Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউস সানী ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

কোন ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমকে প্রশয় দেয়া হবে না -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি ব্যবসায়ীদের : রমজান এলেই পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের অপতৎপরতার অভিযোগ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

আসন্ন রমজান মাসে পণ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়। রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকাভিত্তিক ও বিশেষায়িত ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন। ব্যবসায়ীরা বলেন, রমজান এলেই পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের নানা ধরনের অপতৎপরতা শুরু হয়। ইফতার পার্টির নামে চলে চাঁদাবাজি। এতে ব্যবসায়ীদের প্রচুর অর্থ খেসারত দিতে হয়। বাড়তি এ টাকা ক্রেতাদের কাছ থেকেই তুলে নেয়ায় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তাই রমজান মাসে পুলিশের অপতৎপরতা, দলীয় নেতা ও মাস্তানদের চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজি করে যানজটের সৃষ্টি করা হয়। সঠিক সময়ে পণ্য পৌঁছানো যায় না। ফলে দাম বেড়ে যায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ স্বাভাবিক রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবারহ ঠিক থাকলে দাম বাড়বে না। এ জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। তারা বলেন, পণ্য আমদানিতে আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আভ্যন্তরীণ ভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্যাংকের সুদের হার কমানো এবং স্থল ও সমুদ্র বন্দর হতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনকারী ট্রাক সমূহের জন্য ফেরি ঘাটে আলাদা ফেরির ব্যবস্থা করা প্রভৃতি বিষয়ের উপর সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান। আলোচকরা জানান, আসন্ন রমজান মাসে ভোজ্যতেল, ডাল, ছোলাবুট এবং চিনি পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে এবং এ পণ্যগুলোর দাম বাড়ার কোন কারণ নেই।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং এই মূল্যবৃদ্ধির মূলে রয়েছে প্রথাগত বাজার সরবরাহ প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত মজুদকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহনখাতে চাঁদাবাজি, দুর্বিষহ যানজট এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ২০১৮ সালে দেশে গড় মূদ্রাস্ফীতি ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং খাদ্যদ্রব্যে গড় মূদ্রাস্ফীতি ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। এ পরিস্থিতে আসন্ন রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরও বাড়লে মধ্যবিত্ত আয়-ব্যয়ে সমন্বয় করতে হিমশিম খাবে। তিনি পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও যানজট নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যবসায়ী সমাজ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ও সরকারি সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সম্ভব বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন আসন্ন রমজান মাসে নৈতিকতার সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানান।
কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি সভা আয়োজন করে, যেখানে এবছর রমজান মাসে চাহিদা মাফিক পণ্য সরবরাহের বিষয়টি সরকার ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ হতে আশ্বাস প্রদান করা হয়। মতবিনিময় সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ তত্ত¡ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জিয়া রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আলোচনায় ডিসিসিআই পরিচালক মো. আলাউদ্দিন মালিক, এস এম জিল্লুর রহমান, সাবেক ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপত্বি আব্দুস সালাম, এম এস সেকিল চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি মো. সিরাজ উদ্দিন মালিক, সাবেক পরিচালক মো. শারফুদ্দিন, ডিসিসিআই’র আহবায়ক শামসুন নাহার, বাংলাদেশ জুট গুডস্ এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন-এর সভাপতি এনামুল হক পাটোয়ারি, বাংলাদেশ পাইকারী ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতি’র মহাসচিব মো. আবুল হাসেম এবং বাংলাদেশ ডাল ও ছোলাবুট ব্যবসায়ী সমিতি শফিকুর রহমান প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন। ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ডিসিসিআই সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন, পরিচালক হোসেন এ সিকদার, ইমরান আহমেদ, কে এম এন মঞ্জুরুল হক, ইঞ্জি. মো. আল আমিন, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন, সেলিম আকতার খান এবং মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ