Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারিদের জনগণের সেবক হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:০৬ এএম, ১ এপ্রিল, ২০১৬

বিশেষ সংবাদদাতা : প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দূর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে জনগণের সেবক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সব সময় জনগণের সেবা করা প্রজাতন্ত্রের প্রতিটি সদস্যের কর্তব্য। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার  সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ৬০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে প্রত্যেকের দায়িত্ব মানুষের জন্য কাজ করা, মানুষের সেবা করা এবং কিভাবে এই দেশকে আমরা উন্নত করবো সেই চিন্তা করা। কারণ জনগণের অর্জিত অর্থ থেকে বেতন ভাতা সব কিছু আসে। ওই কৃষক, সাধারণ মানুষের কাছে থেকে আসে। সাধারণ মানুষকে কখনও অবহেলা না করারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি দেশকে কিভাবে উন্নত করা যায়- সে পরামর্শ দেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জনগণের জন্য অপরিসীম ভালবাসা হৃদয়ে ধারণ করার জন্য সিভিল সার্ভিসের নবনিযুক্ত ক্যাডারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জনগণের সর্বোত্তম সেবাদান ও সাফল্য অর্জনে সর্বাগ্রে পূর্বশর্ত হলো ‘দেশপ্রেম’।
তিনি বলেন, আপনাদের অবশ্যই জনগণকে ভালবাসতে হবে এবং সর্বাগ্রে দেশকে জানতে হবে। তিনি বলেন, অবশ্যই দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন জোরদারে গৃহীত প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে। সর্বোপরি আপনাদেরকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংবিধানের ২১(২)-ধারাটি সর্বদা মনে রাখার জন্য নতুন ক্যাডারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিভিল সার্ভিসের প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সেবায় সর্বোত্তম প্রয়াস চালিয়ে যাওয়া।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অবশ্যই প্রতিটি জনগণের সামাজিক নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ‘আমি কোন দুর্নীতিতে নিজেকে জড়াবো না অথবা কারো দুর্নীতি প্রশয় দেব না’ এই আদর্শ নিয়ে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী উন্নয়ন প্রকল্প যাতে যথাযথ মান বজায় রেখে বাস্তবায়ন হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য ক্যাডারদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রকল্প গ্রহণকালে জনগণের স্বার্থ সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার পাবে। তিনি পরিবেশ ও মাতৃসম প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদিক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং বিএপিটিসি’র রেক্টর এএলএম আবদুর রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। অংশগ্রহণকারীদের পক্ষে হিয়া পাল এবং সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বক্তব্য রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধকালে বাঙালি সরকারি কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক সরকারি কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং দেশকে মুক্ত করতে শাহাদাৎবরণ করেছেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনেও সরকারি কর্মকর্তারা ব্যাপক অবদান রেখেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা লাভের পরপরই ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ এবং পাশাপাশি একটি স্বাধীন দেশের উপযোগী প্রশাসন ব্যবস্থা চালুর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর পরবর্তী শাসকরা এসব গণমুখী উদ্যোগ বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে জনগণের মধ্যে ব্যাপক বৈষম্য দেখা দেয় এবং তারা দেশকে পিছনের দিকে নিয়ে গিয়েছিল ও একটি এলিট গ্রুপ সৃষ্টি করেছিল।
দেশের বর্তমান অনগ্রসরতা, দুর্নীতি, ধনী-দরিদ্র বৈষম্যের জন্য ৭৫ পরবর্তী সময় মিলিটারি শাসনকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতাদখল করে গণমুখী সব ব্যবস্থা একে একে ধ্বংস করা হয়। আজকে আমরা দুর্নীতির যে বিস্তার দেখছি, এটা মিলিটারি রুল যখন কোনো দেশে থাকে তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে বক্তৃতা দিয়ে এসেই সেই দুর্নীতির উপরই আশ্রয় নেয়- দুর্নীতির প্রসার ঘটায়, দুর্নীতিকেই তারা নীতি হিসেবে গ্রহণ করে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারি কর্মকর্তাদের কল্যাণের জন্য তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, কর্মকর্তাদের অবসর গ্রহণের বয়স বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ১২৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আমার জানা নেই অন্য কোন দেশ বা সরকার সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা এতা বেশি বৃদ্ধি করে কিনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ফলে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্তুষ্টি বিরাজ করবে, তাদের পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে এবং তাদেরকে দুর্নীতি থেকে দূরে রাখবে।
কর্মক্ষেত্রে উৎকর্ষ লাভের জন্য প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার কর্মকর্তাদের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাদের জন্য স্থানীয় ও বিদেশী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
তিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির বিষয়ে নতুন সরকারি কর্মকর্তাদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, তারা একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গত ৭ বছরে অসংখ্য নতুন পদ সৃষ্টি করেছি। প্রতিটি ক্যাডারে ব্যাপকভাবে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত আমরা ১১৩ জনকে সচিব, ৬০৯ জনকে অতিরিক্ত সচিব, ১৪১১ জনকে যুগ্ম সচিব এবং ১৪৩৪ জনকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছি। দেশের ইতিহাসে এত বেশি পদোন্নতি ইতোপূর্বে কখনও দেয়া হয়নি।
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে আমাদের প্রশিক্ষণ জরুরি। প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো কাজের উৎকর্ষ সম্ভব নয়।
পড়ালেখার কোনো বয়স নেই। যত বেশি পড়ালেখা হবে ততবেশি ভালোভাবে কর্মসম্পাদন করা সম্ভব হবে। এতে দেশ উপকৃত হবে, মানুষ উপকৃত হবে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের জন্য বিপিএটিসি-তে অবকাঠামো না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে অবিলম্বে কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেন।অনুষ্ঠানে মেধাবী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন