Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

পটলের পুষ্টি

| প্রকাশের সময় : ৬ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

শাক সবজির মধ্যে পটল অনেকের পছন্দের একটি সবজি। ছোট বড় সবাই এটা খেতে পারে। শীতকাল ছাড়াও পটল সারা বছর পাওয়া যায়। পটলের ফল এবং পাতা সহ কচি ডাল দুটোই সবজি হিসাবে খাওয়া যায়। পটলে বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন সহ নানা খনিজ লবন প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়। যা স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নানা রোগ ব্যাধির হাত থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। পটলে বেশী পাওয়া যায় ভিটামিন এ, সি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাশিয়াম। ভিটামিন এ আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। এর অভাবে রাতকানা ও জেরোপথেলমিয়া নামক রোগ হয়। শরীরের চামড়া শুকিয়ে যায় এবং খসখসে মনে হয়। মুখের উজ্জলতা কমে যায়, ক্যান্সারের প্রবণতা বেড়ে যায়, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বেড়ে যায়। সন্তান জন্মদান ক্ষমতা কমে যায়। শরীরের জন্য ভিটামিন সি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। এর অভাবে মুখে ও জিহ্বায় ঘা হয় এবং চামড়ার সৌন্দর্য কমে যায়। ঘনঘন সর্দি, কাশি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এর মারাত্ম ক অভাবে স্কার্ভি নামক রোগ হয়। ক্যালসিয়াম দেহের হাঁড় ও দাঁত গঠনে এবং সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া পেশী সংকোচন ও হৃদ স্পন্দন কাজে ক্যালসিয়াম সাহায্য করে। ক্যালসিয়ামের অভাবে মাংস পেশীতে ব্যথা অনুভূত হয়। বৃদ্ধ বয়সে ক্যালসিয়ামের অভাবে হাঁড়ের ক্ষয় জনিত অস্টিওপোরোসিস নামক রোগ হয়। ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। পটাশিয়াম আরেকটি খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আয়রন আমাদের দেহের রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। রক্তের অতি প্রয়োজনীয় উপাদান হিমোগ্লোবিন তৈরি করে। তাই খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পটল সবজিতে এসকল উপাদান পাওয়া যায়। তাই এ গুরুত্বপূর্ণ সবজিটি গ্রহন করে দেহের নানা রোগ প্রতিরোধ করে সুস্থ থাকা যায়।
পটলের বৈজ্ঞানিক নামঃ Trichosanthes Dioica Roxb উদ্ভিদ জগতের Cucurbitaceae গ্রোত্রের উদ্ভিদ। পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে প্রতি ১০০ গ্রাম খাবার উপযোগী পটলে খাদ্য উপাদন হলো খাদ্যশক্তি ৩১ কিলোক্যালরি, আমিষ ২.৪ গ্রাম, চর্বি ০.৬ গ্রাম, আঁশ ৩ গ্রাম, শর্করা ৪.১ গ্রাম, ভিটামিন এ ২৫৫ আইইউ, নিকোটিনিক এসিড ০.৫ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ২৯ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৪০ মিলিগ্রাম, লোহা ১.৭ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ৮৩ মিলিগ্রাম।
ঔষধী গুণাগুন: *যাদের হজমের সমস্যা বা হজম কম হয় তারা পটল তরকারি খান হজম শক্তি বাড়বে।* চামড়ার নমনীয়তা ও নানা রোগ সারাতে পটল বিশেষ ভূমিকা পালন করে। *যাদের মুখের রুচি কম তারা পটলের তরকারি মাধ্যমে নিয়মিত খান এতে মুখের রুচি বাড়বে। *তেতো পটলের শিকড় সিদ্ধ করে সেই পানি চিনি মিশিয়ে খেলে পিত্তজ্বরে উপকার হয়। *১০ গ্রাম তেতো পটরের কচি ডাল, ১০ গ্রাম ধনে এক কাপ পানিতে সারা রাত্রি ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সে পানি ছেকে নিয়ে মধু মিশিয়ে দিনে তিন বার খান। এতে পেটের কৃমি মরে যাবে। *পটলের রস মাথায় লাগালে চুল ঝরা বা টাক পড়া বন্ধ হয় এবং মাথায় নতুন চুল গজায়। *যারা ঘনঘন সর্দি কাশি ভোগেন তারা নিয়মিত পটলের তরকারি খান উপকার পাবেন। *যাদের শক্ত পায়খানা হয় তারা পটল গাছের মূল পিষে খান সমস্যা কমে আসবে এবং দেহের শক্তি বাড়বে। *যারা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ তারা পটলের তরকারি ঝোল, জুস বা স্যুপ করে ভাত দিয়ে খান উপকার পাবেন। তাছাড়া পটল হৃদপিন্ড ও পাকস্থলিকে সবল ও সুস্থ রাখে। কফ, কাশি, রক্তের ও পিত্তের নানা দোষ দূর করে। * যাদের শরীরে বাত আছে তারা পটল দিয়ে স্যুপ বা জুস বানিয়ে খান উপকার পাবেন।

মোঃ জহিরুল আলম শাহীন
শিক্ষক ও কলাম লেখক
ফুলসাইন্দ দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।
গোলাপগঞ্জ, সিলেট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর