Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

কোন অশুভ শক্তি যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে

বাংলা নববর্ষের প্রথমদিনে প্রধানমন্ত্রীর আহবান

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

দেশের ঐতিহ্য, ভাষা এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টিকারী কোন অশুভ শক্তি যাতে আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে, এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা বাঙালি, বাংলাদেশ আমাদের দেশ এবং বাংলা আমার ভাষা, বঙ্গবন্ধুর এই বক্তব্য আমাদেরকে সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে। ফলে কোন অশুভ শক্তি যাতে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে, এ জন্য সকলকে সজাগ থাকতে হবে।
গত শনিবার সকালে সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ এর শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশে-বিদেশের সকল বাঙালিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে নববর্ষ উদযাপন একটি সার্বজনীন উৎসব। তিনি বলেন, এই উৎসবটা ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সকলে একাত্ম হয়ে একত্রে উদযাপন করে। এমনকি প্রবাসে বসবাসকারী বাঙালিরাও উদযাপন করে। আমাদের সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ে, সাধারণ জনগণ-সকলেই উৎসবটা উদযাপন করে। এমনকি আমাদের একদম গ্রাম পর্যায় পর্যন্তও এই উৎসব উদযাপন হয়। কারণ এখানে সকলে খুব মন খুলে একাত্ম হয়ে উদযান করতে পারে। সেই সুযোগটা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উৎসব উদযাপনে যত বাধাই আসুক, বাঙালি কখনো কোনো বাধা মানে না। এ জাতি বাধা ভাঙতে জানে। তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক দেশ। সব দেশেই নববর্ষের অনুষ্ঠান হয়। কিন্তু ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র এই উপমহাদেশে শুধু বাংলাদেশ। কাজেই এখানে নববর্ষের উৎসব এক ভিন্ন মাত্রা লাভ করে। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি, বাংলায় হাসি, বাংলায় কাঁদি, বাংলায় জীবন চর্চা করি।
শেখ হাসিনা বলেন, সবাই মন খুলে একাত্ম হয়ে যাতে এ উৎসব পালন করতে পারে, সেজন্য সরকার বৈশাখী ভাতার ব্যবস্থা করেছে। সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে এখন এ ভাতা চালু হয়েছে।
অতীতে বর্ষবষণ উৎসবে নানারকম প্রতিবন্ধকতা থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তান আমালে বাংলাদেশী সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ষড়যন্ত্র ছিল। ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছিল, তাদের অনেককেও বাঙালির বর্ষবরণে বাধা প্রদান করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ১৯৯২ সালে আমরা ১৪০০ বঙ্গাব্দকে বরণ করতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু সেখানে তৎকালীন খালেদা জিয়া সরকার বাধা দেয়। আমরা কবি সুফিয়া কামালকে নিয়ে সেসব বাধা উপেক্ষা করে রমনা পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন শতাব্দিকে বরণ করি।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। ১৪ দলীয় জোটের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের মেয়র, যুব লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসেসিয়েশনের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যপূর্ণ খাবার মিঠাই, মোয়া, মুড়ি-মুড়কি, মুড়লি, কদমা, জিলেপি দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা ১৪২৫ সালের নববর্ষের প্রথম দিন দেশের সকল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছার নিদর্শন স্বরূপ গত বছরের মতো এ বছরও রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে অবস্থিত শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের ফুল, ফল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) সাইফুজ্জামান শিখর, উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন ও সহকারী প্রেস সচিব ইমরুল কায়েস তাদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার পৌঁছে দেন। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ ও পহেলা বৈশাখের মতো প্রতিটি জাতীয় দিবস ও উৎসবে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদের পরিবারের সদস্যদের স্মরণ করায় তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ও তাকে ধন্যবাদ জানান। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের পরিবারের সদস্যরা জানান, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই কেবল তারা যথাযথ সম্মান পান। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।



 

Show all comments
  • বুলবুল আহমেদ ১৬ এপ্রিল, ২০১৮, ৩:৩৩ এএম says : 0
    জনগণ কী ভোট দেয়ার সুযোগ পাবে ?
    Total Reply(0) Reply
  • গনতন্ত্র ১৬ এপ্রিল, ২০১৮, ৩:৫৭ এএম says : 0
    জনগন বলছেন, “ শুভ-অশুভ -২০১৮ “ শুভ-অশুভ ঘটানোর মালিক আল্লা আমি কি জানি গায়েবানা, অন্যকে বলি অশুভ শক্তি আমি কি তা খুঁজিনা ? সঠিক পাথেয় এখন অশুভ শক্তি আরো শুনবো কত বাহানা, দাদা চরনে পুষ্প চারন শুভ মিয়া কি তার দেওয়ানা ? আবোল-তাবোল বলাবলি ডিজিটালের কি নির্দেশনা, আর কতকাল চলবে মিথ্যাচার কবরে নয় কি পা ’ মোদের একখাানা ?
    Total Reply(0) Reply
  • কামরুল ১৬ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:২৯ পিএম says : 0
    কে অশুভ শক্তি আর কে শুভ শক্তি সেটা আমরা ভালো করেই জানি
    Total Reply(0) Reply
  • শামীম ১৬ এপ্রিল, ২০১৮, ৩:০৮ পিএম says : 0
    কারা ক্ষমতায় আসবে সেটা তো নির্ধারণ করবে জনগণ
    Total Reply(1) Reply
    • লাভলু ১৬ এপ্রিল, ২০১৮, ৩:০৯ পিএম says : 0
      ঠিক বলেছেন। তবে সেটা নির্ধারণের ক্ষমতা জনগণ পাবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ