Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৬ রমজান ১৪৩৯ হিজরী

নিরপেক্ষ নির্বাচন না হলে অন্য কিছু...

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আলোচনা সভায় বক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, নিজের ইচ্ছমত তথাকথিত নির্বাচন চলবে না। সবদলের অংশগ্রহন মূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে সুষ্ঠ ও সুন্দর নির্বাচন করতে হবে; অন্যথায় অন্য কিছু..। তারা আরো বলেন, সংসদীয় নিয়ম হলো নির্বাচন হতে হলে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। এক দল নির্বাচনে জন্য ভোট চাইবে অন্যান্য সভা সমাবেশ করতে পারবে না এটা গণতন্ত্র নয়। এমন সৈরাচারীদের পতন অনিবার্য।গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহানগর নাঠ্যমঞ্চে ‘সংবিধান বিধৃত আকাঙ্খা, বিদ্যমান পরিস্থিতি ও করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এ আলোচনা সভার আয়োজন করেন।
তেল- গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবায়ক ইঞ্জি. শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজ্জা চৌধুরী, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যের আহবায়ক সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দীকী, মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, খালেকুজ্জামান, সুব্রত চৌধুরী, সুলতান মনসুর আহমেদ, এস এম আকরাম প্রমুখ।
জাতীয় ঐক্যের আহবায়ক ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, নিজের জন্য জায়গা করতে তথাকথিত নির্বাচন চলবে না। যেখানে ১৫৩ জন অনির্বাচিত এমপি। সরকার ও বিরোধী জোট একই জায়গা। এটা পৃথিবীর ১৯৩ রাষ্ট্রের মধ্যে কোথায় দেখাতে পারবেন না। এটা অসম্ভবকে সম্ভব। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি এইসব শয়তানী নীতি । এমনবস্থা আমাদের দেশে। এই অবস্থা আমাদের জনগণের ঐক্যে দরকার। তিনি আরো বলেন, অতীতেও প্রত্যেক সৈরাচারের পতন হয়েছে। পাক সৈরাচারদের পতন হয়েছে। এইভাবে সকল সৈরাচারীদের আগামীতেও হবে। আমাদের সংবিধানে বলা আছে সকল ক্ষমতার মালিক জনগন। যতি ক্ষমতাসীনরা এটা উপলব্ধি করেন তাহলে ১ মিনিটের মধ্যে ক্ষমতা থাকবেন না। তিনি আরো বলেন, আজকে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করা দেয়া হয়েছে। আপনার দেশটাকে দেউলিয়া করে ফেলছেন। এই্ অধিকার কে দিয়েছে আপনাদেরকে। আপনারা সময় থাকতে চলে যান। আপনারা যে চুরি লুটপাত করছেন এটা আর জনগণ দেখতে চায় না। ড. কামাল হোসেন বলেন, ২০১৪ সালে আমাকে বলা হল এটা সাংবিধান রক্ষায় নির্বাচন। কিছুদিন পর আবার নির্বাচন দেয়া হবে। এরপর আজ সাড়ে ৪বছর। ডিসেম্বর নির্বাচন হবে কিনা এটা নিয়ে সংশয়। এটা কি বিশ্বাস ঘাতকা না। ভাউতাবাজি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজ্জা চৌধুরী বলেন, দেশে এখন দুর্ভিক্ষ চলছে। দেশ প্রেমের দারুণ অভাব। যেখানে নেই সুশাসন, যেখানে গনতন্ত্র ভুলণ্ঠিত হচ্ছে। আমাদের সংসদে ১৫৩ জন এমপি অনির্বাচিত। এরপরও আমরা কোন প্রতিবাদ করতে পারি না। তিনি আরো বলেন, দেশের লুটপাত চলছে। হাজার হাজার কোটি টাকার বিদেশে পাচার করছেন ক্ষমতাসীনরা। এছাড়াও চলছে নিরব সন্ত্রাস। কোটা আন্দোলন একটি যৌক্তিক আন্দোলণ অথচ আন্দোলনকারীদের চোখ বেধে নিয়ে গেল সরকারের বাহেনী। যেটি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানীরা করছে। এটা কি পাক পেয়ারা না। সাবেক এই প্রসিডেন্ট আরো বলেন, দুর্নীতিতে ভরে গেছে প্রতিটি মন্ত্রনালয়। আপনারা এমন কোন মন্ত্রনালয় পাবেন না যেখানে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া যায়। অথচ আমাদের মন্ত্রীরা এটাকে বলছেন স্পিরিট মানি।
সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারের আইন উপদেস্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, সুষ্ঠ ও সুন্দর নির্বাচন করতে হবে; অন্যথায় অন্য কিছু..। তারা আরো বলেন, সংসদীয় নিয়ম হলো নির্বাচন হতে হলে সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে নিয়ে প্রধান মন্ত্রী নৌকার ভোট চেয়ে কথা বলছেন। এটা নাকি তার রাজনৈতিক অধিকার। তখন আমাদের জনগনের অধিকার হয় কোথায়। আমাদের অধিকার যারা হরণ করেছেণ তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করার বলেন তিনি। এই আইনজীবী আরো বলেন, ১৯৭১ সালের গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম হয়েছিল। আজ কি পেলাম। ছাত্রদেরকে গভীর রাতে ঞল থেকে বের করে দেয়া হল কেন এটা। বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি কি কোন দলের অনুগত? এইভাবে চলতে পারে না। আমরা কোন ব্যক্তি বা দলের জন্য নয়। সরকারি যারা চাকুরীর করেন আপনার দেশের হয়ে কাজ করার আহবান জানান সাবেক এই আইন উপদেস্টা।
বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি কোর্টের আদেশে চট্রগ্রামে বন্দর আজ অর্থনীতির দ্বার হয়েছে। কিন্তু আজ সেই সব প্রতিষ্ঠান তথা হাইকোর্ট , সুপ্রিম কোর্টকে রক্ষা করবে এটা নিয়ে আমি চিন্তিত। এখন কেউ কথা বলতে পারেন না। সব যেন সরকারের দাসে পরিণত হয়ে গেছে এমনি সাংবাদিকরাও। তিনি আরো বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রী জেলে দিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে। অথচ কোন অর্থ তছরুপ হয়নি। আমি তো মনে করি এই্ দায়ের বিচারকের সাজা হবে। কারণ এই অভিযোগে তাকে আসামী করা ঠিক হয়নি সাজা তো পরের কথা। তিনি বলেন, একজন মন্ত্রী কোটা আন্দোলনকারীদের রাজাকার বললেন। আমি মনে করি এটা যৌক্তিক আন্দোলণ। এটাকে রাজাকার বলে আমাদের সবাইকে রাজাকার বলেছেন তিনি। এসময় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Show all comments
  • গনতন্ত্র ২১ এপ্রিল, ২০১৮, ৩:৫৪ এএম says : 0
    জনগন বলছেন, “ এগিয়ে চল – ২০১৮ “ অতি কথায় হারিয়ে কাঁথা শীতে কাটাতে হবে রাত, কম কথা কাজ বেশী শপথ করি হাতে রেখে হাত ৷ আলোর মশাল দিবোনা নিভতে ৭১-এর সেই বীরের দল, আঘাত আসলে করবো প্রতিবাদ এগিয়ে চল, এগিয়ে চল ৷ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের আন্দোলনে গর্জে উঠো আরেক বার, ত্রিশ লক্ষে অর্জিত গনতন্ত্র মাটিতে মিলাতে ব্যস্ত স্বৈরাচার ৷ তলাবিহীন ঝুড়ি বানিয়ে দেশ বিদেশে বানিয়েছে বেগম পাড়া, কত ভবন দেশ- বিদেশে এগুলির মালিক বলুনতো কারা ?
    Total Reply(0) Reply
  • লাবনী ২১ এপ্রিল, ২০১৮, ৩:৪৬ এএম says : 0
    আল্লাহই ভালো জানে কি হয়
    Total Reply(0) Reply
  • ২১ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:৫৪ পিএম says : 0
    সবার কথা ভাল লেগেছে। ..............
    Total Reply(0) Reply
  • Rakibul Islam ২১ এপ্রিল, ২০১৮, ২:৪৭ পিএম says : 0
    পৃথিবীতে 'নিরপেক্ষ' কোন শব্দ থাকলেও বাংলাদেশ থেকে মনেহয় এই শব্দের অর্থ বদলে গেছে ! নিজে সিংহাসনে আশ্বিন হলে নিরপেক্ষ আর তা না হলে কারচুপি ,পিছনের রাস্তা , ছিলমারা ব্যালট পেপার এই দোষ একে অন্যের দিকে ছোড়া ছুড়ি !
    Total Reply(0) Reply
  • MD Azizul Hoque Chowdhury ২১ এপ্রিল, ২০১৮, ২:৪৮ পিএম says : 0
    আশা রাখি আপনারা সফলভাবে কোন কিছু পদক্ষেপ নিবে যার ফলে এইদেশে আবারো গণতন্ত্র ফিরে আসবে।আমরা ভোর্টের অধিকার পাব।
    Total Reply(0) Reply
  • Shahidul Haque ২১ এপ্রিল, ২০১৮, ২:৪৮ পিএম says : 0
    এই দেশটা কে বাচান,
    Total Reply(0) Reply
  • Khurshed Alam ২১ এপ্রিল, ২০১৮, ২:৪৯ পিএম says : 0
    ...........কে গদিতে রেখে কিভাবে নিরপেক্ষ ইলেকশান আশা করেন?
    Total Reply(0) Reply
  • Sümøñ ÆHméd ২১ এপ্রিল, ২০১৮, ২:৫০ পিএম says : 0
    আপনারা অত্যাচারী সরকারের হাত থেকে দেশ টাকে রক্ষা করুন। তাহলে গনতন্ত্র মুক্তি পাবে দুর্নীতি থেকে দেশ মুক্তি পাবে। নকল থেকে ছাত্ররা মুক্তি পাবে ব্যাংকে টাকা রেখে জনগন শান্তিতে ঘুমাতে পারবে । অত্যাচারী দের কাছ থেকে জনগন মুক্তি পাবে । ভোটারা তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
    Total Reply(0) Reply
  • hanifa ২২ এপ্রিল, ২০১৮, ৮:৫৯ পিএম says : 0
    Don't worry, world is heading towards world class dictatorship. Democracy Dies in Darkness (গণতন্ত্র অন্ধকারে মারা যায়) and Democracy and human rights will shudderlessly dies (গণতন্ত্র আর মানবধিকার নিশব্দহীনভাবে ধুকেধুকে মরবে) I সেনাবাহীনিকে ব্যবহার করে সুন্দর একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করলেই বুঝা যেত জনগন কি বা কাকে চায় ??!!
    Total Reply(0) Reply
  • robi ২২ এপ্রিল, ২০১৮, ৬:১২ পিএম says : 0
    Must be need fair election .
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ