Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

মোবাইল ব্যাংকিং এক মাসে সক্রিয় হিসাব কমেছে ৩ লাখ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম

 দ্রুততম সময়ে এক স্থান হতে অন্য স্থানে টাকা পাঠানোর অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম মোবাইল ব্যাংকিং। বর্তমানে এ সেবা ব্যবহার করেই মানুষ তাদের পরিবার পরিজন ও নিকটাত্মীয়ের কাছে বেশি টাকা পাঠাচ্ছেন। প্রাপ্ত তথ্য মতে, চলতি বছরের জুনয়ারি শেষে দেশে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহক সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫ কোটি ৯০ লাখ। তবে এ সময়ে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ। আগের মাস ডিসেম্বর পর্যন্ত সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ১০ লাখ। ফলে এক মাসের ব্যবধানে সংক্রিয় হিসাবের সংখ্যা কমেছে ৩ লাখ বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হিসাব খেলা ও পরিচালনায় কড়াকড়ি আরোপের ফলে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা কমেছে।
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে টানা তিন মাস কোনো ধরনের লেনদেন না হলে তা ইন-অ্যাকটিভ বা নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। আর তিন মাসের মধ্যে একটি লেনদেন হলেই তা সক্রিয় হিসেবে বিবেচিত। অবশ্য বড় কোনো অনিয়ম না পাওয়া গেলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে না ব্যাংক। কিন্তু সম্প্রতি মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় অপব্যবহার ঠেকাতে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে হিসাব খেলা ও পরিচালনা এবং লেনদেনে আরও বেশি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, এখন একজন ব্যক্তি একটি সিম দিয়ে যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একটি মাত্র হিসাব চালু রাখতে পারবেন। ওই নির্দেশনার পর যাদের একাধিক হিসাব ছিল তা বন্ধ করা হয়। চলমান রয়েছে, তা দ্রæত বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এই অবস্থায় জানুয়ারি মাস শেষে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন নির্দেশনার আলোকে মোবাইল সেবা প্রদানকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তথ্য হালনাগাদ করায় নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে। সাময়িক সময়ের জন্য সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা কমলেও ভবিষ্যতের জন্য এটা ভালো দিক বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৯৮০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। যদিও এ লেনদেনের পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে সক্রিয় হিসাব কমেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে জানুয়ারি মাসে কিছুটা বেড়েছে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা। ডিসেম্বরে মোট ৫ কোটি ৮৮ লাখ নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থাকলেও জানুয়ারি মাসে এসে তা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৯০ লাখ। আলোচ্য সময়ে মোট লেনদেন হয়েছে ৩০ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। এই সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোট এজেন্টের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯২। বর্তমানে মোট ১৮টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, জানুয়ারি মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেমিটেন্স আসা বেড়েছে ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ। ক্যাশ ইন ট্রানজেকশন হয়েছে ১২ হাজার ৭৭৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ক্যাশ আউট ট্রানজেকশন হয়েছে ১১ হাজার ৬৪৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। পিটুপি ট্রানজেকশন হয়েছে ৪ হাজার ৬৫১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ৪৭৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। বিভিন্ন বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১৯১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার। এই সময়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নগদ প্রদান করা হয়েছে ৪১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সরকারি বিভিন্ন দফতরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা হয়েছে ১১৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সার্কুলারে চলতি মাসের জানুয়ারি থেকে একজন মোবাইল গ্রাহক তার ব্যক্তিগত হিসাবে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকার স্থিতি রাখতে বলা হয়েছে। এর আগে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (এমএফএস) গ্রাহকরা তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল হিসাবে ৩ লাখ টাকার বেশি স্থিতি রাখা যেত। এর আগে গত বছরের ১১ জানুয়ারি মোবাইল ফিনান্সিাল সার্ভিসেস (এমএফএস) এর অপব্যবহার রোধে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়, একজন ব্যক্তি যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় একটি মাত্র হিসাব রাখতে পারবেন। যাদের একাধিক মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব চলমান রয়েছে, তা দ্রæত বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো মোবাইল হিসাবে ৫ হাজার টাকা বা তার তদুর্ধ্ব নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলনে গ্রাহককে পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ডের ফটোকপি প্রদর্শন করতে হবে, যা এজেন্ট তার রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করবেন। এমনকি রেজিস্ট্রারে গ্রাহকের স্বাক্ষর বা টিপসই সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো এজেন্ট এই ধরনের কার্যাদি যথাযথভাবে সম্পন্ন না করলে বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে এজেন্টশিপ বাতিল করারও নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া ঐ নির্দেশনায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় দৈনিক ও মাসিক লেনদেনের সীমা আরও কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর