Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান বদলে যাচ্ছে রাজধানীর চিত্র

প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

উমর ফারুক আলহাদী ঃ বদলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার দৃশ্যপট। ফুটপাত থেকে বহুতল ভবন সর্বত্র চলছে অবৈধ দখলমুক্ত অভিযান। পুরো রাজধানীতে চলছে অবৈধ স্থাপনার উচ্ছেদ কার্যক্রম। সংস্কার করা হচ্ছে জরাজীর্ণ ফুটপাতগুলো। সংস্কার করা হচ্ছে রাস্তা ও নালা-নর্দমা। ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে মহানগরী। আধুনিক মহানগরীর প্রকৃত বৈশিষ্ট অর্জন করতে যাচ্ছে ঘনবসতির এই শহর। বিশেষ করে রাজউকের অভিযানকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর মধ্যে এমনি সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকলে আগামী এক মাসের মধ্যে রাজউকের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার জায়গা জমি অবৈধ দখলদার মুক্ত হবে। এমনিটি জানিয়েছেন রাজউকের কর্মকর্তারা। আজ রোববারও উত্তরা গুলশানসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এ অভিান চলবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, বিআইডব্লিউটিএ রাজধানীজুড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কার্যক্রম চলিয়েছে। এই উচ্ছেদে রাজউককে সহযোগিতা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঢাকা জেলা প্রশাসন।
রাজউকের উত্তরা জোনের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে গত দুইদিন উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ ছিল। আজ থেকে আবার শুরু হচ্ছে। এ সপ্তাহের ৫ দিনই তা চলবে। তিনি আরো জানান, উত্তরা এলাকার সকল অবৈধ কাঁচবাজার উচ্ছেদ করা হবে। কেউ আমাদের এ কাজে বাধা দিলে বা প্রভাব কাটাতে চাইলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্প্রতি ঢাকায় সেবাদানকারী ২৬টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালকে পার্কিংমুক্ত করতে নৌপরিবহনমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী ও বাস-ট্রাক মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করে কিছুদিনের মধ্যেই এসব এলাকা পার্কিংমুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে রাস্তার ওপর থেকে গাড়ি সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে গত ১৮ জানুয়ারি থেকে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ওইদিন ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় ভবনের বেসমেন্টে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। ওইদিন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। গত মঙ্গলবার ধানমন্ডি, গুলশান ও উত্তরার ১ ও ৩ নম্বর সেক্টরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ওই সময় অবৈধভাবে গড়ে তোলা বিভিন্ন স্থাপনা, রাস্তার ওপর র‌্যাম্প ও পার্কিং গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এসব অভিযানে মোট ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া গত বুধবারও ওইসব এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, ধানমন্ডি এলাকায় ৪টি কারপার্কিং, গুলশান এলাকায় ফুটপাতে তৈরি করা ১৫টি র‌্যাম্প ও ১টি কারপার্কিং ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এ সময় ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া কুশল সেন্টারে বেসমেন্টে ১৭০টি দোকান করা হয়েছে। সবগুলো দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন রাজউকের তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল হামিদ, মো. নাসির উদ্দিন ও খন্দকার জাকির। রাজউকের অথরাইজড অফিসার, কর্মচারী ও পলিশের সদস্যরা সহায়তা করেন।
রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) আসমাউল হোসেন বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজউকের আওতাধীন এলাকায় ভবনের বেসমেন্টের অবৈধ বাণিজ্যিক ব্যবহার রোধে সব বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনে অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা ও ফুটপাতে নির্মিত অবৈধ র‌্যাম্প উচ্ছেদ কার্যক্রম গত ১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। বিশেষ এ অভিযান চলবে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে গত মঙ্গলবার আসাদগেট নিউ কলোনিতে ৩টি ভবন ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। কলোনিতে মোট ৭টি ভবন রয়েছে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। অভিযান পরিচালনা করেন সংস্থার দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আজো বিভিন্ন জায়গায় এ অভিযান চালানো হবে।
গত ১৩ জানুয়ারি বুড়িগঙ্গা নদীরপাড়ে সদরঘাট টার্মিনালের পূর্বপাশ থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত এলাকায় প্রায় ৮০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বিআইডব্লিউটিএ। এ সময় গাড়ি পার্কিংয়ের বেসমেন্টেও ভেঙ্গে দেয়া হয়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে এ অভিযান চলে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। অভিযানে বিপুল পরিমাণ র‌্যাব-পুলিশসহ বিআইডব্লিউটিএর কর্মচারী অংশ নেন। ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহায়তা এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে তা অবশ্যই পরিকল্পনা মাফিক হওয়া দরকার। তাহলে অবশ্যই এ অভিযান সফল হবে। কারণ, সকালে বিশেষ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালালে বিকেলে আবার দখল তা হয়ে যায়। তবে, দুই মেয়রের এ তৎপরতা খুবই প্রসংশনীয়। আমার বিশ্বাস তারা সফল হবেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা পবিভাগের অধ্যাপক ড. সারওয়ার জাহান বলেন, দুই সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি রাজউক ও অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ফুটপাতসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যে কার্যক্রম নিয়েছে তা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কারণ নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য ফুটপাত হকারমুক্ত করতেই হবে।
রাজউকের উচ্ছেদ বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন চাপে পড়ে রাজউক এর আগেও এ ধরনের অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পর আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে ওইসব এলাকা। রাজউক যদি এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে না পারে, তাহলে বলতে হবে তাদের এই উচ্ছেদ কার্যক্রম লোক দেখানো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ