Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৫ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

কেউ না এলেও নির্বাচন হবে

গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

| প্রকাশের সময় : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : ‘নির্বাচন হচ্ছে মানুষের অধিকার এবং সাংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে নির্বাচন হবে’ অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এবারও যদি কোনো দল নির্বাচনে না আসে, তাহলে আমাদের কী করার আছে? বহুদলীয় গণতন্ত্রে কোন দল নির্বাচন করবে, কোন দল নির্বাচন করবে না সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। আপনারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে এত কথা বলেন সেই দুর্নীতির দায়ে দন্ডিত নেত্রীকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না? কেউ যদি বলে নির্বাচন করতে দেব না; সেটা তাদের গায়ের জোরের কথা। সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়েই নির্বাচন হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘ইতালি সফর’ উপলক্ষ্যে গতকাল গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, সংবিধানে যেভাবে আছে সেভাবেই নির্বাচন হবে। যারা জনগণের ওপর বিশ্বাস করে তারা নির্বাচন অংশগ্রহণ করবে। বিএনপি গায়ের জোরে বলতে পারে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কারণ তাদের জন্মই হয়েছিল গায়ের জোরে। গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রমূখ। প্রধানমন্ত্রী তাঁর লিখিত বক্তব্যে জাতিসংঘের কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) কার্যক্রম এবং গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় অংশগ্রহণের বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ভাষার মাসে বাহান্নোর ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিএনপির কাছের লোকেরাই মামলা দিয়েছে এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আদালত খালেদা জিয়ার সাজা দিয়েছে, আমরা তো দেইনি। এ কারণে যদি তারা নির্বাচনে না আসেন, আমাদের করার কী আছে! সময়মতো নির্বাচন হবে। ওরা (বিএনপি) ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি, এবারও পারবে না। নির্বাচন ঠেকানোর নামে ২০১৪ সালে তারা (বিএনপি) আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। ৭০টি সরকারি অফিস পুড়িয়েছে। নিরাপত্তা সদস্যদের মেরেছে। গাড়িতে পেট্রোলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে। তারা ২০১৩, ২০১৪,২০১৫ সালে এই সময়ের মধ্যে প্রায় পাঁচ শয়ের মতো মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সাড়ে তিন হাজারেরও বিশ মানুষকে পুড়িয়েছে। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং যাদের জনগণের ভোটের উপর আস্থা আছে, তারা এবার নির্বাচনে আসবে। দেশে এখন বহুদলীয় গণতন্ত্র। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা তো আমি দেই নাই। তত্ত¡াবধায়ক সরকারের দেয়া এই মামলা আদালতে ১০ বছর চলেছে। সেখানে ৮০ বারের বেশি রিট করা হয়েছে এবং সময় নেয়া হয়েছে। জজের প্রতি তিনবার অনাস্থাও দিয়েছে। জজও পরিবর্তন হয়েছে। এতকিছুর পরও তিনি ৪৩ দিন কোর্টে উপস্থিত ছিলেন। তারপর তার সাজা হয়েছে। ‘উনার (খালেদা জিয়ার) প্রথম আইনজীবী রফিকুল হক সাহেব কিন্তু বলেছেন- টাকাটা দিয়ে দেন। তখন কিন্তু আর মামলাটা থাকতো না। টাকা দেননি। এতিমের টাকা খেলে শাস্তি আল্লাহও দেন, আদালতও দেন। আমাদের কিছু করার নেই। কিছু করার আছে? বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির যেসব নেতা দেশের অবস্থান করছেন, তাদের মধ্যে কি একজনও নেই, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের করা যেত। যাকে দায়িত্ব দেয়া হলো সে তত্ত¡াবধায়কের আমলে রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে বিদেশে চলে গেছে। এফবিআইয়ের তদন্তের অপরাধী প্রমাণ হয়েছে। দেশেও সাজাপ্রাপ্ত। বিএনপিতে এখন যারা আছেন, তারা দেখছি খুবই কাজ করছে, খুব কর্মঠ। ক্ষেত্র বিশেষে, ব্যক্তি বিশেষে দুর্নীতি করলে কোনো কথা হয় না। আদালতের রায়ের আগে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের জন্য গঠনতন্ত্র জমা দিয়েছে। তারা যখন দলে একেকজনকে নিয়োগ করে, তখন দেখবেন গঠনতন্ত্রের ধার ধারেন না। যাকে যখন খুশি পদ দিয়ে যাচ্ছে। যিনি চেয়ারপারসন, তার হাতে সকল ক্ষমতা। যেটি আমার হাতে নেই। আওয়ামী লীগে প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং পরে কাউন্সিলে এই জাতীয় বিষয় পাস হয়। এ ছাড়া কোনো উপায় নেই।
প্রশ্ন ফাঁস প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। সরকারের কোনো দিকে দোষ না পেয়ে একটা নিয়ে খোঁচাখুঁচি করা। আপনারা বলেন পরীক্ষায় যে টিক মার্কটা (নৈব্যক্তিক) বন্ধ করে দেব। আপনারা লেখেন আমরা বন্ধ করে দেব। প্রশ্ন ফাঁসের জন্য ব্যর্থতার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্ন ফাঁস নতুন কিছু না, কখনও প্রচার হয়, কখনও প্রচার হয় না। পরীক্ষা শুরুর ২০ মিনিট আগে প্রশ্ন দেয়, এটা তো জানা কথা। এখন সবার হাতে ফোন, কেউ ছবি তুলে দিতে পারে। কিন্তু আমার এই প্রশ্নের উত্তরটা দেন, কেউ কি এটা দেখে উত্তর পড়ে লিখে দিতে পারবে? এত ট্যালেন্টেড কে আছে? শিক্ষামন্ত্রী কি নিজে প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে গেছে, না কি সচিব গেছে? কে প্রশ্ন ফাঁস করেছে খুঁজে দেন আমরা শাস্তি দিয়ে দেব। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, প্রশ্নগুলো কতদিন আগে ফাঁস হয়েছে? ২০ মিনিট আগে প্রশ্ন ফাঁস হলে আপনি কি করবেন?
সাংবাদিকদের প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা সংসদে পাশ হওয়ার আগে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ না করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার হামলা এটি শুধু আমাদের সমস্যা না, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই সাইবার হামলার জন্য, সিআরপিতে যে ধারাগুলো আছে সেইগুলোই ৩২ ধারায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ৫৭ ধারা বাতিল করে ৩২ ধারা অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। যদি কেউ (সাংবাদিক) তেমন কিছু না করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে তো এটা অপপ্রয়োগ হবে না।
রোহিঙ্গা সমস্যা ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছে এবং তারা বহুবার বাংলাদেশে এসেছে ফেরত গেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, চিন্তার বিষয় হচ্ছে, মিয়ানমার কী করবে। তারা একেক বার একেক কথা বলছে। নানা অজুহাত খাড়া করার চেষ্টা করছে, সেটিই চিন্তার বিষয়। তবে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে খুব একটা অসুবিধা হবে না। কফি আনানের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। রোহিঙ্গারা ফিরে গিয়ে যেন খাবার পায়, রিলিফ পায় আমরা সে চেষ্টাও করে যাচ্ছি। মিয়ানমার নানা রকম টালবাহানা করছে তাতে সন্দেহ নেই। এটা তাদের একটা চরিত্র, তারা এটি করে যাচ্ছে। তবে তারা যেহেতু ফেরত নিতে রাজি হয়েছে, ঠিক আছে, আগে ৮ হাজারই নিক। নিলে আমরা দেখব যে তারা তাদের সঙ্গে কী ব্যবহার করে। একবার যদি ফেরত নেওয়া শুরু করে, তারপর দেখেন শ্রোতের মতো অনেকেই চলে যাবে। আপনাদের আর চিন্তা করতে হবে না। সবাই নিজ বাড়িঘরে ফিরতে চায়। মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ফেরত নেওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার দিকটিও দেখতে হবে। এতবড় একটা ঘটনা ঘটে গেছে। আমরা তো তাদের ঠেলে পাঠাতে পারি না। ঠেলে ফেলে দিলে এরা কী অবস্থায় পড়বে, তা আপনারাও বোঝেন। আমরাও ’৭১ সালে এক কোটি মানুষ শরণার্থী হয়ে গিয়েছিলাম। রোহিঙ্গারা তো মানুষ। তাদের আমরা তোপের মুখে ফেলে দেবো কীভাবে? রোহিঙ্গারা এখন কুতুপালং ও বালুখালীতে আছে। নতুন একটি দ্বীপ আমরা বসবাসের উপযোগী করছি। সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছি, প্রজেক্ট করে দিয়েছি। ঘরবাড়ির নকশাও করা হয়ে গেছে। সাইক্লোন শেল্টার করছি। সাগরের দিকে বাঁধ করে দিচ্ছি, যেন জলোচ্ছ¡াস বা জোয়ারের পানি না ঢুকে। আমরা চাচ্ছি রোহিঙ্গাদের আস্তে আস্তে সেখানে নিয়ে যাবো। কুতুপালং, বালুখালীর গাছপালা সব শেষ। যেহেতু গাছ কাটা হয়ে গেছে সামনে বর্ষা, যেকোনও সময় পাহাড়ে ধস নামতে পারে। অ্যাকসিডেন্ট হতে পারে। কাজেই আমরা চাচ্ছি, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের একটা অস্থায়ী ক্যাম্প করে রাখতে। প্রথমে আমরা এক লাখ লোকের ঘরবাড়ি করে দিচ্ছি। ভাসানচরে অন্তত ১০ লাখ লোক রাখার মতো জায়গা আছে। তারা চলে যাওয়ার পর সেটি দেশের মানুষের জন্য ব্যবহার করা যাবে। চাইলে সেটি বেড়ানোর জায়গা হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। চালের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চালের দাম বাড়ানোয় মিডিয়ারও একটু অবদান আছে। ব্যবসায়ীরা যখন চালের দাম বাড়ায়, তখন আপনারা যারা বলেন লেখেন তাতে ব্যবসায়ীরা মনে করেন আরেকটু বাড়িয়ে নিই। তাছাড়া কিছু মিলার যারা আমাদের মতের নয় তারাও সিÐিকেট করে চালের দাম বৃদ্ধি করে থাকে। কারাগারে বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত আয়া দেয়া এবং জিয়া অরফানেজ টাস্ট মামলার টাকা দুস্থদের দেয়া হবে কিনা প্রশ্ন করা হলে জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে আছেন শুধু দিতেই পারে। আমরা দুই বোন, আমাদের একটা মাত্র বাড়ি। আমার আব্বা সারাজীবন জনগণের জন্য কাজ করেছেন, ওই বাড়িটি তাই জনগণের জন্য দিয়ে দিয়েছি। আমরা ট্রাস্ট করে ১৭০০ থেকে ১৮০০ জনকে সহায়তা করি। আমরা এটা নিয়ে খুব একটা প্রচারও করি না। কেউ যদি এতিমের টাকা আসার পরও সে টাকার মায়া ত্যাগ করতে না পারে, তা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। আমি বলতে গেলেই তো..। শেখ হাসিনা বলেন, তত্ত¡াবধায়ক সরকার আমলে আমাকে শ্যাওলা ধরা একটি ভবনে রাখা হয়েছিল, খাট ছিল ভাঙা, ইট দিয়ে সেটা উপযোগী করা হয়েছিল। তাকে (বেগম খালেদা জিয়া) রাখা হয়েছিল স্পিকারের বাড়িতে। তার সঙ্গে এই ফাতেমাকে তখনও দেওয়া হয়েছিল। এটা গোপন ছিল। ডিআইজি হায়দার (সামছুল হায়দার সিদ্দিকী) সাহেবকে জিজ্ঞাস করলেই জানতে পারবেন। আদালত দিয়েছেন। বেশি কিছু তো দেওয়ার নেই, একজন মেইড সার্ভেন্ট দিয়েছে।
আনসার বাহিনী সমগ্র বাংলাদেশে আর্ত সামাজিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছে - প্রধানমন্ত্রী
মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও আব্দুল মান্নান, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) থেকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে আমাদের আনসার বাহিনী সমগ্র বাংলাদেশে বিস্তৃত তৃণমূল পর্যন্ত এ বাহিনী আমাদের আর্ত সামাজিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রেখে যাচ্ছে। দেশের সর্ব বৃহৎ শৃংখলা বাহিনী হিসেবে এ বাহিনীর এক গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। কাজেই আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথেও এ বাহিনী সম্পৃক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, আনসার বাহিনীর পতাকা ছিলনা। ১৯৯৬ সালে আমি সরকারে এসে এ বাহিনীকে প্রথম পতাকা দিয়েছিলাম। এরপর আপনারা জাতীয় পতাকা আপনারা পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। আপনাদের যত সুযোগ সুবিধার জন্য কখনো দাবি করতে হয়নি। আপনাদের কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও দৃষ্টান্তমূলক দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতি সরূপ প্রতিবছর সেবা ও সাহসিকতা পদক প্রবর্তন এটা আওয়ামীলীগ সরকারই করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সোমবার গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর আনসার ভিডিপি একাডেমীতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৮তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ১০ টায় হেলিকপ্টার যোগে সফিপুর আনসার একাডেমিতে আসেন। তিনি একাডেমীর প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌছালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আনসার ও ভিডিপি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল পাশা হাবিব উদ্দিন তাকে স্বাগত জানান। পরে তিনি ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে খোলা জিপে পরিদর্শন করেন এবং আনসার সদস্যদের কুচকাওয়াজ, ছালাম গ্রহণ করেন। বিভিন্ন কাজে আনসার সদস্যদের সেবা ও সাহসীকতার জন্য ১২৭ জন সদস্যদের মধ্যে ৫০জন সদস্যকে নিজ হাতে ব্যাচ পরিয়ে দেন।
আনসার সদস্যদের সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের অভ্যন্তরে আগামী নির্বাচন জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমরা যে কোন মূল্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর। অতীতের মতই যে কোন জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় একনিষ্ঠভাবে দায়িত্বপালনের জন্য আমি আপনাদের নির্দেশ দিচ্ছি। আসন্ন নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে আনসার বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ভোটের অধিকার, জনগনের মৌলিক অধিকার- সেটা যেন তারা যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করতে পারে। আমরা চাই জনগন যেন তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।
বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদমুক্ত করে উন্নয়নের যে ধারা আমরা শুরু করেছি সেটা আমরা অব্যাহত রাখব। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ক্ষুধা মুক্ত দারীদ্র মুক্ত দেশ হিসেবে বিশ^সভায় মাথা উচু করে চলবে সেটাই আমরা চাই। আমরা বাঙ্গালী রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি কারো কাছে মাথা নত করে নয়।মাথা উচু করেই আমরা চলব।
এছাড়া তিনি বলেন, কোন ছেলে মেয়ে যাতে কোন ভাবেই মাদক জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত না হতে পারে সেদিকে লক্ষ রাখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। আনসার সদস্যদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন জনগনের নিরাপত্তার জন্য আপনাদের উপর যে দায়ীত্ব অর্পন করা হয়েছে তা পালন করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন এবং সেই ঘোষণা অনুসারে যখন প্রথম স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকাকে যে সালাম দেয়া হয়েছিল সেখানে আনসার বাহিনীর বিরাট ভ‚মিকা রয়েছে। তাদের সেই গৌরবময় অধ্যায় আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনসার একাডেমির লেকের ধারে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো: দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, কালিয়াকৈর উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করীম রাসেল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ কামাল উদ্দিন সিকদার,সাধারন সম্পাদক মুরাদ কবিরসহ আনসার ও ভিডিপির পদস্থ কর্মকর্তাসহ প্রমুখ।



 

Show all comments
  • সোহেল রানা ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৬:০৩ এএম says : 1
    দেশের কপালে কি আছে তা আল্লাহই ভালো জানেন।
    Total Reply(0) Reply
  • তামিম ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৬:০৫ এএম says : 1
    খালি বিএনপি নিয়ে কথা না বলে দেশ ও দেশের জনগণ নিয়ে কথা বলুন।
    Total Reply(0) Reply
  • জহির উদ্দিন ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৬:০১ এএম says : 1
    এই হলো আসল কথা
    Total Reply(0) Reply
  • মারুফ ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৬:০২ এএম says : 1
    তাহলে মনে হচ্ছে এবারও ভোট দিতে পারবো না।
    Total Reply(0) Reply
  • Mohammed Shah Alam Khan ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১০:০৯ পিএম says : 0
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন কেউ না এলেও নির্বাচন হবে; তিনি সঠিক বলেছেন কারন গণতন্ত্র কাউকে গুলিয়ে খাওয়ানো যায়না। গণতন্ত্রের চর্চা করতে হয় এটাই সত্য।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর