Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী

মহানবী (সা.)-এর ৪৩তম বংশধর রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ!

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১০ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

বতর্মানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বংশধর কেউ বেঁচে আছেন কিনা সেটা নিয়ে বেশ তর্ক বিতর্ক হয়ে থাকে। কিন্তু নতুন আরেকটা ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রে আসছে। কয়েক বছর ধরে অনুসন্ধ বা গবেসণা করে ঐতিহাসিকগণ দাবি করছে ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ৪৩তম বংশধর।
১৯৮৬ সালে সর্বপ্রথম ব্রিটেনের রাজপরিবারের পূর্বপুরুষদের অস্তিত্ব ও জিন নিয়ে কাজ করা প্রকাশনা সংস্থা ‘বুর্খে পেরেজ’ এই দাবি উত্থাপিত করে। এরপর বিষয়টি নিয়ে অনেক ইতিহাসবিদদের মধ্যে বির্তক সৃষ্টি হয়। স¤প্রতি মরক্কোর একটি গণমাধ্যম রাণীর সঙ্গে মুহম্মদ (স)-এর উত্তরসূরীতার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করে। তারা জানায়, মধ্যযুগীয় ম্পেনে মুর যুগের জিনতত্ত¡ বুর্খে প্রকাশনার দাবিকেই সমর্থন করে।
মরক্কোর গণমাধ্যমের সূত্র ধরে ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, রাণী এলিজাবেথ তৎকালীন স্পেনের সেভেলির মুসলিম শাসকের বংশধর। এতে দেখা যায়, উমাইয়া শাসনামলে স্পেনে মুরদের আক্রমণের পর রাজা আবু আল কাসিম মোহাম্মদ ইবন আবাদ স্পেনের শহর সেভেলিতে শাসক (১০২৩ খ্রিষ্টাব্দ) হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। আবু আল কাসিম ছিলেন মুহম্মদ (স) এর নাতি ইমাম হাসান বিন আলির ১১তম বংশধর। ১৩৭৫ সালে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করা রির্চাড অব কেনিসবুর্গ (আর্ল অব কেমব্রিজ ‘তৃতীয়’) ছিলেন আবু আল কাসিমের ১২তম বংশধর। তার নাতি চতুর্থ এডওয়ার্ড ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা। এডওয়ার্ডের অষ্টম বংশধর ছিলেন গ্রেট ব্রিটেনের রাজা প্রথম জর্জ। আর প্রথম জর্জের দশম উত্তরসূরীই রাণী এলিজাবেথ। মূলত ইমাম হাসানের রক্ত পর্তুগাল ও কাস্তিল ইউরোপীয় রাজাদের সূত্র ধরে ব্রিটিশ রাণীর কাছে এসেছে।
মিশরের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আলি গোমাও রাণীর সঙ্গে মুহম্মদ (স) এর সংশ্লিষ্টতার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে বুর্খে পেরেজ-এর নির্বাহী প্রকাশকের একটি তথ্যের ভিত্তিতে ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ১৯৮৬ সালে রাজপরিবারের নিরাপত্তা বৃদ্ধি জোরদার করেন। থ্যাচারের কাছে তিনি লিখেছিলেন, ‘নবী মুহম্মদ এর সঙ্গে রাজপরিবারের সরাসরি সম্পৃক্ততা তাদের মুসলিম সন্ত্রাসীদের থেকে নিরাপদে রাখবে না।’ ওই লেখায় তিনি আরো বলেন, ‘এই সংযোগ অত্যন্ত আশ্চর্যজনক একটি বিষয়। মুহম্মদ (সা.)-এর রক্ত রাণীর মধ্যে প্রবাহিত এটি খুব কম ব্রিটিশ নাগরিকই জানেন। যদিও সব মুসলিম ধর্মীয় নেতারা এই বিষয়ে গর্ব বোধ করবেন।’
বুর্খে পেরেজের দাবি অনূসারে, রাণীর রক্ত আসলে মুসলিম রাজকন্যা জাইদার থেকে এসেছে। জাইদা ১১শ শতকে নিজের শহর সেভেল থেকে পালিয়ে ক্রিশ্চিয়ান ধর্মে ধর্মান্তরিত হন। জাইদা ছিলেন সেনকোর পূর্বসূরী। এই সেনেকোর উত্তরসূরীই আর্ল অব কেমব্রিজকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্য স্পেকটেটর বলছে, জাইদার বংশানুক্রম সন্দেহপূর্ণ। কোন ইতিহাসবিদের মতে তিনি মদ্যপানে আসক্ত রাজা আল মুতাবিদ ইবন আবাদ-এর মেয়ে ছিলেন। মুতাবিদ, মোহাম্মদ- ইবন আবাদের নাতি ছিলেন। আবার কারো মতে, জাইদা ওই পরিবারে বিয়ে করেছিলেন।
মরক্কোর আলেম আবদুল হামদ আল-আউউনি সেদেশের একটি পত্রিকায় এ খবরটিকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, এটা আমাদের দুই ধর্ম ও রাজ্যের মধ্যে একটি সেতু বন্ধন তৈরি করে। তবে সউদীর কয়েকজন ব্যক্তি এ বিষয়ে বলেন যে, এটা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য খ্রিষ্টানদের একটি প্রচারণা ছাড়া আর কিছুই না।
বাংলাদেশের কয়েকজন বিশিষ্ট আলেমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে, শোলাকিয়া ইদগাহ-এর গ্র্যান্ড ইমাম, ইকরা বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন, বংশগতভাবে তিনি নবী কারিম সা. এর বংশের হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আমরা এ বিষয়ে গবেষকদের আলোচিত বংশধারা যাচাই করে বুঝতে পারবো বিষয়ের সত্যতা কতটুকু। রানীর বংশ জার্মান থেকে এসেছে। রাসুলের বংশের সঙ্গে মিললে আশ্চর্যের কিছু না। আর যায়দা বিবির কথা বলা হয়েছে তিনি কী আসলেই ইসলাম ধর্মের থেকে খ্রিষ্টধর্মে গিয়েছেন কী না আমরা ইতিহাস থেকে যাচাই করেই বলতে পারবো।
রাজধানী ঢাকার জামিয়া শায়খ জাকারিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল, বিশিষ্ট বক্তা, লেখক গবেষক, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, ইউরোপিয় গবেষকরা ইতিহাস ঘেটে বের করেছে রানী এলিজাবেথ রাসুল সা. এর বংশের। হ্যাঁ এমন হতে পারে অস্বাভাবিক কিছুই না। তবে আমরা বিষয়টা পর্যলোচনা না করে কিছু বলতে পারছি না। ইতিহাস অনেক বড় বিষয় এটা নিয়ে পাঠ প্রয়োজন।
ইউরোপিয়ান গবেষকদের লেখা বংশধারা: হযরত মুহাম্মদ সা. এর মেয়ে ফাতেমা রা. এর সন্তান হাসান ইবনে আলী, হাসান ইবনে হাসান ইবনে আলী, জহরা বিনতে হুসেনের পুত্র নউম আল-লখমী, তার পুত্র তায়ফ ইবনে নাঈম, ইত্তফ ইবনে নায়িমের পুত্র আসলান ইবনে আওয়ামী। আমির ইবনে আসলানের পুত্র ইশতিয়াক ইবনে আমর, তারপুত্র আব্বাস ইবনে আমর তার পুত্র কোরেস ইবনে আব্বাস ইবনে আবু আল কাসিম মোহাম্মদ ইবনে আব্বাস সেভিলের রাজা।
আব্বাস দ্বিতীয় আল মুত্তাদ্দিদ, তার ছেলে আল মুয়াতামিদ ইবনে আব্বাস আল-মু’তামীদ এর কন্যা যায়দা। যায়দার পুত্র সানচো অ্যালফোন্সজ, এখান থেকে খ্রিষ্ট বংশধারা শুরু হয়ে মিলিত হয়েছে ইংল্যান্ডের রাজা হ্যানওভার আয়ারল্যান্ডের মেয়ে স্কট মেরি রানী (১৫৪২-১৫৮৭) জেমস ভি, স্কট অফ দ্য স্কট এর মেয়ে, জর্জ গ্রেট ব্রিটেনের রাজা সোফিয়ার ইলেক্ট্রেস হ্যানোভার ও জর্জ দ্বিতীয় ব্রিটেনের জর্জ আই কিং ও ফ্রেডেরিক এর বংশ হয়ে প্রিন্স অফ ওয়েলসের পুত্র জর্জ দ্বিতীয় ফ্রেডরিকের পুত্র হয়ে মিলিত হয় ব্রিটেনের সপ্তম রাজা এডওয়ার্ড এর সঙ্গে। এর পর তার বংশধর ভিক্টোরিয়া জর্জ ভি এর বংশ ঘুরে যুক্তরাজ্যের রানীর বংশের সঙ্গে মিলিত হয়। সূত্র : ওয়েবসাইট।



 

Show all comments
  • তামান্না ১০ এপ্রিল, ২০১৮, ৪:৪৮ এএম says : 2
    আল্লাহই ভালো জানেন।
    Total Reply(0) Reply
  • Sondhani ১০ এপ্রিল, ২০১৮, ৬:২৯ এএম says : 0
    Sometimes truth is stranger than fiction! Muslim intellectuals and researchers should take this matter seriously and should examine and dig into the bottom of this thing to find the truth. If it is true, it will have a big impact in future British and European politics.
    Total Reply(0) Reply
  • saif ১০ এপ্রিল, ২০১৮, ১০:০০ এএম says : 1
    এটা সর্বঊত্তম কথা, যে আল্লাহ্‌ ই সব কিছু ভালো জানেন, তবে এদের এই দাবি কেবল মাত্র মুসলমানদেরকে আর হেয় করার জন্যেই। কেননা, বটিশ মুসলমানদের সব ছেয়ে বড় শত্রু, ব্রিটিশ শাসন আমল থেকেই এর গোড়াপত্তন, কাদিয়ানি/ আহমদিয়া ফিতনা, ইস্রাঈল নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি করা, ....
    Total Reply(1) Reply
    • parvez ১১ এপ্রিল, ২০১৮, ১০:৫৪ এএম says : 0
      একমত।
  • Shohel ১০ এপ্রিল, ২০১৮, ১০:৩৬ এএম says : 0
    Dhormer birodh dur hok. Brahtritto bodh jege utukh.
    Total Reply(0) Reply
  • শাহাবুদ্দীন সামি ১০ এপ্রিল, ২০১৮, ২:৩০ পিএম says : 2
    সহমত রাজধানী ঢাকার জামিয়া শায়খ জাকারিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল, বিশিষ্ট বক্তা, লেখক গবেষক, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন, ইউরোপিয় গবেষকরা ইতিহাস ঘেটে বের করেছে রানী এলিজাবেথ রাসুল সা. এর বংশের। হ্যাঁ এমন হতে পারে অস্বাভাবিক কিছুই না। তবে আমরা বিষয়টা পর্যলোচনা না করে কিছু বলতে পারছি না। ইতিহাস অনেক বড় বিষয় এটা নিয়ে পাঠ প্রয়োজন।
    Total Reply(0) Reply
  • ওবাইদুল ১০ এপ্রিল, ২০১৮, ৫:৫৫ পিএম says : 0
    আমরা সবাই আদম (আঃ) এর বংশধর ।
    Total Reply(0) Reply
  • parvez ১১ এপ্রিল, ২০১৮, ১০:৫৮ এএম says : 0
    এটা আশ্চর্যের কিছু নয়। কারণ আমরা সবাই একজন নবী হযরত আদম (আঃ)এর বংশধর। তবে এটা সত্যি হলে রাণীর জন্য আফসোস। কারণ তিনি এখনো ইসলামে পুনঃ দীক্ষিত হন নি। ঈমান ছাড়া এই বংশধারা কোন কাজে লাগবে না।
    Total Reply(0) Reply
  • kamal ১১ এপ্রিল, ২০১৮, ৯:৪৯ পিএম says : 1
    Allah knows
    Total Reply(0) Reply
  • আঃ মুমিন ১৫ এপ্রিল, ২০১৮, ৩:০৪ পিএম says : 1
    এখানে আপনি আপনার মন্তব্য করতে পারেন আবু জেহেল হুজুর সাঃ এর চাচা ছিলেন তাই কি হয়েছে
    Total Reply(0) Reply
  • মো: শাহজাহান ৭ মে, ২০১৮, ২:২২ পিএম says : 0
    এটা আশ্চর্যের কিছু নয়। কারণ আমরা সবাই একজন নবী হযরত আদম (আঃ)এর বংশধর। তবে এটা সত্যি হলে রাণীর জন্য আফসোস। তিনি এখনো ইসলামে পুনঃ দীক্ষিত হন নি। ঈমান ছাড়া এই বংশধারা কোন কাজে লাগবে না।তা ছাড়া যায়দা বিবি ইসলাম ধর্মে হয়ে পরে তিনি কি করে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহন করেণ? েএটা একটা বানোয়াট কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়।
    Total Reply(0) Reply
  • Abdur Razzaque Sheikh ১২ মে, ২০১৮, ১২:৩৭ পিএম says : 0
    Allah know of all.Only eman also need for all.
    Total Reply(0) Reply
  • আলামিন খাঁ ২১ নভেম্বর, ২০১৮, ৭:৪১ এএম says : 0
    It may be true but difficult to believe.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর