Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২২ মে ২০১৯, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৬ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ উদ্বোধনের অপেক্ষায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল

| প্রকাশের সময় : ৭ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম

কিশোরগঞ্জ থেকে এ কে নাছিম খান : জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাবা, বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের নামে তার নিজ এলাকা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যশোদল গ্রামে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। আধুনিক ও উন্নতমানের চিকিৎসার জন্য অবকাঠামোগত সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে এই হাসপাতালে। শুরুতেই ৫০০ শয্যার ব্যবস্থা থাকলেও দ্বিতীয় পর্যায়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালটিকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পটি নির্মাণ কাজে নিয়োজিত কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজমল হক ইনকিলাবকে জানান, ২০১২ সালের জুলাই থেকে সদর উপজেলার যশোদল এলাকায় ২০.৮০ একর জায়গায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যেই ওই মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক ভবন, ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেল ভবন, ইন্টার্নি ডাক্তারদের পুরুষ ও মহিলাদের কোয়ার্টার নির্মাণ সম্পন্ন করে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার, স্টাফ নার্স ডরমিটরি প্রশিক্ষণ মর্গ ও মরচুয়ারি, প্রিন্সিপাল বাসভবন, পরিচালকের বাসভবন, মসজিদ ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আরো জানান, আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ পাওয়া গেলে নির্ধারিত সময় অর্থাৎ জুন-২০১৮ এর আগেই শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ও হাসপাতালের নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজে প্রথম বর্ষে এমবিবিএস ক্লাসে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয় এবং অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে প্রথম বর্ষে ছাত্রছাত্রীরা এমবিবিএস পাস করে সদর হাসপাতালে ইন্টার্নি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বর্তমান প্রকল্প পরিচালক ও কলেজের ভাইস-প্রিন্সিপাল ডা. সজল কুমার সাহা ইনকিলাবকে জানান, হাসপাতালে অদ্যাবধি গ্যাস সংযোগ না দেয়ায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। গ্যাস না থাকায় মেডিক্যাল কলেজে হোস্টেলে অবস্থানরত ছাত্রছাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। লিফট সংযোগসহ হাসপাতালের অবশিষ্ট নির্মাণ কাজ দ্রæত সমাপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ছাড়পত্র দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি অনুরোধ জানান।
মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র আল আজাদ জানান, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজটি নতুন প্রতিষ্ঠা করা হলেও সরকারি এ কলেজের পড়াশোনার মান ভালো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস পরীক্ষায় এ কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ফল সন্তোষজনক। কলেজের সপ্তম ব্যাচের ছাত্র মারজান সুলতানা জানান, ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় ইন্টার্নি চিকিৎসকদের প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে গিয়ে সদর হাসপাতালে ডিউটি করতে হয়। এতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি অবিলম্বে হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।
বিএমএ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহবুব ইকবাল জানান, ২০১২ সালের জুলাই মাস থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে মেডিক্যাল কলেজের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও হাসপাতালের কিছু কাজ বাকি থাকায় হাসপাতালটি চালু করা যাচ্ছে।
যশোদল গ্রামের শেখ ফরিদ মিয়া জানান, এলাকার এমপি এবং বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একান্ত প্রচেষ্টায় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালটি নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেয়ায় এবং হাসপাতালের কিছু কিছু অবকাঠামো নির্মাণ কাজ বাকি থাকায় ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে কিশোরগঞ্জ জেলাসহ দেশের বৃহত্তর হাওর অঞ্চলের ৫০ লক্ষাধিক মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি অবিলম্বে এই হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানান। উন্নতমানের আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালটি দ্রæত উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছেন কিশোরগঞ্জবাসী।

 



 

Show all comments
  • ১১ মে, ২০১৮, ৯:২১ এএম says : 2
    আমি অনেক আশা নিয়ে এই মেডিক্যাল কলেজে চাকরির জন্য অনেক আশা দিয়ে ছিলাম আমি সেই চাকরির অপেক্ষায় এখনও পর্যন্ত রইলাম
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হাসপাতাল

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন