Inqilab Logo

সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ০৪ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

চলন্ত বাসে গণধর্ষণ টাঙ্গাইলে চালকসহ তিন ধর্ষক গ্রেফতার

প্রকাশের সময় : ৩ এপ্রিল, ২০১৬, ১২:০০ এএম

টাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে গার্মেন্টস কর্মী গণধর্ষণ মামলার গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে শনিবার আদালতে প্রেরণ করা হলে আসামি আব্দুল খালেক ভুট্টো নিজেকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা বলে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্ধি প্রদান করেছেন। অপর আসামি হাবিবুর রহমান ও রেজাউল করিম জুয়েলকে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিকে ধর্ষিতা একই আদালত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক লুনা ফেরদৌস এর আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেন। ডাক্তারি পরীক্ষায় ভিকটিমকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।
শুক্রবার ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতার স্বামী বখতিয়ার বাদী হয়ে ওই দিনই মধ্যরাতে ধনবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারসহ ছয় শ্রমিক নেতাকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে বাস চালক হাবিবুর রহমান ওরফে নয়ন (৩৩), সুপারভাইজার রেজাউল করিম ওরফে জুয়েল (৩৫) ও হেলপার আব্দুল খালেক ওরফে ভুট্টোকে (৩০) গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে হেলপার আব্দুল খালেক ওরফে ভুট্টো ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে শনিবার আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। অপর দুইজন বাস চালক হাবিবুর রহমান নয়ন ও সুপারভাইজার রেজাউল করিম জুয়েল এর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এদিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রেহানা পারভিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি চিকিৎসক দল গতকাল ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। রেহানা পারভীন জানান, তারা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে ধর্ষণের আলামত পেয়েছেন।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর জানান, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত তিনজন ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশের একটি দল ঘটনা তদন্ত করছে। এর সাথে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ঘুনিগজমতি গ্রামের বাসিন্দা বখতিয়ার স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুরের শফিপুর এলাকায় ভাড়াটে বাসায় থেকে লেগুনা গাড়ি চালাতেন। গত ৩১ মার্চ বৃহস্পতিবার বখতিয়ারের স্ত্রী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার দত্তবাড়ি গ্রামে বেড়াতে আসেন। পরদিন শুক্রবার ভোরে গাজীপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে ধনবাড়ীতে এসে বিনিময় পরিবহনের একটি বাসে উঠেন। বাসটিতে ওই সময় আর কোন যাত্রী ছিলনা। বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার মিলে তাকে ধর্ষণ করে মধুপুর উপজেলা শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহ সড়কের নির্জন স্থানে ফেলে দেয়। পরে ধর্ষিতা অন্য একজনের মোবাইল ফোন দিয়ে ঘটনাটি স্বামীকে জানান। স্বামী এসে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় পরিবহন ফেডারেশনের কতিপয় নেতা বিষয়টির আপোষরফা করার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে কোন উপায় না পেয়ে ধর্ষিতার স্বামী পুলিশের স্মরণাপন্ন হয়ে মামলা দায়ের করেন।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বাকী আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনামলে আনার দাবি জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চলন্ত বাসে গণধর্ষণ টাঙ্গাইলে চালকসহ তিন ধর্ষক গ্রেফতার
আরও পড়ুন