Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

কোহলিময় এক সিরিজ

| প্রকাশের সময় : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

স্পোর্টস ডেস্ক : এমন নয় যে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ভারতীয় বোলাররা খারাপ করছেন। বলতে গেলে তাদের দায়ীত্বশীল বোলিংয়ের কারণেই তো প্রতিপক্ষ বার বার আটকে গেছে অল্প রানে। যার ফলে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে বেগ পেতে হয়নি একটুও। কিন্তু ব্যাট হাতে সিরিজ জুড়ে বিরাট কোহলি যা করেছেন তা দায়ীত্বের চেয়েও বেশি কিছু বৈকি। যে কারণ সিরিজ জুড়েই ঘুরেফিরে এসেছে একটি নাম- বিরাট কোহলি।
ছয় ম্যাচের সিরিজে তিন সেঞ্চুরিসহ ১৮৬ গড়ে ৫৫৮ রান করেছেন কোহলি! কোন দ্বিপার্শ্বিক সিরিজে যা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল তারই স্বদেশী রোহিত শর্মার দখলে। ২০১৩-১৪ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৯১ রান করেছিলেন রোহিত।
পরশু সেঞ্চুরিয়ানে শেষ ওয়ানডেতে ভারতের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ২০৫ রানের। লক্ষ্য অল্প হওয়ায় কোহলির ব্যাটিং দেখা নিয়ে হয়ত শংশয়ে ছিলেন তার ভক্তরা। কিন্তু দলীয় ১৯ রানে রোহিত আউট হওয়ার পর আবারো ২২ গজকে সেতার বানিয়ে তুললেন মায়বী সুর। যে সুরের মুর্ছনায় দর্শক হয়ে ছিলন শেখর ধাওয়ান ও অজিঙ্কে রাহানেও। ধাওয়ান (৩৪ বলে ১৮)-রাহানে (৫০ বলে ৩৪*) যেখানে রানের জন্য যুদ্ধ করেছেন সেখানে মর্কেল-তাহিরদের উপর যেন রোলার চালনা করেন কোহলি। আট উইকেটের জয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত ছিলেন ৯৬ বলে ১২৯ রান করে। ৮২ বলে ছুঁয়েছিলেন ক্যারিয়ারের ৩৫তম শতক। তখনও কোন ছক্কা ছিল না তার নামের পাশে। একটু বেমানান লাগছে বলেই কিনা তাহিরকে পর পর দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ইনিংসে পূর্ণতা আনেন। ইনিংসে মাধ্যে চারের মার ছিল ১৯টি। যে গতিতে তিনি এগুচ্ছেন তাতে শচীন টেন্ডুলকার ভক্তরা শঙ্কায় পড়তেই পারেন।
ম্যাচ শেষে কোহলি বলেন, ‘পারফরমেন্স দিয়েই অধিনায়ককে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয়। আর তা যদি সফল হয়, সাথে সাথে পুরো দলের সমর্থনও থাকে তবে সেটা সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি।’ কিন্তু পুরো সিরিজ জুড়েই এমন ধারাবাহিকতার রহস্য কি, এমন প্রশ্নের উত্তরে কোহলি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে হয়ত আর খুব বেশী হলে আট থেকে নয় বছর বাকি রয়েছে। একজন ক্রিকেটারের জন্য এটা মোটেই দীর্ঘ কোন ক্যারিয়ার নয়। সে কারনেই আমি সময়টুকু যথার্থভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করি। যতটা সম্ভব অনুশীলনে পরিশ্রম করি, আর সেভাবেই প্রতিটি দিন কাজে লাগাতে চাই।’
বোলারদের কল্যাণে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস ৪৬.৫ ওভারে ২০৪ রানেই গুটিয়ে যায়। ফাস্ট বোলার শারদুল ঠাকুর ৫২ রানে নেন ৪ উইকেট। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামা খায়া জোনদো সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন। চলতি সিরিজে এই নিয়ে চতুর্থ প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫০ কিংবা তার বেশী রান করলেন জোনদো। চোট সমস্যা তো ছিলই সঙ্গে পুরো সিরিজেই স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মত। তাদের জন্য কাজটা আরো কঠিন হয়ে যায় দুই ভারতীয় স্পিনার কুলদ্বীপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহালের কারণে, পুরো সিরিজে দুজনে নেন যথাক্রমে ১৭ ও ১৬টি উইকেট। তবে সিরিজ জুড়ে আলো ছড়ানো কোহলির হাতে উঠেছে তিনটি পুরস্কারইÑ ম্যাচ ও সিরিজের সেরা খেলোয়াড়, সঙ্গে ২৫ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিকে কোন সিরিজ জয়ের ট্রফি তো ছিলই।
১-০তে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হারের পর ৫-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতল ভারত। আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ