Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

সাটু‌রিয়ার শাওন জানে না তার স্ত্রী শশী আর নেই

সাটু‌রিয়া (মা‌নিকগঞ্জ) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২০ মার্চ, ২০১৮, ৩:৫০ পিএম

বিবাহ বা‌র্ষিকী পালন করতে স্বামী স্ত্রী যাচ্ছিলেন নেপালের কাঠমান্ডুতে। কিন্তু কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার আগেই তাদের বহনকারী ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হলে প্রাণ হারায় স্ত্রী তাহিরা তানভিন শশী রেজা। আর এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে প্রথ‌মে নেপালের ওএম হাসপাতালে ও প‌রে সিংগাপু‌রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার স্বামী ডা. রেজাউনুল হক শাওন।
স্বামীর সঙ্গে বিবাহবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে নেপাল থেকে লাশ হয়ে ফিরে এলেন স্ত্রী তাহিরা তানভিন শশী রেজা। মঙ্গলবার সকালে লাশ ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় আনার পর বাদ জোহর সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। এরপর সেওতা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
কিন্তু শেষ বিদায় বেলায় স্ত্রীকে এক নজর দেখা তো দূরে থাক তার মৃত্যুর সংবাদটিও জানে না স্বামী ডা. রেজায়ানুল হক শাওন। চিকিৎসকদের নির্দেশেই সিংগাপু‌রে চিকিৎসাধীন স্বামী ডা. রেজাউনুল হক শাওনকে পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রীর মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়নি।নেপা‌লের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটিতে বাংলাদেশের যে ৩২ জন যাত্রী ছিলো, তার মধ্যে মা‌নিকগ‌ঞ্জের সাটুরিয়া উপ‌জেলার স্বামী স্ত্রী এক দম্প‌তি ছিল।
মা‌নিকগ‌ঞ্জের সাটু‌রিয়া উপ‌জেলার বরাঈদ ইউনিয়‌নের গোপালপুর গ্রা‌মের ডা. আলী রেজার মেয়ে তাহিরা তানভিন শশী রেজা সাথে তার চাচাতো ভাই সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রা‌মের ডা. মোজাম্মেল হকের ছেলে ডা. রেজাউনুল হক শাওনের বিয়ে হয় প্র‌ায় ৭ বছর পূর্বে। গোপালপু‌রে বা‌ড়ি হ‌লেও শশীর প‌রিব‌ার মা‌নিকগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় ও রেজাউনুল হ‌কের প‌রিবার ঢাকা‌তে থাক‌তো।
তাহিরা শশী বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করতে স্বামীর সাথে নেপাল যাচ্ছিল। ‌ফেসবু‌কে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন যাত্রা শুরু বলে। কে জানত এ যাত্রা হবে তার শেষ যাত্রা।
‌গি‌য়ে ছি‌লেন বেসরকারি উড়োজাহাজে ক‌রে, ফি‌রে এলেন বিমান বা‌হিনীর বি‌শেষ উড়োজাহাজে ত‌বে প্রাণহীন ভা‌বে।
নেপালে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৩ জনে সা‌থে তাহিরা তানভিন শশী রেজার মর‌দেহ দেশে নিয়ে আসার পর ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে তাদের জানাজা হয়েছে। নেপালের অনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার বিকালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি উড়োজাহাজে করে তাদের কফিন ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে রাতে সিএমএইচের হিমঘরে শশীর মরদেহ রাখা হয়। মঙ্গলবার সকালে মরদেহ ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় আনার পর বাদ জোহর সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। এরপর সেওতা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
ডা. আলী রেজার একমাত্র সন্তান তাহিরা তানভিন শশী ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিমিনোলজি বিষয়ে মাস্টার্স করছিলেন। তার স্বামী ডা. রেজায়ানুল হক রংপুর মেডিকেল কলেজে কর্মরত। তার বাড়ি মা‌নিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামে।
ডা. শাওনের মামা আসাদুজ্জামান আসাদ জানায়, শাওনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেপাল থেকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। তবে চিকিৎসকদের নির্দেশে তার স্ত্রী মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়নি। বলা হয়েছে অন্য একটি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ‌সোমবার ৭১ জন আরোহী নিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে নেপালের বিমানবন্দরে অবতরণের সময় নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে ৭১ আরোহীর মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে চার ক্রুসহ ২৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে মা‌নিকগ‌ঞ্জের সাটুরিয়া উপ‌জেলার তাহিরা তানভিন শশী রেজা ও ডা. রেজাউনুল হক শাওন স্বামী স্ত্রী দম্প‌তি ছিল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ