Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক হলেন লিয়াকত আলী লাকী

বিনোদন রিপোর্ট | প্রকাশের সময় : ২২ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে আরও দুই বছর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে বর্তমান মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর। এই নিয়ে তিনি টানা চতুর্থবারের মতো মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন। রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আরিফ নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে গত সোমবার এ আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পূর্বের চুক্তির ধারাবাহিকতায় এবং অনুরূপ শর্তে আগামী ১০ এপ্রিল ২০১৮ অথবা যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। চতুর্থবারের মতো শিল্পকলার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় লিয়াকত আলী লাকী বলেন, আগের কাজের ধারাবাহিকতা নিয়েই সামনে শিল্পকলা একাডেমির কর্মকান্ডকে আরও এগিয়ে নিতে চাই। সারাদেশে শিল্পকলার চর্চা যেন আরও ছড়িয়ে পড়ে তার জন্য কাজ করব। আরও নতুন অনেক কাজের উদ্যোগ নেব। শিল্পকলা একাডেমিকে দেশের সংস্কৃতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, লিয়াকত আলী লাকী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর দায়িত্ব নেয়ার পর ব্যাপক উদ্যোগ এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। শিল্পকলা একাডেমীকে কর্মচঞ্চল এবং সংস্কৃতির উৎসব কেন্দ্রে পরিণত করেন। সংস্কৃতির সকল শাখাকে উজ্জীবীত করে গতিশীল করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। সারা দেশে একাডেমীর শাখাগুলোকে কার্যকর করে তোলেন। তার সময়েই শিল্পকলা একাডেমী সংস্কৃতির পীঠস্থানে পরিণত হয়। উল্লেখ্য, লিয়াকত আলী লাকী একাধারে নাট্যাভিনেতা, নাট্য নির্দেশক, সঙ্গীতশিল্পী, সুরকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠক। তার অভিনীত নাটকের সংখ্যা ৫৮টি, নির্দেশিত নাটকের সংখ্যা ৮২টি, নাটক রচনা, রূপান্তর ও নাট্যরূপ ৮টি। দেশে ও বিদেশে অংশগ্রহণ ও পরিচালনা করেছেন অসংখ্য থিয়েটার বিষয়ক উৎসব, সিম্পোজিয়াম, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ। লিয়াকত আলী লাকীর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও পরিচয়ের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান-এর চেয়ারম্যান, পিপলস থিয়েটার এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি জেনারেল, লোক নাট্যদলের প্রতিষ্ঠাতা ও অধিকর্তা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান সহ-সভাপতি, আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের নির্বাহী কমিটির সদস্য, ইন্টারন্যাশনাল অ্যামেচার থিয়েটার এসোসিয়েশন-এর এশিয়ান রিজিওনাল কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ুথ স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য। তিনি ১৯৫৭ সালের ১৩ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শেখ সাদেক আলী এবং মায়ের নাম মাজেদা বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে ৫ বছরের সার্টিফিকেট কোর্স, জাপান দূতাবাস থেকে এক বছরের জাপানি ভাষা কোর্স করেছেন। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক, শ্রেষ্ঠ শিশু সংগঠক হিসেবে কলকাতা থেকে সমলয় পুরস্কার, পশ্চিমবঙ্গের বাংলার মুখ সংগঠন প্রদত্ত দুই বাংলার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (বাংলাদেশ)-র জন্য বাংলার মুখ পুরস্কার, জাপানের তইয়ামার গভর্নর কর্তৃক প্রদত্ত সম্মাননা, সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ইউনিক গ্রুপ স্বর্ণপদক (২০০০), বাংলাদেশের প্রায় অর্ধশত শিশু সংগঠন কর্তৃক শিশুবন্ধু ও শ্রেষ্ঠ শিশু সংগঠক পদক, আসিটেজ কর্তৃক আর্টিস্টিক এক্সেলেন্স ফর চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ুথ থিয়েটার ২০১১, মুনীর চৌধুরী পদক ২০১৩, কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী সম্মাননা (২০১৫), খেলাঘর আসর কর্তৃক সাংবাদিক বজলুর রহমান ভাইয়া স্মৃতি পদক ২০১৫, সংগীত সরণি সম্মাননা (২০১৫) সহ অসংখ্য পুরস্কার পান।
ছবিঃ লিয়াকত আলী লাকী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ