Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮, ১১ আষাঢ় ১৪২৫, ১০ শাওয়াল ১৪৩৯ হিজরী

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী মে’র বক্তব্য ছিল সার্কাস : রাশিয়া

রাশিয়ার কাছ থেকে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা না পেলে পাল্টা পদক্ষেপ : মে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৪ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম

পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচর ও তার মেয়েকে হত্যাচেষ্টার পেছনে ‘সম্ভবত মস্কোই জড়িত’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিসা মে। গত সোমবার পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর যে নার্ভ এজেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, তা রাশিয়ায় বানানো সামরিক ঘরানার। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলবও করেছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর, খবর বিবিসির। ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রতিক্রিয়া’ না পেলে যুক্তরাজ্য পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচরের ওপর হামলার ঘটনাকে মস্কোর ‘বেআইনী বলপ্রয়োগ’ হিসেবে বিবেচনা করবে বলেও জানিয়েছেন মে। সাবেক গুপ্তচরের ওপর রাসায়নিক হামলার প্রেক্ষিতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে মে জানিয়েছেন। রাশিয়ার কাছ থেকে ‘পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা’ না পেলে আজ বুধবারেই হাউজ অব কমন্স থেকে নিষেধাজ্ঞাসহ ওই পাল্টা পদক্ষেপগুলো ঘোষিত হতে পারে বলে ধারণা বিবিসির। যুক্তরাজ্যের কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যাচেষ্টায় রাশিয়ার যোগসূত্র পাওয়া গেলে ব্রিটিশ সরকার মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং কূটনীতিক বহিষ্কার করাসহ একাধিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে ফেলেছে। অপর এখ খবরে বলা হয়, ব্রিটেনে সাবেক রুশ গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপালকে বিষ প্রয়োগের সঙ্গে মস্কোকে জড়ানোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা। তিনি বলেছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পার্লামেন্টে এ বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা ছিল সার্কাস। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে গত সোমবার পার্লামেন্টে বলেছেন, রাশিয়ার সাবেক গোয়েন্দা ও তার মেয়েকে বিষ প্রয়োগ করার পেছনে খুব সম্ভবত মস্কো জড়িত। রুশ মুখপাত্র তার ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি উসকানিমূলক পদক্ষেপ। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে এ ধরনের দাবি করা হচ্ছে। সমপ্রতি ব্রিটেনে রাশিয়ার সাবেক গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের শরীরে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। ব্রিটেনের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে স্ক্রিপালকে রাশিয়ায় ১৩ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়েছিল। পরে তিনি ব্রিটেনে আশ্রয় পান। স্ক্রিপাল একসময় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউয়ের কর্নেল ছিলেন। বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে ২০০৬ সালে রাশিয়া তাকে কারাদন্ড দিলেও পরে এক সমঝোতার আওতায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ ইংল্যান্ডে সলসবেরির উইল্টশায়ারে একটি পার্কের বেঞ্চে পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের ওপর নার্ভ গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল বলে পরে পুলিশ নিশ্চিত করে। বাবা ও মেয়ের ওপর বিষাক্ত রাসায়নিক হামলায় ব্যহৃত নার্ভ এজেন্টটি শনাক্ত করা হয়েছে, এটি নভিচক নামে পরিচিত বলে জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। “হতে পারে এটি (হামলা) আমাদের দেশের বিরুদ্ধে রুশ সরকারের সরাসরি পদক্ষেপ, কিংবা হতে পারে তারা (রাশিয়া সরকার) ক্ষতিকর ও ভয়াবহ মাত্রায় ধ্বংসাত্মক এ নার্ভ এজেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, যার ফলে এটি অন্য কারও হাতে চলে গেছে,” বলেন মে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরিস জনসন এ নিয়ে যুক্তরাজ্যে নিয়োজিত রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন। মস্কোকে নভিচক কর্মসূচির আদ্যোপান্ত এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব কেমিকেল উইপনসের কাছে দিতে হবে বলে বরিস রাষ্ট্রদূতকে বলেছেন, ভাষ্য কনজারভেটিভ দল প্রধানের। বিবিসি, রয়টার্স,পার্সটুডে।

 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর