Inqilab Logo

সোমবার, ১৬ মে ২০২২, ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে হত্যা করা হয় যাত্রীদের

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলরুটে ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) থেকে মো: আতিকুল্লাহ | প্রকাশের সময় : ২২ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ ছিনতাইকারীদের বেপরোয়া দৌরাত্ন্যে কারণে ট্রেন যাত্রীরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। ফলে রেলপথে চলাচলকারী ট্রেন গুলোতে যাত্রীরা এখন মৃত্যুরফাঁদে পরিণত হয়েছে। ছিনতাইকারী, অজ্ঞান ও সংঘবদ্ধ মলম পার্টির সদস্যরা ট্রেনের ছাদে চলাচলকারী যাত্রীদের টাকা পয়সা কেড়ে নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে যাত্রীদের হত্যা করছে। গত পনের দিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ছিনতাইকারী চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে দুই জন যাত্রীকে হত্যা করেছে।
গত ৬মার্চ শুক্রবার গফরগাঁওয়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছিনতাইয়ের অভিযোগে রায়হান নামে এক ছিনতাইকারীকে আটক করে জিআরপি পুলিশে সোর্পদ করে জনতা। এসময় আটক ছিনতাইকারীকে ছিনিয়ে নিতে গফরগাঁও জিআরপি ফাঁিড়তে হামলা চালায় একদল যুবক।
জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর রেলপথে চলাচলকারী ঢাকাগামী কমিউটার-২ ট্রেনটি বিকাল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ জংশন থেকে ছেড়ে আসে। বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে ট্রেনটি ত্রিশাল উপজেলার আউলিয়ানগর রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে আসার পর ৭/৮ জনের একটি ছিনতাইকারীদল ট্রেনের ছাদে ভ্রমনরত যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব কেড়ে নেয়।পরে গফরগাঁও রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে গফরগাঁও পৌর শহরের ষোলহাসিয়া কাজিবাড়ি এলাকায় ছিনতাইকারী দল ছিনতাই শেষে চলন্ত ট্রেন থেকে নেমে পড়ার সময় যাত্রীরা রায়হান (২৭)এক ছিনতাইকারীকে আটক করে ।ট্রেনটি গফররগাঁও ষ্টেশনে যাত্রী বিরতির সময় যাত্রীরা আটক ছিনতাইকারী রায়হানকে গফরগাঁও জিআরপি ফাড়িঁর রেল পুলিশের কাছে সোর্পদ করে।বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ৮/১০জনের একদল সংঘবদ্ধ যুবক ছিনতাইকারী রায়হানকে গফরগাঁও পুলিশ ফাড়িঁ থেকে ছিনিয়ে দিতে চেষ্টা চালায়।পরে জিআরপি ফাড়িঁর কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা ফাড়িঁর দরজা-জানালাবন্ধ করে নিজেদের আত্মরক্ষা করেন।এসময় উশৃঙ্খল যুবকরা ছিরতাইকারীকে ছিনিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়ে ট্রেনে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়া অবস্থানরত বিচারপ্রার্থী যাত্রীদের গফরগাঁও পুলিশ ফাড়িঁর সামনে মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হয় জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহীম (৩১) ও গাজীপুর শহরের দক্ষিন চত্বর এলাকার নূরুল হক(৩৩)। এ দিকে জনতার হাতে ধৃত রায়হানকে ঘটনার এক দিন পরই রহস্য জনক কারণে রেলপুলিশ ছেড়ে দেয়।
আহত যাত্রী নূরুল হক জানায়, ট্রেনটি আউলিয়ানগর ষ্টেশন অতিক্রম করার ছিনতাইকারীদল ছাদে ছিনতাই শুরু করে।এসময় বাধা দেওয়ায় চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে মারধর করে চলন্ত ট্রেন থেকে তাদের ফেলে দিতে চায়।পরে আমরা সাথে থাকা টাকা-পয়সা, মোবাইল, জিনিসপত্রসহ সর্বস্ব ছিনতাইকারীদের হাতে তুলে দিয়ে রক্ষা পায়।
গত ২এপ্রিল ঢাকাগামী বলাকা ট্রেনটি ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।ট্রেনটি ফতেমানগর অতিক্রম করার সময় ছাদে ভ্রমনরত যাত্রী গফরগাঁও উপজেলার রৌহা গ্রামের হানু মিয়া ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন।এসময় বাঁধা দেওয়ায় ছিনতাইকারীরা তাকে মারধর করে।ট্রেনটি গফরগাঁও ষ্টেশনে যাত্রা বিরতির পর ছিনতাইকারীরা দৌড়ে পালানোর সময় আক্রান্ত হনু মিয়ার চিৎকারে গফরগাঁও জিআরপি ফাঁড়ি পুলিশ জনি মিয়া,অনন্ত,ও আনারুল নামে তিন ছিনতাইকারীকে আটক করে।
৩১মার্চ শনিবার সন্ধ্যায় আন্ত:নগর তিস্তা এক্সপ্রেসে চলন্ত ট্রেনের ছাদে অজ্ঞাত কিশোরকে খুন হয়েছে। দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্ত:নগর তিস্তা এক্সপ্রেসে ট্রেনের ছাদে এ ঘটনা ঘটে। হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে রেলওয়ে পুলিশ চার জনকে আটক করেছে। আটকৃতরা হলো ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার গোদারিয়া গ্রামের বুলবুল (২১), গৌরীপুর উপজেলার নয়াপড়া গ্রামের ফরিদুল ইসলাম(২৩),শেরপুর জেলার সদর বাসষ্ট্যান্ড এলাকার ফারুক (২৪) ও মোহনগঞ্জ উপজেলার বাহাম গ্রামের হাইজুল (২২)।
জানা যায়, ময়মনসিংহ রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্ত:নগর তিস্তা এক্সপ্রেসে চলন্ত ট্রেনের ছাদে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরের খুন হয়। ঘটনাটি টের পায় ট্রেনের নিরাপত্তাকর্মীরা। পরে ট্রেনটি গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রা বিরতির পর পুলিশ ট্রেনের পিছনের বর্গীর ছাদ থেকে অজ্ঞাত কিশোরের লাশটি উদ্ধার করে। নিহত কিশোরের শরীর.মাথায় ও বুকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
গত ২৩ মার্চে রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল পথে গফরগাঁও উপজেলায় চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে খোকা মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে ছিনতাইকারীরা।পরে ঘটনার একদিন পর ২৪ মার্চ গফরগাঁও জিআরপি ফাঁড়ি উপজেলার বাববাড়িয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া রেল ব্রিজ সংলগ্ন থেকে খোকা মিয়ার লাশ উদ্ধার করেন।
জানা গেছে, গফরগাঁও উপজেলার নবগঠিত পাগলা থানার দিঘীরপাড় গ্রামের মাওলানা আব্দুস ছালামের ছেলে খোকা মিয়া টঙ্গী সিগারেটের ব্যবসা করত। ২৩মার্চ রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র ট্রেনে গ্রামের বাড়ি গফরগাঁওয়ে ফিরছিলেন। ছিনতাইকারীরা টাকা পয়সা কেড়ে নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেয়। নিহতরে চাচা আজাহারুল ইসলাম জানান, ট্রেন থেকে অজ্ঞাত ছিরতাইকারীরা খোকার মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে বিকাশে ১৫শ’ টাকা চাঁদা দাবি করে জামালপুর থেকে খোকা নিয়ে যেতে বলে।ছিরতাইকারীদের কথামত বিকাশে মাধ্যমে ১৫শ’ পাঠানোর পর তাকে ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। গফরগাঁও জিআরপি ফাঁড়ি এএসআই আবুল হাশেম জানান,ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত দু’জনের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ গফরগাঁও জিআরপি ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই শফিকুল ইসলাম নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং পুলিশের নীরব ভুমিকার কারণে গফরগাঁও রেরওয়ে ষ্টেশনে পকেটমার ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ন্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ রেলওয়ে সার্কেলের পুলিশ পরিদর্শক স্বপন কান্তি বড়–য়া জানান, এসব ঘটনার পর ট্রেনের ছাদে ভ্রমনকারী যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার হচ্ছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টায় অভিযান চলছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চলন্ত ট্রেন
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ