Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ০৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী

ইয়ামাহা মোটরসাইকেল অবৈধ আমদানিতে বিপাকে গ্রাহক

অপরাধমূলক কাজে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে , ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ - বিআরটিএ

| প্রকাশের সময় : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : জনপ্রিয় মোটরসাইকেল ব্রান্ড ইয়ামাহা। অবৈধভাবে আমদানি করে এই মোটরসাইকেল ব্রান্ড বাজারজাত করছে একটি সিন্ডিকেট। আর এই অবৈধ মোটরসাইকেল ক্রয় করে গ্রাহক একদিকে যেমন সঠিক সার্ভিস পাচ্ছেন না। তেমনি রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়াতেও নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। অপরদিকে একটি গোষ্ঠী অবৈধ এই মোটরসাইকেল ক্রয় অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করছে। এছাড়া অবৈধ আমদানিকারকরা কম মূল্য দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি ভোক্তাদের প্রতারিত করছে।
সূত্র মতে, দেশে ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল আমদানি ও বাজারজাত করণের জন্য বৈধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষনা করেছে আদালত এসিআই লিমিটেডকে। অপরদিকে পুশ ইন্টারন্যাশনাল, নিউ সোনারগাঁ মোটরস, আরএন এন্টারপ্রাইজ, পোলারিস টেক লিমিটেড, পাওয়ারপ্যাক ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইয়ামাহা মোটরসাইকেল আমদানি ও বিপননের ক্ষেত্রে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠাননের মোটরসাইকেল ক্রয় করে সাধারণ গ্রাহকরা একদিকে বিপাকে পড়ছেন। অন্যদিকে অপরাধীরা এই মোটরসাইকেল অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। যদিও আদালতের এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ও পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহন করছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, অবৈধ আমদানিকারকদের মোটরসাইকেল ক্রয় করে তাদেরকে রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া, আইনী জটিলতার মুখোমুখিসহ নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হতে হচ্ছে। জানা গেছে, অবৈধভাবে দেশে আসা মোটরসাইকেল নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আবার ক্রেতারা কেনার পর সার্ভিস নেবার সময় সঠিক সময়ে সঠিক সার্ভিস পাচ্ছে না। এমনকি প্রচলিত মডেল না হবার কারনে সঠিক যন্ত্রাংশও পাওয়া যায় না। বৈধ ডিলাররা তাদের সার্ভিস পয়েন্টে আসলে গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিন নাম্বার মিলিয়ে দেখে তারপর সার্ভিস দিয়ে থাকেন। বৈধ আমদানিকারকরা সঠিক মূল্য প্রদর্শন করে দেড়শ শতাংশের বেশি শুল্ক প্রদান করেন। কিন্তু অবৈধ আমদানিকারকরা কম মূল্য দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাকি দিয়ে ভোক্তাদের প্রতারিত করে। সাম্প্রতিককালে এসিআই লিমিটেডের প্রচলিত মডেলের বাইরে এফজেডএস এফআই ভি ২.০ এবং ফেজার এফআই ভি ২.০ মডেলের মোটরসাইকেল দেশের বাজারে বিপনন করা হচ্ছে। এসব মডেলের মোটরসাইকেল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমদানি করছে, যারা বৈধ আমদানিকারক নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসিআই লিমিটেড আদালতে আবেদন করেন।
প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মেসার্স এসিআই মোটরস লিমিটেড থেকে ইয়ামাহা মটর প্রাইভেট কোম্পানির তৈরি ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলে বৈধ আমদানিকারক এসিআই মটর লিমিটেড ব্যতিরেকে সকল অবৈধ আমদানিকারকদের আমদানি করা ইয়ামাহা মটর সাইকেল বাজারজাত, রেজিষ্ট্রেশন, মেকার্স কোড ও টাইপ অনুমোদন বাতিল ঘোষনা করে আদালত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আদালতের এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিআরটিএর করণীয় বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মো. নূরুল ইসলাম সাক্ষরিত একটি চিঠিতে জানানো হয়েছে। বিআরটিএ’র সচিব মুহাম্মদ শওকত আলী বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে বিআরটিএ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে। পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করার কথা বলেন তিনি। পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রান্সপোর্ট) একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, অবৈধ মোটরসাইকেল আমদানি বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহন করবে। কেননা অবৈধ আমদানি করা মোটরসাইকেল অপরাধমূলক কাজে বেশি ব্যবহার করা হয়। আর পরবর্তীতে অপরাধমূলক কার্যক্রম হলে চিহ্নিত করতে অসুবিধায় পড়তে হয়। তবে আদালত আমদানি ও বিপননে নিষেধাজ্ঞা দিলেও রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে পৃথক কোন কিছু বলেনি। তারপরও যেহেতু বিষয়টি আদালত নির্দেশনা দিয়েছে তাই আমরা এ বিষয়ে সবোর্চ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। জানা গেছে, আমদানি করা মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করতে হলে বিল আব এন্ট্রি এ্যাসেসমেন্টে নোটিশ, গেট পাশ, সিকেডি অনুমোদন, কমার্শিয়াল অনুমোদন ও এলসি কপি সংযুক্ত করতে হয়। ব্যক্তি মালিকানাধিন হলে এর পাশাপাশি ভোটার আইডি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ঠিকানা প্রমানের জন্য বিদ্যুৎ অথবা গ্যাস বিলের কপি। আমদানিকৃত মোটরসাইকেলে রেজিষ্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কাষ্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে চেসিস নাম্বারসহ অনান্য বিষয়গুলো চেক করা হয়। এতে অনেক সময় অবৈধ আমদানিকারকরা ধরা পড়েন। এছাড়া অবৈধভাবে মোটরসাইকেল আমদানির মাধ্যমে দেশ যেমন রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করছন সংশ্লিষ্টরা।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।