Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১ আশ্বিন ১৪২৭, ০৮ সফর ১৪৪২ হিজরী

হাটহাজারী ফরহাদাবাদ সেইফ হোমের সমস্যা সমাধান এখন সময়ের দাবি

| প্রকাশের সময় : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

 হাটহাজারী (চট্রগ্রাম) থেকে: ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে মহিলা ও শিশু-কিশোরী হেফজতিদের নিরাপদ আবাসন কেদ্র নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। জনবলের অভাবে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম এই আবাসন কেন্দ্রটি। মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীনদের ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে আবাসন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর বরাবর তাগাদা দেওয়ার পরও এখনো পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেইনি বলে প্রাপ্ত সংবাদে প্রকাশ। 

জানা যায়, হাটহাজারী উপজেলার ১নং ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে ২০০৩ সালের ২১ শে জুন প্রতিষ্ঠত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজ সেবা অধিদপ্তরের অধীনে মহিলা ও শিশু কিশোরী ও হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র সেইফ হোম। এই কেন্দ্রটি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উদ্বোধন করেন। আবাসন কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত লোকবল না থাকায় এই কেন্দ্রটি একেবারে হ য ব র ল অবস্থায় পড়ে আছে। এই আবাসন কেন্দ্রটি ৯ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত হলেও কিন্তু সীমানা প্রাচীর এখনো পর্যন্ত অধিকাংশ অরক্ষিত। হেফাজতীদের বন্দী করে রাখা হয়েছে রুমের ভেতর। একেক হেফাজতি কয়েক মাস ও কয়েক বছর ধরে জীবন কাটছে অন্ধকার জীবনে। সেইফ হোমে নেই কোন মানসিক বিকাশের বিনোদন কেন্দ্র। নেই কোন তাদের ঘুরাফেরার ব্যবস্থা। রাত দিন বন্ধি হয়ে আছে রুমের মধ্যে। এইদিকে হেফাজতিদের উন্নয়নমূলক কাজের প্রশিক্ষণের জন্য বেশ কিছু অর্থ জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা রয়েছে বলে জানা যায়। এই অর্থ যে কোন সময় যে কোন মুহুর্তে চাইলেই এই অর্থ পাওয়া যাবে। কিন্তু সেইফ হোম কর্তৃপক্ষ নানা সমস্যা থাকার পরও জমাকৃত অর্থ নিচ্ছে না। হেফাজতিদের বিনোদন উপভোগ করার জন্য নেই কোন টেলিভিশন। পর্যাপ্ত পরিমানের পুলিশ সদস্য ও আনছার সদস্য নেই। সব মিলে যেন হেফাজতিদের মানবেতার জীবন কাটছে। এই আবাসন কেন্দ্রে ৪৯ হেফাজতি নারী শিশু রয়েছে। তার মধ্যে প্রতিবন্ধী রয়েছে ১৮ জন। এই আবাসন কেন্দ্রে পদবী রয়েছে ৯টি। তার মধ্যে ৫টি পদে জনবল থাকলেও আরো ৪টি পদ শূন্য রয়েছে। এই হেফাজত কেন্দ্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে সীমানা প্রাচীর অরক্ষিত থাকার ফলে বিগত কয়েকদিন আগে ৮ জন হেফাজতি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তবে তার মধ্যে ২/৩ জনকে উদ্ধার করলেও বাকীদের কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এই দিকে মানসিক ভারসম্যহীনদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় সেইফ হোম কর্তৃপক্ষের। তারা রুমের মধ্যে মারামারি করে এক জনের মাথা আরেক জনকে ফাটিয়ে দেওয়ারও নজির রয়েছে। এইসব হেফাজতিদের সুচিকিৎসার জন্য কোন ব্যবস্থাও নেই। গত সপ্তাহে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ফরহাদাবাদ সেইফ হোম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে তিনি হেফাজতিদের নানা সমস্যার কথা গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং হেফাজতিদের বেশ কয়েকটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এই আবাসন কেন্দ্রে বহু আইনজীবি বিহীন হেফাজতি বন্দী রয়েছে। তবে তাদের আইনজীবি নিয়োগের ব্যাপারে জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বস্থ প্রদান করেন। বিশেষ করে সেইফ হোমের হেফাজতিদের সার্বোক্ষনিক খোজ খবর নেওয়ার জন্য উপ তত্ত¡াবধায়কের স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা করা জরুরী বলে মনে করেন সচেতন মহল। যদি উপ তত্ত¡াবধায়কের আবাসন ব্যবস্থা থাকত নিরাপদ হেফাজতিদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটতনা বলে অনেকে মনে করেন। সচেতন মহলের জরুরি বিত্তিতে উপ-তত্ত¡াবধায়কের আবাসন ব্যবস্থা ও পুলিশ এবং আনছার সদস্য বাড়ানোর উপর গুরুত্বারপ করেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হাটহাজারী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ