Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩ পৌষ ১৪২৫, ৯ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

নদীর পানি নিয়ে ধোঁকাবাজি বন্ধ করতে হবে

জামালউদ্দিন বারী | প্রকাশের সময় : ১৪ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম

কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ চেষ্টার বাইরেও মুক্তবাজার অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুুক্তির অবাধ ও ব্যাপক বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে দেশে দেশে মানুষে মানুষে যে তথ্যবিনিময় ও আন্তসম্পর্কের মেলবন্ধন গড়ে উঠেছে তাতে রাষ্ট্র ও সরকারের তেমন কিছুই করণীয় নেই। পুঁজিবাদি ব্যবস্থা যদিও সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে, পাশাপাশি একইভাবে মানবাধিকার, পরিবেশগত ও টেকসই উন্নয়নের মত বিষয়গুলো নিয়ে সমাজে ব্যাপক সচেতনতা তৈরী হচ্ছে। এ কারণেই বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার যখন দুই দেশের পারস্পরিক বন্ধুত্ব এক অনন্য উচ্চতায় পৌছে যাওয়ার দাবী করে, তখন দেশের সাধারণ মানুষের কাছে এসব দাবীর গ্রহণযোগ্যতা বাস্তবতার মানদন্ড যাচাই হয়েই স্বীকৃতি পায়। আমরা দেখছি নদনদীতে পানি সংকটের কারণে দেশের দুই তৃতীয়াংশ কৃষিজমিতে সেচের জন্য পুরোপুরি ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে আমাদের। দেখছি, ভারতীয় পানি আগ্রাসনের কারণে নদনদীগুলো মরে যাচ্ছে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পদ্মা, তিস্তাসহ অসংখ্য শাখানদী মরে গিয়ে এসব নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে এবং সন্নিহিত লোকালয়ে মরুপ্রক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নদী বিধৌত পলিমাটি দিয়ে গঠিত একটি ব-দ্বীপ অঞ্চলে নদনদী মরে গেলে এমন বিপজ্জনক ও চরম ভাবাপন্ন প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়াই স্বাভাবিক। সত্তুরের দশকে ভারত গঙ্গার উপর ফারাক্কা বাঁধ চালুর শুরু থেকেই দেশি-বিদেশি পরিবেশবাদী ও আন্তর্জাতিক পানি বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে বলে ভবিষ্যদ্বানী করেছিলেন। একটি আন্তর্জাতিক নদীর উপর কোন দেশ এককভাবে বাঁধ নির্মান বা পানি প্রত্যাহারের মত কোন তৎপরতা চালাতে পারেনা। ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মানের সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল, পাকিস্তানের বিরোধিতার কারণে ভারত কখনো এই বাঁধ চালু করতে পারবে কিনা। নিদেনপক্ষে কোন পানিচুক্তি ও অবববাহিকা ভিত্তিক পানিব্যবস্থাপনার গ্যারান্টি ক্লজ ছাড়া যৌথ নদীতে নির্মিত এই বাঁধ চালুর কোন সুযোগই ছিলনা। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সহায়তা ভারতকে যৌথ নদীর উপর যথেচ্ছ বাঁধ নির্মান ও পানিপ্রত্যাহার করে নদী অববাহিকাকে পানি বঞ্চিত করার সুযোগ এনে দিয়েছে।
পঁচাত্তর সালে ফারাক্কা বাঁধ নির্মান কাজ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের সাথে কোন রকম আলোচনা বা চুক্তি ছাড়াই ফারাক্কা বাঁধকে অপারেশনাল করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে বাঁধ চালু করা হচ্ছে বলে এই অবৈধ কাজটিকে তখন জায়েয করা হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের সময় এ নিয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়
সে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনেক দিন কোন চুক্তি ছিলনা। অবশেষে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের সাথে মুখরক্ষার খাতিরে একটি যৌথনদী কমিশন ও গঙ্গার পানিচুক্তি সম্পাদিত হলেও বাংলাদেশ কখনো এই চুক্তি অনুসারে পানি পায়নি। বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য হিস্যা দেয়া বা নদীর প্রবাহমানতা ঠিক রাখার নিশ্চয়তাও পানিচুক্তিতে নেই। অন্যদিকে যৌথ নদীর পানিব্যবস্থাপনার জন্য ১৯৭২ সালে নাম কা ওয়াস্তে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) গঠিত হলেও এই কমিশন কখনো তার লক্ষ্য অর্জনে কাজ করেনি। পানিচুক্তির পরও গঙ্গার পানি থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে পদ্মার বিস্তীর্ণ এলাকা শুকিয়ে গেছে, পানির অভাবে পদ্মার অসংখ্য শাখানদী ও সংযোগ খাল শুকিয়ে অস্তিত্বহীন হলেও ভারতীয়দের অনীহার কারণে বছরের পর বছর ধরে জেআরসি’র কোন বৈঠক হয়নি। এভাবেই সুজলা-সুফলা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা অববাহিকাকে পরিকল্পিত উপায়ে মরুময় করে তোলা হয়েছে। এরপরও আমাদের সরকার ভারতের সাথে যে নিবিড় বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকছে তাতে নিজেদের দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থ থাকলেও দেশ, মাটি ও মানুষের কোন স্বার্থ নেই।
তিস্তার পানিচুক্তি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিন দশকের বেশী সময় ধরে একটি জ্বলন্ত ইস্যু। ভারতের অমিমাংসিত সমুদ্রসীমা বিরোধ নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতের স্মরণাপন্ন হলেও যৌথনদীর পানি বিরোধ প্রশ্নে দেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বাংলাদেশের কোন সরকারই আন্তর্জাতিক আইনগত মিমাংসার পথে যায়নি। সমস্যা সমাধানে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও চুক্তিকে প্রাধান্য দেয়ার ভারতীয় নীতিকে পাশ কাটিয়ে দেশের কোন সরকারই গঙ্গা ও তিস্তার পানিচুক্তির প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশনে যায়নি। যেখানে যৌথ নদীতে বাঁধ নির্মান ও পানিপ্রত্যাহার ও প্রবাহ আটকে দেয়ার কারণে বাংলাদেশের বিশাল এলাকায় মরুপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেখানে দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ জীববৈচিত্র, খাদ্য নিরাপত্তা বড় ধরনের হুমকির সম্মুখীন, সেখানে তথাকথিত বন্ধুত্ব ও সুসম্পর্কের দাবী হাস্যকর ও পরিহাসপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। যখন ভারতের পানি আগ্রাসন বাংলাদেশের ভ‚-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, খাদ্য, কৃষি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন আমাদের সরকার কোন স্বার্থে ট্রানজিট, ট্রানশিপমেন্টের নামে বিনাশুল্কে ভারতকে করিডোর সুবিধা, স্থল, নৌ ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে আমাদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকেও নস্যাৎ করছে? ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার আগে যারা ট্রানজিটের পক্ষে ওকালতি করতেন, তারা বলতেন, ভারতীয় ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট থেকে প্রাপ্ত শুল্কের টাকায় বাংলাদেশ একদিন ধনী হয়ে যাবে। বাংলাদেশের ট্রানজিট সুবিধা নিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা তিনভাগের একভাগ সময় ও খরচে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে পণ্য পাঠাতে পারছে। যেখানে প্রতিটন পণ্যে ২০০ডলার খরচ এবং ১০-১২ দিনের স্থলে ৪-৫দিনেই পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে, সেখানে প্রতিটন পণ্যে ৫ হাজার টাকা মাশুল দিলেও তাদের লাভ। ট্যারিফ নির্ধারন সংস্ক্রান্ত একটি কমিটি প্রতিটন পণ্যের জন্য এক হাজার টাকা মাশুল নির্ধারণের প্রস্তাব করলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রস্তাব ছিল প্রতিটন পণ্যে সর্বসাকুল্যে ট্রানজিট ফি ৫৮০ টাকা। হাজার হাজার কোটি টাকার অবকাঠামো ব্যবহার, বাংলাদেশের সাথে উত্তর-পূর্ব ভারতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার উপর বিরূপ প্রভাব ইত্যাদি বিবেচনায় প্রস্তাবিত ট্যারিফ খুবই কম। এরপরও বাংলাদেশের কোন প্রস্তাবেই ভারত রাজি না হয়ে তাদের চাপিয়ে দেয়া টনপ্রতি ১৯২ টান ট্রানজিট ফিতে বাংলাদেশের সব সুবিধা ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের সুবিধা নিচ্ছে ভারত। বাংলাদেশের রাস্তা, বন্দর ও অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের কাছ থেকে প্রাপ্য মাশুল চাইতেও নাকি দেশের একশ্রেনীর মন্ত্রী, আমলা ও রাজনৈতিক নেতার লজ্জা লাগে। তথাকথিত বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে তারা সবকিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত হলেও বাংলাদেশ মরুভ‚মি হয়ে গেলেও যৌথ নদীর পানি বন্টন বিষয়ে তাদের বন্ধুৃত্বের কথা মনে থাকেনা। যৌথ নদী বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন-কানুন, কনভেনশন তো আছেই, এমনকি ভারতীয় সুপ্রীমকোর্টও সম্প্রতি এক আদেশে কোন রাজ্যের একক সিদ্ধান্তে নদনদীর উপর বাধ নির্মান বা পানিপ্রত্যাহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে জানা যায়। এমনকি ভারতের শত্রæরাষ্ট্র বলে কথিত পাকিস্তানের সাথেও ৬ দশক ধরে সিন্ধুর পানিচুক্তি বহাল আছে। বিভিন্ন সময়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ এবং চরম উত্তেজনাকর অবস্থা তৈরী হলেও বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে সম্পাদিত ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধুর পানিচুক্তি কখনো লঙ্ঘিত হয়নি। অথচ ভারতের জন্য সবচে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও নিকটতম বন্ধুরাষ্ট্র বাংলাদেশ গত ২২ বছরেও গঙ্গার পানিচুক্তি অনুসারে পানি পায়নি। তিরিশ বছরেও তিস্তার পানিবন্টনে ভারতকে টেবিলে বসানো সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও রাজনৈতিক ট্রানজিশনের আগে বাংলাদেশের সামনে তিস্তার পানি বন্টনের মুলা ঝুলানো হয়েছে। এভাবেই যৌথ নদীর পানি বন্টন প্রশ্নে গত সাড়ে চারদশক ধরে নানা অজুহাতে ভারতীয় শাসকদের সময়ক্ষেপণ ও প্রতারনার শিকার হচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করতে পশ্চিমাবিশ্বসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভ‚মিকার উল্টো ভ‚মিকা রাখছে ভারত। এমনকি রোহিঙ্গা সংকটের মত আঞ্চলিক-মানবিক সংকটেও বাংলাদেশকে ছেড়ে মিয়ানমারকেই সমর্থন করছে ভারত। রাখাইনে চীনের বিশাল অঙ্কের শিল্প বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের ভ‚মিকা বাংলাদেশের স্বার্থের প্রতিকূলে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক কৌশলগত মিত্র হিসেবে এবং বিশ্বসম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভারতের ভ‚মিকা বাংলাদেশের পক্ষে যাওয়াই ছিল স্বাভাবিক ও প্রত্যাশিত। তবে রোহিঙ্গা গণহত্যা প্রশ্নে জাতিসংঘের ভোটাভুটিতে চীনের ঘনিষ্ট মিত্র পাকিস্তান কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক নেতারা বর্তমানের বাস্তবতা অস্বীকার করে অতীতের চশমায় দেশের শত্রু-মিত্র নির্ধারণ করছেন। একদশক আগে বাংলাদেশে এক-এগারোর সেনা সমর্থিত সরকারের উপর ভারতের প্রভাব, ২০০৮ সালের নির্বাচন এবং ২০১৪ সালের একপাক্ষিক ও ভোটারবিহীন নির্বাচনে ভারতের প্রভাব সম্পর্কে ইতিমধ্যেই আমরা জেনেছি। সম্প্রতি প্রকাশিত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি মি: প্রনব মুখার্জির আত্মজীবনীমূলক বই, ‘বাই দ্য কোয়ালিশন ইয়ার্স-১৯৯৬-২০১২’তে এ সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা গেছে। তবে বইয়ের ভ‚মিকায় প্রণব বাবু নিজেই বলেছেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই অনেক গোপণ তথ্য এড়িয়ে গেছেন। গোপণ তথ্য প্রকাশ করুন আর নাই করুন, দুই প্রতিবেশী দেশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে সরকারগুলো কী ভ‚মিকা রাখছে তার প্রতি সর্বদাই দেশের সাধারণ মানুষের তীক্ষ নজর রয়েছে। ভেতরের সত্য যাই থাক, নাগরিক সমাজের পারসেপশন আধুনিক রাষ্ট্রসমুহের দ্বিপাক্ষিক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভাবমর্যাদার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক বক্তব্যগুলো বিরক্তি ও ব্যঙ্গাত্মকভাবে গ্রহণ করছে দেশের সাধারণ মানুষ। এ ধরনের বক্তব্য দুই দেশের জনগনের সাথে জনগনের ও পারস্পরিক আস্থা ও সামাজিক-রাজনৈতিক মেলবন্ধনের সম্ভাবনাকেও নষ্ট করে দিচ্ছে। আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক কোন দল বা গোষ্ঠির স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে দেশ, মাটি ও মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণের প্রতি নিবদ্ধ হলেই তা সত্যিকার অর্থে বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এ ক্ষেত্রে প্রত্যাশা ও বাস্তবতায় যোজন যোজন দূরত্বে অবস্থান করছে। দেশের মানুষ ভারতের সাথে অবাস্তব বন্ধুত্বের নামে ভারসাম্যহীন সম্পর্কের খড়গের নিচে থাকতে চায়না। প্রতিবেশী দেশের সাথে সত্যিকার অর্থে সহযোগিতামূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আস্থার সম্পর্ক দেখতে চায়। দুই দেশের ক্ষমতাসীন রাজনীতিকরা কি ব্যক্তি, পরিবার ও গোষ্টিগত সম্পর্কের উর্দ্ধে উঠে সত্যিকার অর্থে আন্ত:রাষ্ট্রীয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভীত গড়ে তোলায় উদ্যোগী হবেন? গঙ্গা-তিস্তাসহ যৌথ নদীর পানিবন্টনে ভারতের সদিচ্ছার প্রতিফলনই হবে তেমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মানদন্ড। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের মানুষ আর তিস্তার পানিবন্টন চুক্তির আশ্বাসের মূলা দেখতে চায়না। উষর বালুময় ভ‚মিতে তৃষ্ণার্ত বুকে আমরা এখন পানি চাই পদ্মায়, তিস্তায়, যমুনা, করতোয়া বাঙালি নদীর শুকনো জমিনে। নদীর কোন রাজনৈতিক সীমানা নেই। গত সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদল্লীতে হাজার হাজার কৃষক আন্ত:নদী সংযোগ প্রকল্প বন্ধের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আমাদের প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গিয়ে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা দাবী করেছেন। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মত নরেন্দ্র মোদিও মমতাকে রাজি করানোর কথা বলেছেন। বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকারের প্রশ্নে দশকের পর দশক ধরে এভাবেই আশ্বাস দিয়ে চলেছে ভারত।
bari_zamal@yahoo.com



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর