Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

বিশ্ব দেখুক আমরাও পারি : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ৩১ মার্চ, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১১:১৩ পিএম, ৩০ মার্চ, ২০১৬

বিশেষ সংবাদদাতা : বিশ্ব দেখুক আমরাও পারি এ অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কারো কাছে হাত পেতে নয় বরং বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাসহ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের চিন্তা করতে হবে আমরাও পারি। সেই চিন্তা-চেতনা নিয়ে কাজ করতে হবে। আসুন সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলি। গতকাল বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের একাংশ উদ্বোধনের পর এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক আইনের সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে বলেন, হঠাৎ করে রাস্তার মাঝখান দিয়ে দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হবার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশকেও এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। নাগরিকরা যাতে এভাবে রাস্তা পার না হয়, তা দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক পুলিশদের প্রতি আহ্বান জানান। রাস্তা-পারাপারের সময় পারাপারের নিয়ম মেনে ফুটওভার ব্রীজ, আন্ডারপাস বা জেব্রাক্রসিং দিয়ে পারাপারের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত্রতত্র দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হওয়া যাবে না, এগুলো বন্ধ করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সউদী রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ এইচএম মুতায়ইরি। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এমএ মালেক এবং এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বেসমারিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামসহ মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, ঢাকা সিটি উত্তরের মেয়র আনিসুল হক এবং দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন, সরকারের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতবৃন্দ, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আগে দুর্ঘটনাকবলিত লোকটিকে বাঁচানো জরুরি। অতিউৎসাহী জনগণ ড্রাইভারকে মারতে যতটা উৎসাহী, আহত লোকটিকে হাসপাতালে নিতে ততটা উৎসাহী নয়। এটি দুঃখজনক। এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি ‘সউদী ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট’ এবং ‘ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা দেয়ায় তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রকল্পের বাকি অংশ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, রূপকল্প ২০২১ অনুযায়ী আমরা ঢাকা মহানগরীকে একটি বিশ্বমানের মেট্রোপলিস হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের যানজট কমাতে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আমি মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য ঢাকাবাসীর, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে এই ফ্লাইওভার নির্মাণের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। যেমন তারা বন্ধ করেছিলো তৃণমূলের প্রান্তিক মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে আমাদের সরকার গৃহীত কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা কার্যক্রম। এমনকি তারা সউদী অর্থায়নে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও বন্ধ করে দিলে ২০০৮ সালে পুনরায় সরকার গঠনের পর তা সম্পন্ন করি।
তিনি সড়ক যোগাযোগ ও দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের তাঁর সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ঢাকা মহানগরের জন্য একটি সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলি। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় হাতিরঝিল প্রকল্প, কুড়িল-বিশ্বরোড বহুমুখী ফ্লাইওভার, মিরপুর-বিমানবন্দর জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার, বনানী ওভারপাস উদ্বোধন করেছি।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, এছাড়া, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, টঙ্গীতে আহসানউল্লাহ মাস্টার ফ্লাইওভার এবং চট্টগ্রামে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের সরকার উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি এবং হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ-এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন ১ হাজার কোটি টাকার ঊর্ধ্বে ৭টি মেগাপ্রকল্পের মধ্যে ’ফাস্ট ট্রাক প্রকল্প’ এবং ‘মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট’ এর কাজ এগিয়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিআরটিসিকেও লোকসানী প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে বিএনপি-জামায়াত সরকারও পরামর্শ নিয়ে সেটি বন্ধ করে দিতে চাচ্ছিল। কিন্তু আমরা তা করতে দেইনি। কারণ সব যদি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেই, তাহলে তারা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াবে। আমরা বরং এটি বন্ধ না করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনকে (বিআরটিসি) লোকসানী অবস্থান থেকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে দাঁড় করিয়েছি। তাই বিআরটিসি সারাদেশে উন্নত যাত্রীসেবা দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি সড়ক যোগাযোগের আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে,বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কোলকাতা-ঢাকা-আগরতলা এবং ঢাকা-সিলেট-শিলং-গৌহাটিরুটে যাত্রীবাহী বাস সার্ভিস চালু বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল) মটর ভেহিকেল এগ্রিমেন্ট এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য করিডোর সৃষ্টির বিষয়টি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগরী ও পার্শ¦বর্তী এলাকায় বিভিন্ন ধরনের পরিবহন একই টিকেটের মাধ্যমে যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-টিকেটিং ও ই-ক্লিয়ারিং হাউজ স্থাপনের কাজ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে এবং বিদ্যমান স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্লান যুগোপযোগী ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে সংশোধন ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, শিক্ষা দীক্ষায় আমরা উন্নত হচ্ছি। দেশকে আরো উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কারণ আমরা জাতির পিতার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছি। আমরা স্বাধীন জাতি বিশ্বে আমরা মর্যাদার সাথে চলতে চাই। মাথা উঁচু করে চলতে চাই। কারো কাছে হাত পেতে নয় নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে। নিজের কাজ আমরা নিজেরাই করবো এই মানসিকতা নিয়ে চলতে হবে। সবসময় এটা চিন্তা করতে হবে যে, আমরাও করতে পারি। আমাদের সেই সক্ষমতা আছে। আমরা সেই সক্ষমতা অর্জন করতে পারি।এই চিন্তা-চেতনা নিয়েই আমাদের দেশকে গড়ে তুলতে হবে।
উদ্বোধনের পর ফ্লাইওভারের এই অংশটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। ফ্লাইওভারের এই অংশটি চালু হওয়ার ফলে মগবাজার রেলক্রসিং এড়িয়ে একটানে মগবাজার পার হওয়া যাবে। আগে সাতরাস্তা থেকে রমনা আসতে এক ঘণ্টা সময় লাগত, এখন লাগবে পাঁচ মিনিট। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের তেজগাঁও সাতরাস্তা-হলি ফ্যামিলি অংশ গতকাল উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফ্লাইওভারের এই অংশটি ভারতের সিমপ্লেক্স ও বাংলাদেশের নাভানা যৌথভাবে নির্মাণ করেছে। এতে খরচ হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা। ফ্লাইওভার বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) জানিয়েছে, ফ্লাইওভারের বাকি অংশ বাংলামোটর-মৌচাক চলতি বছরের জুনে এবং রামপুরা-মৌচাক হয়ে শান্তিনগর ও রাজারবাগ অংশ ডিসেম্বরে চালু হবে।
ত্রিশালের ইউএনও’র মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহের ত্রিশালের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। গতকাল বুধবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ওই মেধাবী কর্মকর্তা পেশাগত জীবনে সর্বোচ্চ সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কাজ করেছেন। দেশ ও জাতির জন্য তার মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। শেখ হাসিনা মরহুমের আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। রাশেদুল ইসলাম (৩৮) গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ত্রিশাল উপজেলায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বইলোর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।



 

Show all comments
  • তারেক আহমেদ ৩১ মার্চ, ২০১৬, ১০:৩৭ এএম says : 0
    এইটাতো আর পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার বিমান নয় যে আমরাই প্রথম তৈরী করেছি..এটা একটা ফ্লাইওভার যেটা বহু আগেই বিশ্ব নির্মান করে ফেলেছে..এইটাতে দেখানোর কিছুই নেই..
    Total Reply(0) Reply
  • Kabir Hussain ৩১ মার্চ, ২০১৬, ১০:৩৮ এএম says : 0
    ঠিক
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিশ্ব দেখুক আমরাও পারি : প্রধানমন্ত্রী
আরও পড়ুন