Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩ পৌষ ১৪২৫, ৯ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

নানজীবা খান: এক বহুমুখী প্রতিভার আধার

বিনোদন রিপোর্ট | প্রকাশের সময় : ১৪ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম

নানজীবা খানের বয়স এখনও ১৮ হয়নি। এই বয়সেই বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন এই টিনএজার। তার প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রগুলো বিবেচনায় নিলে বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না। ট্রেইনি পাইলট, সাংবাদিক, নির্মাতা, উপস্থাপিকা, লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর এবং বিতার্কিক। আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল-এ ‘ট্রেইনি পাইলট’ হিসেবে এখণ অধ্যয়ন করছেন। এছাড়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম (হ্যালো)-র সাংবাদিক, বিটিভির নিয়মিত উপস্থাপক, ব্রিটিশ আমেরিকান রিসোর্স সেন্টারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছেন। প্রামান্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পেয়েছেন ইউনিসেফের মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। লেখক হিসেবে এবারের বই মেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘অটিস্টিক শিশুরা কেমন হয়’। প্রথম সংস্করণের সব বই বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। বইটির প্রচ্ছদও করেছেন নানজীবা নিজে। তথ্যসমৃদ্ধ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক সমাদৃত হয়েছে। নানজীবার শুরুটা হয়েছিল পাঁচ বছর বয়সে রঙ তুলি দিয়ে। মায়ের হাত ধরে গিয়েছিল কিশলয় কচিকাঁচার মেলায় ছবি আঁকা ও আবৃত্তি শিখতে। ২০০৭ সালে জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতা জয়নুল কামরুল ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেন পেন্টিং কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ এবং পুরস্কার অর্জন করেন। জীবনের প্রথম অর্জনই ছিল আন্তর্জাতিক। সেই থেকে পথ চলা শুরু। ছবি আঁকার জন্য বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার তার ঝুলিতে জমা হয়। ছবি আঁকার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতেও প্রশিক্ষণ নেন। বিভিন্ন দিবসগুলোর সকাল থেকে সন্ধ্যা কাটতো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মঞ্চে কবিতা আবৃত্তি করার মাধ্যমে। ২য় শ্রেণীতে পড়াকালীন বিটিভির ‘কাগজ কেটে ছবি আঁকি’ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মিডিয়ায় তার পথ চলা শুরু। বর্তমানে বিটিভিতে ‘আমরা রঙ্গিন প্রজাপতি’, ‘আমাদের কথা’, ‘আনন্দ ভুবন’, ও ‘শুভ সকাল’ অনুষ্ঠান উপস্থপনা করছেন। ১৩ বছর বয়সে জীবনের প্রথম স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচিত্র ‘কেয়ারলেস’ পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র ‘সাদা কালো’র জন্য ‘ইউনিসেফের মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন। আর এটি তৈরি করতে যা টাকা খরচ হয়েছে তার সবই ছিল তার টিফিনের জমানো টাকা। তারপর ‘গ্রো আপ’, ‘দ্য আনস্টিচ পেইন’সহ আরও কিছু প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন নানজীবা। ৮ম শ্রেণীতে পড়াকালীন শিশু সাংবাদিক হিসেবে জীবনের ১ম সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সংস্কৃতিমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ভ‚মিমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী,সমাজকল্যান মন্ত্রী, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, মেয়র সাঈদ খোকনসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট মানুষ যেমন- সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, সেলিনা হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, হাবিবুল বাশার, আবেদা সুলতানা, সাদেকা হালিম, নিশাত মজুমদার, ফরিদুর রেজা সাগর, জুয়েল আইচ, মীর আহসান, র‌্যাবের প্রধান বেনজির আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফেরদৌস, ওয়ার্ল্ড ডিবেট সোসাইটির পরিচালক অ্যালফ্রেড স্পাইডার ও ভারতের রক্ষামন্ত্রীসহ ৭৫ জন বিশিষ্ট জনদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। একাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন দ্বায়িত্ব পালন করেছেন ক্যামব্রিয়ান ডিবেটিং সোসাইটির ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে। স্কুল ও কলেজ জীবনে বিতার্কিক হিসেবে অর্জন করেছেন বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার। পেয়েছেন উপস্থিত ইংরেজি বক্তৃতায় বিএনসিসি ও ভারত্বেশ্বরী হোমসের প্রথম পুরস্কার। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াকালীন ‘বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর থেকে ৩ ধাপে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষার পরে সারা দেশের হাজার হাজার ক্যাডেটদের মধ্য থেকে বিএনসিসি-র সবচেয়ে দীর্ঘ এবং ব্যয়হুল সফর ভারতে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাৎ এবং রক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ হয়। রাশিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, কাজাকিস্তান, কিরগিজস্তান, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপসহ মোট ১১ টি দেশের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ‘রাইফেলে ফায়ারিং’, ‘অ্যাসোল্ট কোর্স’, ‘বেয়নোট ফাইটিং’ ও ‘সশস্ত্র সালাম’। এত গুণে গুণান্বিত নানজীবা বিনয়ের স্বরে বলেন, ‘কাজ শেখার চেষ্টা করছি। আর সবার দোয়ায় আশা করি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। আমি কখনই শুধু দেশ নিয়ে ভাবিনা। আমার লক্ষ্য সবসময় আন্তর্জাতিক। আমি চাই মানুষ নানজীবাকে দিয়ে গোটা বাংলাদেশ চিনুক। মিডিয়া সমপর্কে তিনি জানান, শুধু মিডিয়া না, আমি মনে করি প্রত্যেক সেক্টরে কাজ করতে হলে কৌশলী হতে হবে। কারণ আমার মতে একটি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ দুইটি পিঠই থাকে। তাই অবস্থা বুঝে কৌশল অবলম্বন করে ব্যবস্থা নিতে হবে। রাতারাতি তারকা হওয়া হয়তো অনেকটাই সহজ, কিন্তু সেই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন। তাই কাজ শিখছি এবং পরবর্তীতে মিডিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি। সেই সাথে আকাশে ওড়ার স্বপ্নও পূরণ করতে চাই। আর আমার সব কাজের প্রেরণা আমার ছোট ভাই ও আমার মা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর