Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮, ০২ ভাদ্র ১৪২৫, ০৫ যিলহজ ১৪৩৯ হিজরী‌

নগর পরিকল্পনায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

বিআইপি ও নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের মতবিনিময় সভায় বক্তারা

| প্রকাশের সময় : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে যেসব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, হচ্ছে সেগুলো বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সাফল্য নিশ্চিত করতে প্রকল্পের মেয়াদকালে নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ওপরও জোর দিয়েছেন তারা। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আয়োজিত নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় সাংবাদিকতার ভূমিকা শীর্ষক সংলাপে এ পরামর্শ দেন বক্তারা।
বিআইপির সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মোহাম্মদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিআইপির সাবেক সভাপতি প্রফেসর গোলাম রহমান, নগর পরিকল্পনাবিদ প্রফেসর ড. আখতার মাহমুদ, বিআইপির সহ সভাপতি-২ নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক তৌফিক আলী।
ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সকল প্রকল্প গণমুখী হওয়া জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রাজধানীর উন্নয়নে অনেক কাজ হচ্ছে কিন্তু সেই কাজ কতটুক পরিকল্পনা মাফিক হচ্ছে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানের বক্তারা।
প্রফেসর ড. আখতার মাহমুদ বলেন, নগর উন্নয়নকে কেন্দ্র করে আমাদের অনেক প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্প গ্রহণে যতটুক না সমস্যা তার চাইতে বেশি সমস্যা বাস্তবায়নে। এজন্য প্রতিটি প্রকল্পের মেয়াদকালের মধ্যে একটি অডিট বা নিরীক্ষা প্রতিবেদন হওয়া উচিত।
নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন বলেন, ডিটেইল এরিয়া প্যান (ড্যাপ) কিসের ভিত্তিতে করা হয়েছে সেটাই আমাদের কাছে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। বিভিন্ন সময় রাজধানীকে কেন্দ্র করে যেসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে সেগুলোতে কতটুক অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নিয়ে করা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সাংবাদিক তৌফিক আলী বিশ্বব্যাংকের তথ্য দিয়ে বলেন, কোন কিছু ধ্বংস না করেই ঢাকা শহরে পৌনে ৩ কোটি মানুষের বাসস্থান হতে পারে, যদি ড্যাপ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা যায়। সেটি করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে।
আরেক পরিসংখ্যানে তিনি বলেন, আরবান সেন্টারে প্রতি বছর ৫৪ মিলিয়ন লোক বসবাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই হারে বৃদ্ধিপেতে থাকলে আগামী তিন দশকে এর দ্বিগুণ লোকে আরবান অঞ্চলে বসবাস করবে। কাজেই আমাদের পরিকল্পনাগুলো এসব বাস্তবতার নিরিখে হওয়া উচিত।
এ সময় নগর ও সেবাখাতের রির্পোটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, কাজের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা, উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন ত্রæটি তুলে ধরেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে রাজধানীতে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি, শহরের বিকেন্দ্রীকরণসহ নানা পরামর্শ দিয়ে সাংবাদিকরা বলেন, তুরাগ, বালু, বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর পানির মান ঠিক না করে এখন অর্ধশত কিলোমিটার দূর থেকে রাজধানীতে পানি আনতে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। অথচ ওই টাকা দিয়ে ঢাকার আশপাশের নদীর পানি ভালো করে নগরীতে সরবরাহ করা সম্ভব ছিল। এতে রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোও বাঁচত। অথচ নদীগুলোকে ধ্বংস করে মেঘনা ও পদ্মা থেকে পানি আনার প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে।
রাজধানীর জলাশয়-খালগুলোকে একের পর এক ধ্বংস করা হচ্ছে। অনৈতিকভাবে একের পর এক প্রভাবশালীদের আবাসন কোম্পানির অনুমোদন দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অনুষ্ঠানে বিআইপি ও নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের পক্ষ থেকে নগরবিষয়ক প্রতিবেদনের ওপর কয়েকটি ক্যাটাগরিতে সেরা রিপোর্টের পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়। প্রতি বছরের ৮ নভেম্বর নগর পরিকল্পনা দিবসে এ পুরস্কার দেয়া হবে বলে জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পাল, সহ-সভাপতি আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক মতিন আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদা ডলি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, দফতর সম্পাদক কামরুন্নাহার শোভা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফয়সাল খান এবং বিআইপির সহসভাপতি পরিকল্পনাবিদ ফজলে রেজা সুমন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জামাল আহমেদ, ফয়জুল্লাহ ভূঁইয়া, সাজ্জাদ হোসেন, মাসুদ রানা, হাসান ইমন, সাজিদা ইসলাম পারুল, সাইদুল ইসলাম, সোহেল মামুন, রাশেদ আহমেদ প্রমুখ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ