Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভা করবে আওয়ামী লীগ

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

তারেক সালমান | প্রকাশের সময় : ৭ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১১:১৩ পিএম, ৬ মার্চ, ২০১৮

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দিন। দীর্ঘ আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দান) বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।
গত বছরের ৩০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা প্যারিসের ইউনেস্কোর সদর দপ্তরের এই স্বীকৃতি দেন। এ ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের গৌরব সম্মান আরেকবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ বিশাল জনসভা কর্মসূচি পালন করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ জনসভাকে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
জনসভা সফল করতে ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, বিভিন্ন থানার নেতাসহ অন্যান্য ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রস্তুতি সভা শেষ করেছে। গত প্রায় দু‘সপ্তাহ আগে থেকেই জনসভায় যোগ দিতে রাজধানীর প্রতিটি এলাকাসহ আশাপাশের বিভিন্ন জেলায় মাইক যোগে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আজ দুপুর ২টায় ৭ মার্চের ভাষণের স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে এ জনসভা। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ জনসভায় রাজধানী ঢাকা ছাড়াও আশপাশের জেলা টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী জেলার বিপুল সংখ্যক নেতাকমী যোগ দেবে। বিপুল সংখ্যক বাস, ট্রাক ও রেলযোগে নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসবে। এছাড়াও জাতীয় নির্বাচনের বছরের এ জনসভায় রাজধানীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা নিজেদের কর্মী-সমর্থক নিয়ে ব্যাপক শো-ডাউনের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন।
১৯৭১ সালের এ দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণে গর্জে ওঠে উত্তাল জনসমুদ্র। বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আরোহণ করেন বেলা ৩টা ২০ মিনিটে। ফাগুনের সূর্য তখনো মাথার ওপর। মঞ্চে আসার পর তিনি জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। তখন পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লাখ লাখ মানুষের ‘তোমার দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ, তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। এরপর জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতার মহাকাব্যের কবি দরাজ গলায় ভাষণ শুরু করেন, ‘ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি...।
মাত্র ১৯ মিনিটের ভাষণ। এই স্বল্প সময়ে তিনি ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসই তুলে ধরেন। তিনি তার ভাষণে সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, গোলাগুলি ও হত্যা বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া এবং বিভিন্ন স্থানের হত্যাকান্ডের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান।
বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘ভাইয়েরা আমার, আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, মানুষের অধিকার চাই। প্রধানমন্ত্রীত্বের লোভ দেখিয়ে আমাকে নিতে পারেনি। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দিতে পারেনি। আপনারা রক্ত দিয়ে আমাকে ষড়যন্ত্র-মামলা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। সেদিন এই রেসকোর্সে আমি বলেছিলাম, রক্তের ঋণ আমি রক্ত দিয়ে শোধ করবো। আজও আমি রক্ত দিয়েই রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রস্তুত।’ তিনি বলেন, ‘আমি বলে দিতে চাই- আজ থেকে কোর্ট-কাচারি, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। কোন কর্মচারী অফিসে যাবেন না। এ আমার নির্দেশ।’
বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সর্বশেষ দু’টি বাক্য, যা পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিক-নির্দেশনা ও প্রেরণার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয়বাংলা’।
বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটি প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসলেও জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতিতে উজ্জীবিত জাতি এবার দিনটি ভিন্নমাত্রায় উদযাপিত করবে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠন এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান স¤প্রচার এবং জাতীয় পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাঙ্খিত মুক্তির লক্ষ্যে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ ভোর ৬টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। আওয়ামী লীগের সকল শাখা কমিটি কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ স্মরণ করবে।
ব্যতিক্রমী শো-ডাউন করবে যুবলীগ
জনসভায় থাকবে রঙ-বেরঙের হাজারও নৌকা ও ৩৫ হাজার সবুজ গেঞ্জি-ক্যাপে নৌকার মাঝি
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার টানা নয় বছরে যে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটিয়েছে তার প্রতিফলন আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় দেখাবে রাজধানীবাসী ও আশপাশের জেলার মানুষ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনোস্কোর স্বীকৃতি দেয়ায় দিনটিকে স্মরণীয় করতে ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউন করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ জন্য ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন নিজেদের সাংগঠনিক দক্ষতার জানান দিতে আজ প্রস্তুত। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ আজকের জনসভাকে ভিন্নরূপ দিতে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে। নির্বাচনী বছরে ঢাকায় প্রথম জনসভা থেকে নৌকার ঢেউ তুলবেন তারা। এজন্য লাল-সবুজের হাজার হাজার নৌকা তৈরি করা হয়েছে। ৩৫ হাজার সবুজ গেঞ্জি, সুবজ ক্যাপ পরিহিত যুব নেতারা মাঠে নৌকার মাঝি সেজে বসে থাকবেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীসহ দলের সিনিয়র নেতাদের বক্তব্যের সময় নৌকার ঢেউ তোলা হবে। প্রায় দুই ফুট লম্বা ও পৌনে এক ফুট চওড়া এই রঙিন বর্ণিল নৌকা।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সবসময়ই ব্যতিক্রমী শোডাউন বা চমক দেখায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাট বলেন, যুবলীগ চেয়ারম্যানের নিদের্শে আমরা আজকের এই বিশেষ দিনকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দশ মাস বাকী আছে। তাছাড়া নির্বাচনী বছরে প্রথম জনসভা হবে আজ। এই জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ প্রতিটি সংগঠন টানা পরিশ্রম করেছেন। সেই জনসভাকে দৃষ্টি নন্দন করতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে। হাজার হাজার নৌকা তৈরি করেছি। এই জনসভা থেকেই সংসদ নির্বাচনে নৌকার ঢেউ তুলতে চাই। মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার আহŸান থাকবে আজ থেকে নৌকা নিয়ে বের হয়ে আগামী দশ মাস জনগণের মন জয় করতে হবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আনতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সম্পাদকমন্ডলীর একাধিক নেতা জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিটি জনসভাতেই ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাটের শোডাউন মানেই ব্যতিক্রমী কিছু দেখতে পায় নেতাকর্মীরা। এবারও তাই ব্যতিক্রমী আয়োজন রেখেছেন তিনি। সে কারণেই তাকে যুবকদের আইকন বলা হয়।
জানতে চাইলে যুবলীগ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের দিনটি আজকের তাৎপর্য ভিন্ন। সে কারণে যুবলীগ ব্যতিক্রমী শোডাউনের আয়োজন করেছে। ঐতিহাসিক দিনকে বিশেষ মর্যাদায় পালন ও জনসভাকে দৃষ্টি নন্দন করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের জনসভা থেকে আমরা রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনাকে জানিয়ে দিতে চাই, দেশের যুব সমাজ আপনার সাথে আছে। আগামীতেও রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনবে।



 

Show all comments
  • তারেক মাহমুদ ৭ মার্চ, ২০১৮, ১১:৫৮ এএম says : 0
    শুভ কামনা রইলো
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ