Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

কাশ্মীরে গোলাগুলি উত্তেজনা

ইনকিলাব ডেস্ক: | প্রকাশের সময় : ১ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম

৪শ’ বার যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি; যুদ্ধ কোনও বিকল্প হতে পারে না, আলোচনা জরুরি : মেহবুবা
ইনকিলাব ডেস্ক : জম্মু ও কাশ্মীরে ভারত-পাকিস্তান গোলাগুলি থামেনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি চেনাব অঞ্চলে পাকিস্তান ও ভারত পরস্পরকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে গোলাগুলি চালাচ্ছে। এদিকে, কাশ্মীর সীমান্তে ভারত-পাকিস্তান পারস্পরিক গোলাগুলির সমান্তরালে চলছে দোষারোপের খেলা। দিল্লি-ইসলামাবাদ এক বছরের মধ্যে ৪০০ বারেরও বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে পরস্পরের বিরুদ্ধে। উসকানির অভিযোগও করছে উভয় পক্ষই। অপরদিকে পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের সীমান্তে চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনায় বসার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে এই মনোভাবের কথা জানানো হয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র হেদার নুয়ের্টের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র কী ভূমিকা রাখবে। জবাবে তিনি বলেন, আমরা মনে করি দু’পক্ষের অবশ্যই একসঙ্গে বসতে হবে এবং বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হবে। খবরে বলা হয়, গত মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চলমান গোলাগুলির কারণে জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখার কাছাকাছি ২০টিরও বেশি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কাছাকাছি অঞ্চল থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এক্সপ্রেস ইউকে জানিয়েছে, ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারকে ডেকে নিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রসঙ্গত, জম্মুর সুঞ্জওয়ানের একটি সেনাঘাঁটিতে হামলাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সা¤প্রতিক উত্তেজনা বেড়ে যায়। ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বিভিন্ন স্থানে ভারত ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণ হয়। ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, সকাল পৌনে ৯টায় পাকিস্তানের দিক থেকে গুলিবর্ষণ শুরু হলে পাল্টা গুলিবর্ষণের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে জবাব দিয়েছে ভারতীয় বাহিনী। সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভিম্বারগলি সেক্টরে পাকবাহিনী বিনা প্ররোচনায় ছোট ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সাহায্যে গুলিবর্ষণসহ মর্টার হামলা চালায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানি বাহিনী মাঞ্জাকোট, নিয়াকা পাঞ্জগ্রিয়ান, লাম্বিবাড়ি ও বালাকোট এলাকাতেও মর্টার নিক্ষেপ করেছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে রাজৌরি জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল ড. মোহাম্মদ ফয়সাল ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার জেপি সিংহকে ডেকে পাঠান। পরে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘২৭ ফেব্রæয়ারি নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতীয় দখলদার বাহিনী অনর্থক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নিকিয়াল সেক্টরে ১৩ বছরের এক বালককে শহীদ করেছে। এই ঘটনায় জেপি সিংহকে ডেকে নিয়ে ড. মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে জানানো হয় ওই বিবৃতিতে। এই মাসের শুরুর দিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ের শেষ টানতে আলোচনার আহŸান জানান। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ কোনও বিকল্প হতে পারে না। রক্তক্ষয়ের শেষ টানতে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা জরুরি।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি জানি আজ রাতে সংবাদ উপস্থাপকরা আমাকে ‘অ্যান্টি ন্যাশনাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করবেন, তবে আমি তার পরোয়া করি না। মুফতি মেহবুবা বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ ভোগান্তিতে রয়েছে, আমাদের কথা বলতে হবে কেননা যুদ্ধ কোনও বিকল্প নয়। স¤প্রতি চিরবৈরী ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনা বেড়েছে। পাল্টাপাল্টি গুলির ঘটনায় দুই পক্ষের প্রাণহানিও বেড়ে চলেছে। ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা শুরুর পর শ্রীপুরের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোর বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এরইমধ্যে এক হাজারেরও বেশি গ্রামবাসী নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছেড়েছেন। এক্সপ্রেস ইউকে, ফাস্টপোস্ট, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাশ্মীর

১ নভেম্বর, ২০২০

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ