Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বিশ্ব নবী (সা.) : মাতৃভাষার সম্মান দিয়েছেন

আসাদুজ্জামান আসাদ | প্রকাশের সময় : ১ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম

মহান আল্লাহ সৃষ্টিগত ভাবে মনের ভাব প্রকাশের জন্য ভাষা শিক্ষা দিয়ে মানুষকে দুনিয়াতে প্রেরন করেন। স্থান, কাল পাত্র ভেদে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে থাকে। ইসলাম মাতৃভাষার মর্যাদা ও সম্মান দান করেছেন। বিশ^ নবী (সা.) এর মাতৃভাষা আরবী। বিশ^ নবী (সা.) আরবী ভাষার প্রতি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা তিন কারনে আরবদের ভালবাসবে।যথা-১.আমি আরবী ২.পবিত্র কোরআনের ভাষা আরবী ৩.জান্নাত বাসিদের ভাষা আরবী’। হযরত রাসুল (সা.) এর কথার পরিপ্রেক্ষিতে মাতৃভাষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে। এমনি ভাবে অন্যান্য সব ভাষা ভাষী স্ব-স্ব ভাষার গুরুত্ব সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। মাতৃভাষার গুরুত্ব মর্যাদা সবার কাছে আরো বেড়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন,‘আমি প্রত্যেক রাসুলকে তার জাতির মাতৃভাষাতেই প্রেরন করেছি। যাতে তিনি আল্লাহ পাকের বানি সহজেই তাদের কাছে ব্যাখা করতে পারেন’।

পৃথিবীতে অসংখ্য জনপদ রয়েছে। প্রত্যেক জনপদে তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। যে ভাষা দিয়ে তারা মুখের ভাষা,মনের ভাব প্রকাশ করে থাকেন। প্রত্যেক মানুষ জন্মের পর মমতাময়ী মায়ের কোলে বসে মায়ের ভাষা শিখে থাকেন। মায়ের কোলে যে ভাষা শিখা হয় সেই ভাষাকে মাতৃভাষা বলা হয়। বর্তমান সারা বিশে^ ছয় সহ¯্রাধিক ভাষা রয়েছে। প্রত্যেক জনপদের মানুষ মাতৃভাষায় কথা বলে থাকেন।মহান আল্লাহ এরশাদ করেন,‘আমার নিদর্শন গুলোর মাঝে রয়েছে নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি। ভাষা ও বর্ণের মধ্যে পার্থক্য, জ্ঞানীদের জন্য এতে সুনিশ্চিত অনেক নিদর্শন রয়েছে’। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে হাজারো সৃষ্টির মাঝে মাতৃভাষার ¯্রষ্ঠা। এ ব্যাপারে তিনি বলেন,‘তিনিই মানব সম্প্রদায় সৃস্টি করেছেন এবং তাদেরকে মনের ভাব বর্ননা (ভাষা) প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন’।
পৃথিবীতে হরেক রকম মানুষের বসবাস। প্রত্যেক মানুষের মনের ভাব প্রকাশের জন্য মাতৃভাষা রয়েছে। মাতৃভাষায় কথা বলার জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে।যেমন তুরস্ক,বুলগেরিয়া,মধ্যে এশিয়াসহ ভারতের উত্তর প্রদেশসহ উল্লেখ যোগ্য জন গোষ্ঠি রয়েছে। কিন্ত বাঙ্গালী জাতি মাতৃভাষার জন্য সংগ্রাম আর আন্দোলনের মাঝে কোন সীমাবদ্ধ ছিল না। মাতৃভাষা বাংলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন ও বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে হয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রæয়ারী বাংলার ইতিহাসে রচিত হয়েছে অমর শোকগাথা কাহিনী। শাহাদাতের পেয়ালা পান করেছেন-সালাম,বরকত, রফিক,জব্বারসহ নাম জানা, অজানা আরো অসংখ্য মানুষ।সেই দিন বাঙ্গালী দামাল ছেলেরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষাকে মুক্ত করেছেন। তারা রক্তের বিনিময়ে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য্যকে সুদৃঢ় করে তুলেছেন। ভাষা শহীদের ত্যাগ ও তাদের দায়বদ্ধতা থেকে মাতৃভাষা বাংলা চর্চা করা উচিৎ ।
আমরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে জানতে পারি যে,১৯৫২ সালে, ভাষা আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল ‘মাতৃভাষা বাংলার অবাধ ব্যবহার , তার সার্বিক উৎকর্ষ বিধান এবং সর্বস্তরের চর্চার অধিকার আদায় করা। তারপর উদ্দেশ্য ছিল মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করে সরকারী-বে সরকারী সব অফিস-আদালতসহ রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় স্বাতন্ত্র স্কীয়তা বজায় রাখা ও সারা বিশে^ এ ভাষার পরিচিতি আরো উন্নত পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া’। সেই দিন মাতৃভাষা আন্দোলনের মুল ¯েøাগান ছিল,‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যেমে জাতি হিসাবে বাঙ্গালীর সব গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার। সংখ্যা গরিষ্ঠ্য বাঙ্গালীর মুখের ভাষা কেড়ে নিয়ে সংখ্যা লগিষ্ঠ কোন জাতির ভাষা চাপিয়ে দেয়া কোন ক্রমে সম্ভব ছিল না। যা সভ্যতা ও মুল্যেবোধের পরিপন্থী। মানবাধিকার,অগণতান্ত্রিক এবং অন্যায় বিষয়ের তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতে গিয়েই ভাষা আন্দোলন বা সংগ্রামের সৃষ্টি হয়। যা পরবর্তী সময়ে বাঙ্গালী জাতির অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক,সাংস্কৃতি এবং সামাজিক পর্যায়ে সব বৈষম্য দুর করে ঐতিহাসিক স্বাধিকার সংগ্রামের রুপ ধারন করে। এ ক্ষেত্রে ভাষা শহীদদের অবদান অবিস্মরনীয় বটে।
পরিশেষে বলতে চাই যে, বিশ^ নবী (সা.) ছিলেন আরবদের মধ্যে বিশুদ্ধ ভাষার অিিধকারী। তিনি কখনো অশুদ্ধ বা বিকৃত শব্দ উচ্চারন করেন নি। বিশ^ নবী (সা.) দিয়েছেন মাতৃভাষার মর্যাদা ও সম্মান। তাকে অনুস্মরন করে আমাদের উচিৎ আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে বিশুদ্ধ ভাষায় উচ্চারনের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহন করা। ইতিহাস প্রমান দিচ্ছে,আরবের অধিবাসিরা বিধি বিধান,জীবন যাপন,সামগ্রিক আচার- পদ্ধতি সহজে বোজার জন্য মাতৃভাষা সর্বদা ব্যবহার করতেন। মহান আল্লাহ তাআলা আরবী ভাষায় পবিত্র কোরআন অবর্তীন করেছেন।। এরশাদ হচ্ছে,‘আমি একে আরবী ভাষায় কোরআন রুপে অবর্তীন করেছি,যাতে তোমরা সহজে বুঝতে পার’। সর্বশেসে বলতে চাই যে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, লেখক,কবি,সাংবাদিক,ছাত্র /ছাত্রী সবার উচিৎ মানুষের বোধগম্য মুলক সহজ সরল অর্থবহ শব্দাবলী ব্যবহার করা। যে সব শব্দ দ্বারা অর্থ বুঝা সহজ, সেই সব শব্দ ব্যবহার করা উচিৎ। তাই আসুন জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমাদের মাতৃভাষা বাংলার মুল্যায়ন করি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।