Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৬ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

মহানগরীতে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরেনি এখনো

বিসিসি নগর ভবনে কর্মী ধর্মঘট প্রত্যাহার

নাছিম উল আলম | প্রকাশের সময় : ২৪ মার্চ, ২০১৮, ১২:০০ এএম

মাসাধীককালের অচলবস্থার পরে গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ধর্মঘটি কর্মকর্তা-কর্মচারীগন আনুষ্ঠানিকভাবে কাজে ফিরলেও এখনো নগর পরিসেবা স্বাভাবিক হয়নি। গতকাল বিকেল পর্যন্ত নগরীর বেশীরভাগ রা¯তাঘাটেই ময়লা আবর্জনার স্তুপ জমে ছিল। বুধবারের মধ্যে পুরো নগরীর ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করে সুস্থ্য-স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার সন্ধা পর্যন্তই নগরীর অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেই ময়লার স্তুপ আরো স্ফিত হয়েছে। তবে গতকাল সকাল থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করলেও তা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে আরো অন্তত দুদিন লাগতে পারে।
এদিকে বকেয়া সহ চলতি বেতনসমুহ নিয়মিত পরিষোধের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে নগর ভবনের ধর্মঘটিরা কাজে ফিরলেও আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে নগর প্রশাসন চরম দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন। ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরে ইতোমধ্যে বকেয়া দুমাসের বেতন পরিষোধের প্রক্রীয়া শুরু হওয়ায় কর্মচাররীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও চরম উৎকন্ঠায় নগর প্রশাসন। আগামী কয়েকটি মাসেই বকেয়ার সাথে হাল বেতনের পাশাপাশি একাধীক বোনাসের টাকার যোগান কোথা থেকে আসবে তার জবাব নেই কতৃপক্ষের কাছে। বিষয়টি নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় মেয়র সহ নগর প্রশাসনও। আগামী মাসেই নিয়মিত বেতন ছাড়াও ‘বৈশাখী ভাতা’ পরিষোধ করতে হবে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। জুনের শুরুতেই আসছে ঈদ উল ফিতরের উৎসব ভাতা। আগষ্টের শেষে ঈদ উল আজহার উৎসব ভাতার পরেই পুজা উপলক্ষে হিন্দু স¤প্রদায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিতে হবে আরো দুটি উৎসব ভাতা। শুধুমাত্র এসব ভাতা বাবদই বরিশাল সিটি করপোরেশনকে বাড়তি প্রায় ৬কোটি টাকা যোগান দিতে হবে। এছাড়াও প্রতিমাসে নিয়মিত ও দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুধু বেতন-ভাতা বাবদই প্রয়োজন প্রায় সাড়ে ৪কোটি টাকা।
অথচ বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রায় ৪৩হাজার হোল্ডিং-এর ট্যাক্স এবং হাট-বাজার ও স্টল সমুহের ভাড়া থেকে নগর ভবনের বছরে আয় সর্বোচ্চ ৩০-৩৫কোটি টাকার বেশী নয়। কিন্তু বেতন-ভাতা বাবদই বছরে ব্যায় প্রায় ৫৫কোটি টাকা। এরসাথে গার্বেজ ট্রাক ছাড়াও বিভিন্ন যানবাহনের জ্বালানী ব্যায় এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যায় সহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের বার্ষিক সংস্থাপন ও পরিচালন ব্যায় প্রায় ৬৫কোটি টাকার কাছাকাছি। যেঅর্থের যোগান সিটি করপোরেশনের আয় থেকে সংকুলন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যায় হ্রাস ছাড়া কোন অবস্থাতেই বরিশাল সিটি করপোরেশনের চলমান সংকট থেকে উত্তরনের পথ নেই বলে মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সহ ওয়াকিবাহল মহলও। ভোটের বছরে বর্তমান নগর প্রশাসন আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোন উদ্যোগ গ্রহন করতে পারবেন কিনা তা নিয়েও যৌক্তিক সন্দেহ রয়েছে। তবে এধরনের কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হলেও তা বাস্তবায়িত হওয়া সহ নতুন হারে নগর কর আদায় করতেও বছর খানেক সময় প্রয়োজন হবে।
ফলে সিটি করপোরেশনে বেতন-ভাতা বকেয়া থাকার চলমান সংস্কৃতি থেকে উত্তরন যেমনি দুরুহ, তেমনি তা সময় সাপেক্ষও। তবে চলমান সংকট থেকে উত্তরনের প্রথম পথই হচ্ছে মাথাভাড়ী প্রশাসনকে হালকা করা। নগর ভবনের প্রায় ১৬শ দৈনিক মজুরী ভিত্তিক কর্মীর পেছনে মাসে যে প্রায় ২.১০কোটি টাকা ব্যায় হচ্ছে, তা যৌক্তিকিকরনের কোন বিকল্প নেই বলে মনে করছেন নগরবাশী। কিন্তু ২০১৩সালের অক্টোবরে ক্ষমতা গ্রহন করেই বর্তমান নগর প্রশাসন প্রাথমিক এ কাজটি করতে না পারায় এখন নির্বচনের বছরে আর তা সম্ভব হচ্ছেনা বলেও মনে করছেন একাধীক পর্যবেক্ষক মহল। আগামী ২৭এপ্রিলের পরবর্তি ১৮০দিনের মধ্যেই বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। সে লক্ষে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।
এসব বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, মাথাভাড়ী প্রশাসনই সিটি করপোরেশনের অর্থনৈতিক দুরবস্থার অন্যতম কারন। বর্তমান আর্থিক দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এধরনের পরিস্থিতি আগেও ছিল। ভবিষ্যতে তা থেকে কতটুকু উত্তরন সম্ভব হবে তা এখন বলা যাচ্ছে না। তার মতে, নগর ভবনে ১২শর ওপর দৈনিক মজুরী ভিত্তিক শ্রমিক রয়েছে। সে হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৪০জন করে শ্রমিক থাকার কথা। সাড়ে ৪শ পরিচ্ছন্ন কর্মীর প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৫জন করে কাজ করার কথা থাকলেও এসব শ্রমিক ও পরিচ্ছন্ন কর্মীর অর্ধেকও বা¯তবে খুজে পাওয়া যাবে না। অথচ তাদের বেতন দিতে হচ্ছে। এসব শ্রমিক ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বিষয়ে কঠোর মনোভাব পোষন করায়ই কতিপয় কর্মকর্তা ঐসব শ্রমিকদের বার বার আন্দোলনে উস্কে দিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। নগরীর অনেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর অভিযোগ করেছেন, নগর ভবনের ১২শ দৈনিক শ্রমিক ও সাড়ে ৪শর মত পরিচ্ছন্ন কর্মীর কাজ দেখভালের দায়িত্ব যে বিভাগের ওপর, সেখানের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাই বার বার আন্দোলন ও ধর্মঘটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে অনেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিরুদ্ধে এসব শ্রমিক ও পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ছাটাই করা সহ নগর ভবনে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে পরক্ষোভাবে বাধা প্রদান করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
২০১৩’র ১৫জুনের নির্বাচনে প্রায় ১৮হাজার ভোটে বিএনপির প্রার্থী আহসান হাবীব কামাল মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। ঐবছরই অক্টোবরে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ৩মাসের বকেয়া বেতন সহ ১৫৪কোটি টাকার দায়দেনা নিয়ে মেয়র কামাল ও তার নগর পরিষদ দায়িত্ব গ্রহন করে। অভিযোগ রয়েছে, আগের ৫বছর শওকত হোসেন হিরন মেয়র থাকাকালে এ নগরীর জন্য যে পরিমান সরকারী থোক বরাদ্ব ছিল তা অনেকটাই হ্রাস করা হয়েছে বর্তমান মেয়রের আমলে। এরসাথে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের হিসেবের খাতা শূণ্য হয়ে পড়ে। বর্তমান চলমান সংকট তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে কলেন অনেক কাউন্সিলর সহ খোদ সিটি মেয়রও।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ