Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ০৪ ভাদ্র ১৪২৫, ০৭ যিলহজ ১৪৩৯ হিজরী‌

চীনকে মোকাবিলায় পূর্ব এশিয়ায় মেরিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

| প্রকাশের সময় : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা মোকাবিলায় মেরিন সেনার সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা কমিয়ে পূর্ব এশিয়ায় মেরিন সেনাদের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর মেরিন সেনারা যেকোনও পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকে। বাহিনীটি সংকটের সময় নিজস্ব অস্ত্রের সাহায্যে যেকোনও ধরনের যুদ্ধ শুরু করতে সক্ষম। অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যেকোনও অভিযান পরিচালনার জন্য এই বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে।
মেরিন সেনাদের প্রতিটি ইউনিটে বিমান ও পদাতিক বাহিনীর প্রায় ২ হাজার ২০০ সদস্য থাকে। এসব সেনারা সাধারণত রণতরীতে অবস্থান করে। সেখানে তাদের জন্য সব সময় যুদ্ধ বিমান প্রস্তুত রাখা হয়।
পেন্টাগনের মুখপাত্র মেরিন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ক্রিস্টোফার লোগান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে কীভাবে আমাদের সেনাদের মোতায়েন করা যায় সেই বিষয়টি মূল্যায়ন করে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা বিভাগ। কিন্তু কোনও চলমান পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা করা ঠিক হবে না।’
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার ভ্রমণ ও দেশটির মিত্রদের প্রতি হুমকি নিরসনে প্রতিশ্রুতি প্রদানের পর থেকে এশিয়ায় মার্কিন মেরিন সেনা সংখ্যা বাড়ানো বিষয়টি নিয়ে প্রথম আলোচনা শুরু হয়। অস্ট্রেলিয়া সফরে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান মেরিন কর্পোরাল জেনারেল জোসেফ ডুনফোর্ড বলেন, সরাসরি উপস্থিত থাকার চেয়ে মিত্রদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় আর কোনও শক্তিশালী উপায় নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে সে দেশেরই অনেকে সমালোচনা করছেন। তারা বলছেন, এই উদ্যোগ চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। মার্কিন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড্যানিয়েল ডেভিস বলেন, এই পদক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার সরাসরি উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণ হতে পারে। তারা ভাবতে আমরা সত্যিকার অর্থে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ’
ড্যানিয়েল ডেভিস চাকরিরত অবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এখন ওয়াশিংটনের থিংক ট্যাঙ্ক ডিফেন্স প্রায়োরিটিস’র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা সামরিক শক্তি বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় সেখানে বাহিনী পাঠানোকে ভুল বলে মনে করে ডেভিস। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের মাথার উপরে হাতুড়ি ধরে রেখে কোনও সমস্যার কূটনীতিক সমাধান সম্ভব নয়।
তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিকে সমর্থন করেন ডেভিস। তিনি বলেন, এটা অর্থ ও জীবনের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। এখানে আমাদের জন্য অর্জনের কিছুই নেই। তাই তাদেরকে (মার্কিন সেনা) দেশে ফিরিয়ে আনা দরকার। কিন্তু এশিয়ায় পাঠানোর দরকার নেই। সেখানে যুদ্ধ হলে তাদের যথাযথভাবে ব্যবহার করা যাবে কিন্তু তা আরও বেশি বিপর্যয়কর হয়ে উঠবে।
আরেক সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা টোড রোসেনবøাম এশিয়ায় আরও মার্কিন সেনা মোতায়েনের পক্ষে কথা বলেছেন। তার মতে এই অঞ্চলে চীনের সামরিক আধিপত্য মোকাবিলার জন্য সেখানে সেনা পাঠানোর উদ্যোগ যথাযথ। ওবামা প্রশাসনের সময় পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা রোসেনবøাম বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় শীতকালীন অলিম্পিকের সময় সেনা পাঠানোর বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু অলিম্পিক শেষে সেখানে সেনা পাঠানো হলে তাতে তেমন কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে না।’
পূর্ব এশিয়ায় মোতায়েন করা মার্কিন সেনাদের মধ্যে জাপানেই রয়েছে ৫০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য। দক্ষিণ কোরিয়ায় আরও ২৮ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। এছাড়া গুয়াম দ্বীপে আরও ৭ হাজার সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই বিমান ও নৌ-বাহিনীর সদস্য।
গত ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাতে চীন ও রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে উত্তর কোরিয়া ও ইরানের সম্পর্কেও সতর্কতা কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে নিরস্ত্র করতে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে নতুন নিষেধাজ্ঞা অরোপ করে জাতিসংঘ। ওই নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল আমদানি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে ফেলা হয়। এরপরই দক্ষিণ কোরিয়ায় শুরু হতে যাওয়া শীতকালীন অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখায় উত্তর কোরিয়া। এই পরিস্থিতির মধ্যেই পূর্ব এশিয়ায় চীন ও উত্তর কোরিয়াকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসলো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর