Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫, ০৪ শাবান ১৪৩৯ হিজরী

বাজারে গ্রীষ্মের প্রভাব

সাপ্তাহিক পণ্যবাজার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

আজ শুরু হচ্ছে নতুন বাংলা বছর বৈশাখ মাস। গ্রীষ্মের এই প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম বাড়ছে। তারা বলছেন, গত এক মাসে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়েছে। তবে কোনো কোনো সবজির দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম প্রকারভেদে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। আবার কিছু সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া মাছ ও কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ১০ থেকে ১২ প্রকারের মৌসুমি সবজি এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এসব সবজির দাম কিছুটা বাড়তি হলেও প্রায় সব ধরনের সবজিই সতেজ। বিক্রেতারা বলছেন, সবজির দাম সামনে আরো বাড়তে পারে। সে হিসেবে বর্তমানের দামকে খুব বেশি উচ্চমূল্য বলা যায় না।
কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। বেগুনের দাম গত এক সপ্তাহে বাড়েনি। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৫ টাকা। এ ছাড়া পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকায়, শিম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, বেগুন (কালো) ৫৫ টাকা, বেগুন (সাদা) ৬২ টাকা টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৬০ টাকা এবং মটরশুঁটি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মানভেদে প্রতি কেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। শান্তিনগর বাজারের দোকানদার আবদুল বাতেন জানান, মুদি পণ্যের দাম খুব একটি বাড়েনি গত এক সপ্তাহে। তবে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। বাড়তির দিকে রয়েছে রসুনের দাম। বিভিন্ন ধরনের শাকের আঁটি ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি আঁটি মূলা শাক মিলছে ১০ ও ১৫ টাকায়, লাল শাক ১৫ ও ২০ টাকায়। আমদানি করা মসুরের ডাল কেজি প্রতি ১০০ টাকা এবং দেশি ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে বৈশাখ ঘিরে রাজধানীর বাজারগুলোতে মাছের দামে আগুন লেগেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশ ছাড়া প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। অধিকাংশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকার ওপরে।
মাছের দাম অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ। এ কারণেই মাছের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া আড়তেও মাছ কম এসেছে। সব মিলিয়ে মাছের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে।
বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীরা ১ কেজি থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ১৪০০-১৬০০ টাকায়। ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ৬০০-৮০০ টাকায়। আর ২৫০-৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ৮০০-৯০০ টাকা হালি হিসেবে। কোনো কোনো বাজারের ব্যবসায়ীরা ছোট ইলিশ ৭০০-৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন।
রামপুরা বাজারে কেজি দরে ইলিশ বিক্রি করা কালাম বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম এবার বাড়েনি। গত সপ্তাহে ইলিশ যে দামে বিক্রি করেছি আজও একই দামে বিক্রি করছি। ৩০০-৪০০ গ্রাম ওজনের ইলশেরর কেজি ৭৫০ টাকা। আর যেগুলোর ওজন ৫০০-৭০০ গ্রাম তা ১২০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।
এ বাজারে হালি হিসেবে ইলিশ বিক্রি করা গোপাল বলেন, আগে বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম বহু গুনে বেড়ে যেত। কিন্তু এবার বৈশাখ কেন্দ্রীক ইলিশের দাম বাড়েনি। এক মাস আগে যে দামে বিক্রি করেছি, এখনও সেই দামেই বিক্রি করছি। এক কেজি ওজনের ইলিশ ১৫০০-১৬০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৬০০ টাকা হালি বিক্রি করছি। আর ২০০-২৫০ গ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।
ইলিশের দাম না বাড়লেও অন্য মাছের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, গত সপ্তাহে ২৫০-২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া রুই মাছের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০০-৪২০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পাবদা মাছের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০০-৬৫০ টাকা।
দাম বাড়ার এ তালিকায় শিং মাছ, কাচকি মাছ, নলা মাছ, চিংড়ি, তেলাপিয়া মাছও রয়েছে। শিং মাছ ৫০০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে; যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাচকি মাছের দাম বেড়ে ৩০০ টাকা হয়েছে। নলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২২০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০-১৬০ টাকা কেজি। ৪০০ টাকার চিংড়ির দাম বেড়ে হয়েছে ৬০০ টাকা। ১৪০ টাকার তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে। মাছের এমন দাম বাড়ার কারণ হিসেবে শান্তিনগর বাজারের ব্যবসায়ী সুবল বলেন, কালকে (আজ) পহেলা বৈশাখ এ জন্য মাছের দাম একটু বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর