Inqilab Logo

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

গ্রামীণ ব্যাংকে নির্বাচন আগামী মাসে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

দীর্ঘ ছয় বছর পর আগামী মে মাসে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক পরিষদ পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ রাষ্ট্রায়ত্ত কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন উপব্যবস্থাপনা পরিচালককে (ডিএমডি) এ পদে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। ব্যাংকটিকে গণমুখী করতে নির্বাচনের পর সুদের হার কমানোর পদক্ষেপ নিবে নতুন পরিচালনা পর্ষদ। ব্যাংকটির সামাজিক দায়বদ্ধতা সিএসআর বাড়াতে ভিক্ষুক পুনর্বাসনে বিনা সুদে ঋণ বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া শিক্ষা ও গৃহনির্মাণ খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
জানা গেছে, ঋণের বিপরীতে উচ্চ হারে সুদ আদায়সহ বিভিন্ন ইস্যুতে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকান্ড নিয়ে সারা বিশ্বে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমডি থাকাকালীন গরিবের রক্ত চোষা ব্যাংক হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়। ঋণ বিতরণে অনিয়ম, উচ্চ হারে সুদ আদায়, মুনাফার বণ্টন ও বিনিয়োগ নিয়েও সেই সময় চারদিকে তুমুল বির্তকের ঝড় ওঠে। আইন অনুযায়ী অবসর হলেও ড. ইউনূস এমডি পদে আকড়ে থাকায় পরবর্তীতে তাকে বাধ্যতামূলক অব্যাহতি দেয়া হয়। এর পর থেকে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ ছাড়াই চলছিল গ্রামীণ ব্যাংক। এই সময়ে সুদের হার কমিয়ে ২৭ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। সুদের হার কমানোর পরও গত বছর গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের রেকর্ড করতে সক্ষম হয়। গত ২০১৭ সালে ব্যাংকটি ৩১০ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে, যা আগের বছরের ২৬৬ কোটি টাকার চেয়ে ৪৪ কোটি টাকা, অর্থাৎ ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যুগ্ম সচিব মো. মতিয়ার রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠার পর গত বছর গ্রামীণ ব্যাংক সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে। ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে সুদের হার কমিয়ে আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনে আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ হওয়ার পর তারা গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। গ্রামীণ ব্যাংককে গণমানুষের ব্যাংক করতে সরকারের উদ্যোগ রয়েছে। আশা করছি, ব্যাংকটি ভবিষ্যতে আরও ভাল পারফরমেন্স করবে। জানা গেছে, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনের জন্য একটা কমিশন হবে তিন সদস্যের। একজন হবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্য দুজন নির্বাচন কমিশনার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন রাষ্ট্রায়ত্ত কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন ডিএমডি। আর দুই নির্বাচন কমিশনার হবেন গ্রামীণ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক। গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান বেছে নেবেন এই মহাব্যবস্থাপকদের। গ্রামীণ ব্যাংকে পরিচালকের মোট পদ ১২টি। এর মধ্যে চেয়ারম্যানসহ তিনজন পরিচালক নিয়োগ দেয় সরকার। বাকি ৯টি পদে ব্যাংকটির ঋণগ্রহীতা সদস্যদের মনোনীত করে নিয়োগ দেয়া হতো। ২০১৪ সালে গ্রামীণ ব্যাংক (পরিচালক নির্বাচন) বিধিমালা জারি করে সরকার। ওই বিধিমালা অনুযায়ী ব্যাংকটির সব সদস্যের সরাসরি ভোটে ওই ৯ জন পরিচালক নিয়োগ দেয়া হবে। জানা গেছে, গ্রামীণ ব্যাংক ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বছর শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিয়ে যাচ্ছে। তার আগে মুনাফা বেশি না হওয়ায় লভ্যাংশ দেয়া সম্ভব হতো না বলে জানা গেছে। গ্রামীণ ব্যাংক সর্বশেষ ২০১৭ সালে লভ্যাংশ হিসেবে সরকারকে ছয় কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারদের ১৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে এবং ১০ লাখ নতুন সদস্য নেয়া হয়েছে। ব্যাংকটি ২০১৬ সালে ঋণ দিয়েছিল ১৮ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা। সেই হিসেবে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গ্রামীণ ব্যাংক


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ