহŸায়ক হামিদুল হক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, খালেদা জিয়ার রায়ের মধ্য দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা দুর্নীতিমুক্ত দেশ চাই এবং রাজনৈতিক ও দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে সকল দুর্নীতিবাজের শাস্তি চাই। বর্তমানে অবাধে দুর্নীতি লুটপাট চলছে। শুধু ২/৪ কোটি টাকা নয়, ক্ষমতার ছত্রছায়ায় শত শত ও হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট এবং বিদেশে পাচারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকায় অপরাধীরা দুর্নীতির সাজা থেকে দায়মুক্তি পাচ্ছে। নানা কারণে জনগণ মনে করছে যে, খালেদা জিয়ার বিচার কার্যক্রমের পেছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি কাজ করেছে। জনগণের মন থেকে সে সংশয় দূর করা এখন সরকারেরই দায়িত্ব। গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায় দেশের রাজনীতি এবং আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্থ হবে। দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিচার হয় না; অথচ সামান্য ইস্যু বিচার নিয়ে হৈচৈ হয়; তাতেই বোঝা যায় খালেদা জিয়ার মামলায় কি হয়েছে। বিচার যত স্বচ্ছই হোক মানুষ মনে করছে বিচারের রায় প্রভাবিত। মানুষের এই বিশ্বাস ভাংতে যারা ব্যাংকের হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করেছেন তাদের ছায়া দিয়ে রাখার বদলে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়াররম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, বেগম জিয়ার মামলায় যে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে তার প্রমাণ আওয়ামী লীগ নেতাদের কথাবার্তায় বোঝা যায়। দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন নেত্রী বেগম জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার নীল নকশায় কারাদন্ড দিয়ে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার খায়েশ সরকারের পুরণ হবে না। আমরা বেগম জিয়াকে দ্রæত মুক্তি দেয়ার দাবি জানাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলছেন, খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কিনা তার চাইতেও বড় প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচনের সময় তিনি জেলের ভেতরে থাকবেন না মুক্ত থাকবেন? খালেদা জিয়া যদি নির্বাচনে অংশ নিতে নাও পারেন, তবুও তিনি যদি জামিনে থাকেন এবং প্রচারাভিযানে অংশ নিতে পারেন; তাহলে এই কারাদন্ড বিএনপির জন্য নেতিবাচক না হয়ে বরং ইতিবাচক হতে পারে। আরো অসংক্য রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পেশাজীবী বেগম জিয়ার কারাদন্ডে আগামী নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত করতে তুলতে পারে বলে মন্তব্য করছেন। বেগম জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায় প্রতিবাদ হচ্ছে। নির্বাচনের বছর হওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। যা বেগম জিয়ার রাজনীতির ক্যরিয়ার আরো সমৃদ্ধ করবে।



 

Show all comments
  • Saiful ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:৩৬ এএম says : 0
    ধন্যবাদ সঠিক বিষয় প্রচার করার জন্য
    Total Reply(0) Reply
  • Mosharaf Hossion ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১:২৮ এএম says : 1
    তিনি গণ মানুষের নেতা .................
    Total Reply(0) Reply
  • ফয়সাল ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১:৩১ এএম says : 1
    আসুন আমরা সবাই তার জন্য বেশি বেশি দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ রাখেন।
    Total Reply(2) Reply
    • Nasir Uddin ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১:৩২ এএম says : 1
      Amin
    • Sohel ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১:১৩ পিএম says : 1
      Ameen
  • রাসেল ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১:৩৩ এএম says : 1
    বিএনপিকে মাঠে আরো কৌশলী ও সক্রিয় হতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • গনতন্ত্র ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৩:৩৩ এএম says : 1
    স্বাধীনতার পর বংগ বন্ধুর পরে খালেদা জিয়া জনগনের অন্তর জয় করে নিলেন। ধন্যবাদ, এ সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। ইতিহাসের পাতায় বিজ্ঞ রাজনিতাবীদ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে নিলেন।
    Total Reply(0) Reply
  • kamal hosen ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৫:৫২ এএম says : 7
    আইন সবার জন্য সমান
    Total Reply(0) Reply
  • Abdullah ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৮:৫৮ পিএম says : 0
    Thanks a lot for writing a good article May Allah free Begum khaleda Zia from jail as soon as possible
    Total Reply(0) Reply
  • MD josim uddin ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১০:৫৮ এএম says : 1
    Jazakallah
    Total Reply(0) Reply
  • saifullah rakib ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১১:১১ এএম says : 2
    যদি বিএনপি আরো আগে কঠোর আন্দলন করত তাহলে এমন হতনা।
    Total Reply(0) Reply
  • manik raihan ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:৩৪ পিএম says : 0
    বিএনপিকে সরকারের ছোট বড় সব দুর্নীতির বিষয়গুলো পত্রিকা/সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে তারা অনেক পিছিয়ে।
    Total Reply(0) Reply
  • বুলবুল আহমেদ ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৩:৪০ পিএম says : 0
    ধন্যব1দ ইনকিলাব সত্য তুলে ধরার জন্য
    Total Reply(0) Reply
  • Shahidul Haque ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৩:৪১ পিএম says : 0
    এখন বি,এন,পি আনেক শক্তিশালী,
    Total Reply(0) Reply
  • AYUBUR RAHMAN ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৫:৩৭ পিএম says : 0
    THANKS THE DAILY INQILAB
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ জয়নাল আবেদীন ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১১:০৮ পিএম says : 0
    ইনকিলাব কে ধন্যবাদ সত্য কথা বলার জন্য
    Total Reply(0) Reply
  • TINKU JOY ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:৪০ এএম says : 0
    ধন্যব1দ ইনকিলাব সত্য তুলে ধরার জন্য ও সঠিক বিষয় প্রচার করার জন্য
    Total Reply(0) Reply
  • Menon ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১:১৬ এএম says : 0
    Thanks for right news.
    Total Reply(0) Reply
  • xyz ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৮:১৬ এএম says : 4
    বিএন​পি ভে​​​ঙ্গে টুকরা টুকরা হ​য়ে যাক ৷
    Total Reply(0) Reply
  • hm mohammadullah ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৯:৫১ এএম says : 0
    bnp onek jono pirio dol ja k nirjaton kora hoe tar proti manuser agroho bare ata bujte hobe
    Total Reply(0) Reply
  • abuhanifa ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ২:০৭ এএম says : 0
    yes
    Total Reply(0) Reply
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৫:০৫ পিএম says : 0
    এখানে আপনি আপনার মন্তব্য করতে পারেন সরকার জনগন ভয় পায়
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর