Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

অশনি সংকেত শোনালেন বুলবুল

নির্বাচকদের যোগ্যতা নিয়েই সন্দিহান ফারুক

স্পোর্টস রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম

দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপের দাবি করে বছর দেড়েক আগে প্রধান নির্বাচকের পদ ছেড়েছিলেন ফারুক আহমেদ। তার দায়িত্বের সময় প্রধান কোচ থাকা চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ছিল অঢেল ক্ষমতা। তখন প্রশ্ন উঠত, নির্বাচকদের কাজ কি তবে? হাথুরুসিংহে যাওয়ার পরও নাকি বদলায়নি পরিস্থিতি, ফারুকের মতে এখনো নির্বাচকরা স্বাধীন নন। এমনকি তারা যথেষ্ট যোগ্য কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। গতকাল মিরপুর একাডেমি মাঠে কোলকাতার একটি ক্লাবের বিপক্ষে সাবেকদের হয়ে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে এসেছিলেন ফারুক। এসময় বাংলাদেশ ক্রিকেটের সা¤প্রতিক দশা, দল নির্বাচনে অস্থিরতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
ঘরে কিংবা বিদেশের মাটিতে- সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের। একের পর এক ম্যাচ হারছে দল, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও নেই স্বস্তি। এই পরিস্থিতির জন্য ফারুক দুষছেন দল নির্বাচনকেও। ভালো দল বানাতে নির্বাচকদের স্বাধীনতা থাকাটা খুবই জরুরি বলে মনে করেন বাংলাদেশের সেরা সময়ে নির্বাচক হিসেবে কাজ করা ফারুক, ‘নির্বাচকদের স্বাধীনতা থাকতে হবে। প্রথমেই ঠিক করতে হবে, কাকে নির্বাচক বানাবেন। তার যোগ্যতা কতটুকু আছে। আর সে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে কি না। বোর্ডের হাতেই সব ক্ষমতা। বোর্ড নির্বাচকদের একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্বাধীনতা দিয়ে দেখতে পারে। যদি এর মধ্যে ভালো ফল না আসে, তাহলে তো সেই নির্বাচক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সব ক্ষমতা বিসিবির আছে। আমি তো মনে করি এখনকার নির্বাচকদের ক্ষমতা খুবই কম। তারা স্বাধীনভাবে তো কাজ করতেই পারে না, তাদের যোগ্যতা নিয়েও কথা হতে পারে।’
বোর্ড বর্তমান নির্বাচকদের জবাবদিহির বাইরে নিয়ে গেছে বলেই মনে করেন ফারুক, ‘আমাদের আবার আগের জায়গায় ফিরে যাওয়া উচিত। আগে যেমন নির্বাচক কমিটি দিয়ে কাজ হতো, ঠিক তেমনই। কমিটি থাকলে জবাবদিহির ব্যাপার থাকে। এখন কোনো নির্বাচককে যদি দল নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করেন, সে কিন্তু বলতে পারবে না।’
প্রধান নির্বাচক হিসেবে সাফল্যের সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করেছেন অতীতে। বছর দেড়েক আগে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। নিজের সিদ্ধান্তটা যে ঠিক ছিল, আজ সেটা পরিষ্কার বুঝতে পারছেন তিনি, ‘আমি জানতাম এমন কিছুই হবে। সে কারণে দেড় বছর আগে প্রধান নির্বাচকের পদ ছেড়ে দিয়েছিলাম। দল যখন ভালো করে, তখন অনেক কিছুই চোখে পড়ে না। দল যদি খারাপ করে, তখন সমস্যাগুলো সামনে চলে আসে। যদি নির্বাচক অনেক থাকে, তাহলে সমস্যা হবেই। তখন একজন বলবে, অমুককে নিলে ভালো হতো, আরেকজন বলবে, তাকে নাও। আসলে এমন পরিস্থিতিতে কে সিদ্ধান্তটা নিল, সেটা বোঝা যায় না। এখন আমরা দেখি, ম্যাচ শুরুর আগের দিন খেলোয়াড় ঢোকানো হচ্ছে। এটা নির্বাচকেরা কতটুকু জানেন, আমরা জানি না। পত্রিকায় পড়েছি, আসলে তাঁরা এসবের কিছুই নাকি জানেন না।’
দলকে আবারও সাফল্যের রাস্তায় তুলতে উপায়ও বাতলে দিয়েছেন ফারুক, ‘যেকোনো ভালো কাজ আসলে এমনি এমনি হয় না। এর পেছনে একটা প্রক্রিয়া থাকে। এই প্রক্রিয়াটা থেকে বোধ হয় আমরা বেশ দূরে সরে এসেছি। এই জিনিসটা ঠিক করা দরকার। এই যেমন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজ ও ত্রিদেশীয় সিরিজে ৩২ জন খেলোয়াড়কে ডাকা হয়েছে। তিন সংস্করণ মিলে খেলেছে ২৮ জন। এতে খেলোয়াড়েরা নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়। দলটাকে থিতু করতে হবে। ২৮ জন খেলোয়াড়কে তিন সংস্করণে খেলানোর কোনো যুক্তিই নেই। ঠিক করতে হবে আমরা কোন খেলোয়াড়কে কোথায় খেলাতে চাই। দল নির্বাচনে ইদানীং খুব বেশি পরিবর্তন হচ্ছে।’
সাবেক প্রধান নির্বাচকের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে না গেলেও একই দিনে জনপ্রিয় এক ক্রিকেট ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সম্ভাব্য ভয়াবহতার যে কথা জানিয়েছেন দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম বুলবুল তাতে ক্রিকেট আকাশের মেঘ বেশ কালো বলেই ধরে নিতে হচ্ছে, ‘সাকিব, মাশরাফি, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা গত ১০ বছরে ঘরোয়া ক্রিকেট সহ প্রায় ৪০০ টেস্ট বা ৯০০ ওয়ানডে খেলে ফেলেছে। ওদের সা¤প্রতিক ক্রিকেটে তাই আস্থা রাখাই যায়। কিন্তু বাকীরা কি? ইতিমধ্যেই সাকিবের অভাবে দল ভুগতে শুরু করেছে।’ সাবেক এই অধিনায়ক কারণ হিসেবে যোগ করেন, ‘আমাদের আসলে পাইপলাইনে কোনো ক্রিকেটার নেই। সবসময় একজনের ভালো পারফর্মেন্স সামনে আসাতে বাকিদের খারাপ পারফর্মেন্স পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই পাইপলাইনে ভালো কোনো ক্রিকেটার আসছে না।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর