Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

গোল্ড কোস্টে ‘ফুটবলার’ বোল্ট

জাহেদ খোকন, গোল্ড কোস্ট (অস্ট্রেলিয়া) থেকে | প্রকাশের সময় : ১৩ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত অ্যাথলেট, ১০০ মিটার স্প্রিন্টের রাজা, গতির দানব উসাইন বোল্ট। সর্বশেষ স্কটলান্ডের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসেও হয়েছিলেন দ্রুততম মানব। কিন্তু এবার অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে তাকে দেখা যায়নি ট্র্যাক মাতাতে। এবারের কমনওয়েলথ গেমসে বোল্ট ঠিকই আসলেন, মাতালেন পুরো গোল্ড কোস্ট শহরকে। তিনি আসবেন। যেন সেই অপেক্ষায় অধীর ছিল পুরো গোল্ড কোস্ট। অবশেষে বুধবার রাতে এ শহরে পা রাখেন বোল্ট। বিমানবন্দরেই তাকে ঘিরে ধরেন মিডিয়াকর্মীরা। অবলীলায় তিনি সবাইকে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যান। আর বলে যান, সমুদ্রে নামার জন্য তিনি অধীর হয়ে আছেন। কথাবার্তা পরে হবে।
এখানে পৌছার পর থেকেই তাকে ঘিরে চলছে নানা আয়োজন। তার আগমনে কমনওয়েল গেমসের উৎসব আমেজ যেন রাতারাতি অনেকটাই বেড়ে গেল। বোল্ট বরাবরই দারুণ প্রাণবন্ত একজন অ্যাথলেট। অন্যদের চেয়ে যেন একটু আলাদা। ব্যক্তি হিসেবে তিনি অনেকটাই দুরন্ত প্রকৃতির। যেখানেই যান সবাইকে মাতিয়ে রাখেন। তাই গোল্ড কোস্ট এখন দারুণ মেতে রয়েছে তাকে নিয়ে।
২০০৯ সালে বার্লিনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৯.৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন উসাইন বোল্ট। এখনও সেই রেকর্ড ভাঙতে পারেননি কেউ। গত বছর অবসর নিয়েছেন বোল্ট। তারপর অবসরের সঙ্গী হিসেবে তিনি বেছে নেন ফুটবলকে। অবসর নেয়ার পর গতির দানব এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে প্রতিযোগী না হয়েও অংশ নিচ্ছেন। দর্শকের সারিতে বসে গেমস উপভোগের আনন্দ কেমন সেটা জানাতে গিয়ে বোল্ট বললেন, ‘দুর্দান্ত’। গোল্ড কোস্টে নানা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হচ্ছে বোল্টকে। তবে সবার আগে ছবি তুলেছেন গেমসের মাসকট বরোবির সঙ্গে।
বোল্টকে অনায়াসে বলা যায় রেকর্ডের বরপুত্র। ১৯.১৯ সেকেন্ড নিয়ে ২০০ মিটার স্প্রিন্টে এবং ৩৭.০৪ সেকেন্ড নিয়ে ৪ গুণিতক ১০০ মিটারেও বিশ্ব রেকর্ডের অধিকারী তিনি। গোল্ড কোস্টের অপটাস কনফারেন্স সেন্টারে জ্যামাইকান এই স্প্রিন্টার কথা বলেন নিজের জীবনের অতীত, বতর্মান ও ভবিষ্যত নিয়ে। জানান, এই মুহুর্তে তার প্রাণের খেলা ফুটবল।
অবসর গ্রহণের পর কেমন কাটছে দিনকাল? কোনো হতাশা কি ঘিরে ধরেছিল? এসব প্রশ্নের জবাবে বোল্ট বলেন, ‘অবসরের পর আমার তো ব্যস্ততা বেড়ে গেছে। আমি প্রচুর ভ্রমণ করি। ঘরে বসে থাকার সময়ই পাই না। সত্যি বলতে গেলে অবসরের পর থেকে এখনো পর্যন্ত ভালই আছি।’ তিনি যোগ করেন, ‘অবসরের সময় আমি জনতাম এ লড়াই, এই দর্শক উপস্থিতি আর দেখতে পাবো না। তবে এক জীবনে যা কিছু পেয়েছি তাতেই আমি সন্তুষ্ট।’ প্রায় আধঘন্টার সংবাদ সম্মেলনে অনেক কথার ভিড়ে বোল্ট এটাও বলেন, ‘জ্যামাইকার এক প্রত্যন্ত গ্রামে আমার জন্ম। রাস্তায়-রাস্তায় ফুটবল খেলেছি। সবসময় তো আসল ফুটবল পেতাম না। হাতের কাছে যা পেতাম সেটাই বল বানিয়ে নিয়ে খেলতাম। প্লাস্টিকের বোতল, কাপড়ের বান্ডিল কিছুই বাদ ছিলো না। তখন কল্পনাতেও ছিলো না একদিন এতটা পথ পাড়ি দিয়ে এত দূর অবধি আসতে পারবো।’
ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে গতির লড়াইয়ে তার রেকর্ড কখনও ভাঙবে কিনা এমন প্রশ্নে বোল্ট হাসতে হাসতে বলেন, রেকর্ড তো ভাঙার জন্যই গড়া হয়। আর আমার তো মনে হয়, কেউ না কেউ অচিরেই আমার রেকর্ডগুলো ঠিক ভেঙে ফেলবে।’
বোল্ট আরো জানান, শুধু অ্যাথলেট নয়, তিনি সবাইকে সবসময় কেবল এই কথাটাই বলতে চেয়েছেন যে তারা যেন তাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়। কঠোর পরিশ্রম করে এবং নিজেকে কাঙ্খিত গন্তব্যে নিয়ে যেতে কোনো অবস্থাতে পিছ পা না হয়। ক্রীড়াবিদদের ডোপ গ্রহণে নিরুৎসাহিত করে জ্যামাইকান তারকা বলেন, ‘ডোপ কখনো কোন ক্রীড়াবিদকে সাহায্য করে না বরং সর্বনাশ ডেকে আনে।’
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম সেরা ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিচ্ছেন বোল্ট, এমন একটা গুজব শোনা যায়। সেটাকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ওরকম কিছু এখনো ঘটেনি। তবে ফুটবলের বিষয়ে আমি খুবই সিরিয়াস। ম্যান ইউর সঙ্গে ভবিষ্যতে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠলে উঠতেও পারে।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গোল্ড কোস্ট
আরও পড়ুন