Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭, ১৩ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

শাবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষে শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ

শাবি সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২২ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজের অনুসারীদের সঙ্গে সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলামের অনুসারীরা এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পার্শ্ববর্তী সাতকড়া রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী এসএম আব্দুল্লাহ রনি বর্তমানে সিলেটের ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টি টেকনোলজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সাঈদ আকন্দ ও সাজিদুল ইসলাম সবুজকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ শাখা ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। অপরদিকে গতকাল বুধবার বিকাল ৫টায় শাবি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বহিস্কৃত নেতা-কর্মীরা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমরা এ ঘটনায় কোনভাবেই জড়িত নয়। আমাদেরকে পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনায় জড়ানো হয়েছে। এসময় তারা গুলিবর্ষনকারী তারিকুলের বিচার দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশ্ববর্তী সাতকড়া রেস্টেুরেন্টে সাঈদ-সবুজ গ্রুপের অনুসারী ও তরিকুল গ্রুপের অনুসারীরদের মধ্যে বাক-বিতন্ডা হয়। বাক-বিতন্ডের এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম প্রতিপক্ষকে লক্ষ করে গুলি ছোঁড়েন। তার ছোঁড়া গুলিতে রনি নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। এদিকে শাহপরান হলে সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম নিয়ন্ত্রিত রুমগুলোতে টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে ভাংচুর চালিয়ে তারা দখল করে নেয়।
সাঈদ-সবুজ গ্রুপের অনুসারী সহ-সভাপতি সৈয়দ জুয়েম বলেন, তারিকুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করে আসছে। সে ছাত্রদল কর্মীদের আশ্রয়দাতা। আমরা তাকে বিষয়গুলো বলতে গেলে সে আমাদের ওপর গুলি ছোড়ে। আমরাও প্রতিরোধ করি। তার গুলিতে রনি নামের এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
তবে গুলি ছোঁড়া বিষয়টি অস্বীকার করে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, সাতকড়া রেস্টেুরেন্টে একটি আঞ্চলিক সংগঠনের মিটিং চলাকালে সাঈদ-সবুজের ৩০-৪০জন কর্মী আমার উপর অর্তকিতভাবে হামলা করে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে রনি নামের এক ছাত্র আহত হয়েছেন। সাঈদ-সবুজ গ্রুপের কর্মীদের গুলিতে রনি আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তরিকুল।
জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “কে বা কারা গুলি করেছে সেটা এখনও জানা যায়নি। তবে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ার খবর পেয়েছি। এছাড়া এ ঘটনায় তারিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দশজনসহ আরো অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের নামে মামলা করেছেন বলে জানান ওসি শফিকুল।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর জহীর উদ্দিন আহমদে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে এসে জানতে পেরেছি, প্রধান ফটকের সামনে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল।”
বহিষ্কার ১২ জন: সংঘর্ষের ঘটনায় কেন্দ্রীয় কমিটির দুই সদস্যকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ শাখা ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। বুধবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস. এম. জাকির হোসাইনের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা হলেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু সাঈদ আকন্দ ও সাজিদুল ইসলাম সবুজ, শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ জুয়েম, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আশরাফুল আলম অন্তুু, সাংগঠনিক সম্পাদক দোলন আহমেদ, উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ল²ণ চন্দ্র বর্মণ, সদস্য মুনকার কাজী, তৌফিকুর রহমান তন্ময়, বাসির মিয়া, কর্মী মেহের উদ্দিন হিমেল, রায়হান আহমেদ ও শরিফুল মালেক শরিফ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ছাত্রলীগ


আরও
আরও পড়ুন