Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

বাংলাদেশি বিতর্কে আসামে চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতীয় সেনাপ্রধান

| প্রকাশের সময় : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : বাংলাদেশ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কে আসামে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান। সম্প্রতি পাকিস্তান ও চীনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ভারতে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী পাঠানোর অভিযোগ করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন তিনি। তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আসামের অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট- এআইইউডিএফ। প্রগতিশীল এই গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা সেনাপ্রধানের বিতর্কিত বক্তব্যের প্রশ্নে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজানাথ সিংয়ের সঙ্গে দেখা করারও পরিকল্পনা করেছেন। সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক মতাদর্শের অভিপ্রকাশ আখ্যা দিয়েছেন তারা। বলেছেন, তার বক্তব্যকে অসা¤প্রদায়িক ভারতের জন্য হুমকি।
ভারতের সেনা প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত সম্প্রতি এক সেমিনারে বিজেপি শাসিত আসামে দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়ার ব্যাপারে কথা বলেছিলেন। সে সময় আসামে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া নাগরিকদের সংখ্যা বাড়ছে বলে ইঙ্গিত করেছিলেন সেনাপ্রধান। আসামে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে- এমন ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এআইইউডিএফ বলে একটা দল আছে। খেয়াল করে দেখুন, বিজেপি বছরের পর বছর যে গতিতে বেড়েছে, ওরা আসামে তারচেয়েও দ্রত বেড়েছে।’ সেনাপ্রধানের এমন বক্তব্যের তাৎক্ষণিক সমালোচনা করেছিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্ক্সবাদী (সিপিএম), মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) ও অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফোরাম (এআইইউডিএফ)।
আসামের ধুবরি আসনের লোকসভার সদস্য ও এআইইউডিএফ দলের নেতা মাওলানা বদরদ্দিন আজমল বলেন, ‘বর্তমান এনডিএ জোট সরকারের আমলে আমরা বেশ কয়েকবার খেয়াল করেছি, উচ্চ পদস্থ অ-রাজনৈতিক ব্যক্তিরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা সরকারের রাজনৈতিক সুরেই কথা বলছেন। একটি অসা¤প্রদায়িক দেশের জন্য এই প্রবণতা খুবই বিপজ্জনক।’
উত্তর-প‚র্বাঞ্চলে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ টেনে জেনারেল রাওয়াত বলেন, ‘আমাদের পশ্চিমা প্রতিবেশীর (পাকিস্তান) কারণে পরিকল্পিতভাবে অবৈধ অভিবাসন চলছে। তারা সবসময় এই এলাকাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করবে এবং সেটা নিশ্চিত করতে চাইবে। বিভিন্ন মাত্রায় ছায়াযুদ্ধ চালাতে চায় তারা।’ এর পেছনে চীনের মদতেরও অভিযোগ তোলেন তিনি। আসামের একাধিক জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে বলে স¤প্রতি প্রকাশিত বেশ কিছু রিপোর্টের উল্লেখ করে রাজ্যটিতে বদরদ্দিন ওমরের অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফোরামের (এআইইউডিএফ) প্রভাব বাড়ার কথা জানান বিপিন রাওয়াত।
তবে সেনাপ্রধান জেনারেল রাওয়াতের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বদর”দ্দিন আজমল বলেন, ‘আমরা প্রমাণসহ এই দাবির প্রতিবাদ জানাব। তিনি কীভাবে বলতে পারেন আমাদের দলের উন্নতি অসামঞ্জস্যপ‚র্ণ? আমাদের বিকাশ এখন থেমে আছে। এখন পর্যন্ত আমরা বিধানসভায় তিনবার নির্বাচন করছি। প্রথমবার আমরা ১০টি আসন পেয়েছি। পরেরটাতে ১৮টি আসন জিতলেও ২০১৬ সালের নির্বাচনে আমরা ১৩টি আসন পেয়েছি। এটা আমাদের জন্য নেতিবাচক অগ্রগতি।’
এআইইউডিএফ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ভারতীয় সেনাপ্রধান ২০১৬ সালে আসামের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) উন্নয়ন নিয়ে কোনও কথা বলেননি। আজমল বলেন, ‘২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে। ৫টি আসন থেকে তারা এক লাফে ৬১টি আসনে জয়লাভ করেছে। তখন কেন তিনি প্রশ্ন তোলেননি? বিজেপি কি মুসলিমদের ভোট পায়নি? আমরা যদি সব মুসলিম ভোট পেতাম তাহলে আমাদের আরও এমএলএ থাকতো। বরং আমাদের চেয়ে কংগ্রেস বেশি মুসলিম ভোট পেয়েছে।’
এআইইউডিএফ দাবি করেছে, তারাই প্রথম আসামের অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে বিতাড়িত করার জন্য জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন হালনাগাদ করার দাবি জানিয়েছিলেন। আসামে সেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখনও চলছে। আজমল বলেন, ‘হালনাগাদের মাধ্যমে দেখা যাবে কারা অবৈধ আর কারা বৈধ। প্রকৃত মুসলিম এমনকি হিন্দুদেরও বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে বছরের পর বছর হয়রানি করা হয়েছে। যথাযথ নাগরিক নিবন্ধনের মাধ্যমে তা শেষ হবে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারই এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের কঠোর অবস্থানের কারণে শান্তিপূর্ণভাবে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই সেনাপ্রধানের এমন মন্তব্য আসামের জন্য খুবই ক্ষতিকর।’



 

Show all comments
  • Mohammed Shah Alam Khan ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৭:২২ এএম says : 0
    ভারতের হিন্দুত্বের বিষয় খুবই স্বাভাবিক আমার ব্যাক্তিগত মতে। কারন ভারত ছিল একটা রাজ্য ১৯৪৭ সালে যদি কায়েদে আযম মোঃ আলী জিন্নাহ হঠাৎ করে ইসলামকে সামনে না আনত তাহলে আজ আমার মনে হয় এই সাম্প্রদায়িকতার বিষয়টা এতটা ঘোলাটে হত না। এর জন্য আমার মতে দায়ী বৃটিশ সরকার তারা ভারতকে স্বাধীন করার সময়ে একজন বৃটিশের পাচাটা ব্যারিষ্টার জিন্নাহকে (যিনি তখন বন্ধের দিনে মানে হরতালের দিন পায়ে হেটে হাইকোর্টে গিয়ে নিজের মোয়াক্কেলকে একতরফা ভাবে বৃটিশ বিচারককে দিয়ে রায় করায়ে জিতায়ে নিতেন) দিয়ে ধর্মীয় ধুঁয়া তুলে ভারতকে বিভক্ত করে রায়টের (হিন্দু মুসলমান কাটা কাটি) জন্ম দিয়ে দুই ধর্মীয় জাতিকে চির শত্রু বানিয়ে দিয়ে যায় বৃটিশ। সেই থেকে আজও পাকিস্তান ভারত খন্ড খন্ড যুদ্ধের শেষ হয়নি (কাশ্মীর তার জলন্ত প্রমান) আর এদিকে আমরা বাঙ্গালী মুসলমান বাংলাদেশের বাসিন্দারা ভারতিদের কাছে বিভিন্ন কারনে হয়েছি বিতর্কিত। তাই তারা আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে নানা কারন দেখিয়ে ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত (ক্ষমতার জোরে) করে যাচ্ছে। আবার মায়ানমারের রোহিঙ্গা তাড়ানোর মত করে আসাম থেকে মুসলমান তাড়ানোর পাঁয়তারা করছে।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ