Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

‘নিরপরাধ হত্যা’র প্রতিবাদ উত্তাল কাশ্মীর

কারফিউ জারি : স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৬ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:১৬ এএম, ৬ মার্চ, ২০১৮

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সেনা অভিযানে চার ‘নিরপরাধ’ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপত্যকায় নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বেসামরিক নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল ভারতবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর গতকাল সোমবার কাশ্মিরের কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়েছে। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং স্কুলগুলো। বেশ কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে উত্তেজিত জনতার সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে।
সেনা সূত্রকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, গত রোববার রাতে সোপিয়ানের পোহন এলাকার পাশে সেনাদের টহল ভ্যান একটি গাড়িকে থামার নির্দেশ দেয়। মুহূর্তেই সেনাকর্মীদের দিকে ছুটে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি। পাল্টা গুলিতে সেসময় এক জঙ্গি নিহত হয় বলে দাবি করে সেনাবাহিনী। গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় একটি আগ্নেয়াস্ত্র। এরপর ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে কিছু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আর একটি গাড়ি থেকে তিন তরুণের দেহ উদ্ধার করে তারা। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই তিন ব্যক্তি হামলাকারীর সহযোগী ছিল। যদিও স্থানীয় মানুষের দাবি, তারা সাধারণ নাগরিক ছিল। প্রসঙ্গত, কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক নিরপরাধ মানুষকে হত্যার পর তাদের জঙ্গি প্রমাণের চেষ্টার জোরালো অভিযোগ রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায় রোববার বেসামরিকদের হত্যা ও তাদের জঙ্গি প্রমাণে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমে আসে শত শত কাশ্মিরি জনগণ। ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সেøাগান দিতে থাকে তারা। কাশ্মিরে নয়া দিল্লির শাসনের অবসান দাবি করা হয়। পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের হটানোর চেষ্টা করে। বেশ কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষও ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রীনগরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্রেটার কাশ্মির জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাশ্মিরের সবগুলো স্কুল ও কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কাশ্মির সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ আলতাফ বুখারি জানান, সোমবার স্কুল কলেজগুলো বন্ধ থাকবে।
মানবাধিকার সংস্থা, ইতিহাসবিদ আর রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মির ক্রমেই ভারত-পাকিস্তানের সমরাস্ত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। আর তাতে প্রাণ হারিয়েছে লাখ লাখ মানুষ। মানবাধিকারকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ৪৭-এর পর থেকে অন্তত পাঁচ লাখ কাশ্মিরি নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও দশ লাখের মতো। খোদ ভারতের সরকারি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রভাবশালী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এক রিপোর্টে জানাচ্ছে, ১৯৯০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে কেবল ১১ বছরেই ৪৩,৪৬০ জন কাশ্মিরি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক কাশ্মিরি। আর মানবাধিকার কর্মীদের দাবি অনুযায়ী ওই ১১ বছরে নিহতের সংখ্যা লক্ষাধিক এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা আরও ১ লাখ। টাইমস অব ইন্ডিয়া।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাশ্মির


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ