Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৫ রমজান ১৪৩৯ হিজরী

চাদরে রক্তের দাগ লাগলেই বিয়ে সম্পন্ন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২২ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

ভারতের মহারাষ্ট্রের কঞ্জরভাট নামে আদিবাসীদের সমাজ বাস। ওই সমাজের সদ্য বিবাহিত নারীদের পরীক্ষা দিয়ে প্রমাণ করতে হয় যে বিয়ের দিন পর্যন্ত তাদের কৌমার্য বজায় আছে। নবদম্পতির বিছানায় পাতা সাদা চাদরে রক্তের দাগ লাগলেই পাওয়া যায় প্রমাণ। তবেই সমাজ মেনে নেয় যে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর নিজের কৌমার্য প্রমাণে ব্যর্থ হলে নববধূর কপালে জোটে জুতোপেটা, অথবা বের করে দেয়া হয় শ্বশুরবাড়ি থেকে। মারাঠি যুবক বিবেক তামাইচিকার বিবিসিকে বলছিলেন এভাবেই- আমি তখন বেশ ছোট। বছর ১২ বোধহয় বয়স। একটা বিয়ে বাড়িতে গিয়ে দেখেছিলাম যে নববধূকে অনেক লোকে মিলে জুতো পেটা করছে। বুঝতেই পারিনি কেন মারছে সবাই মিলে ওই নতুন বউকে। কিছুটা বড় হয়ে গোটা বিষয়টা পরিষ্কার হয় আমার কাছে। সদ্য বিবাহিতা ওই নারী আসলে কৌমার্যের পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। আর যাতে কোনও নববধূকে বিয়ের পরেই কৌমার্যের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে জুতোপেটা না খেতে হয়, তার ব্যবস্থা করতে গিয়ে কয়েক দিন আগে বিবেক আর তার কয়েকজন বন্ধু নিজেরাই মার খেয়ে এসেছেন। এই প্রথা বন্ধের উদ্দেশ্যে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন বিবেক। স্টপ দা ভি রিচুয়াল নামে একটা হোয়াটস্ অ্যাপ গ্রুপও হয়েছে, যেটির ৬০ জন সদস্যের অর্ধেকই নারী। ভিরিচুয়াল অর্থ ভার্জিনিটি রিচুয়াল, বা কৌমার্য পরীক্ষা। পুণে শহরে একটা বিয়ে বাড়িতে বিবেক আর তাঁর কয়েকজন বন্ধু এই কৌমার্য পরীক্ষা বন্ধের সপক্ষে প্রচার চালাতে গিয়েছিলেন। সেখানেই কঞ্জরভাট স¤প্রদায়ের মানুষজন মারধর করেন। পুলিশ সেখান থেকে চল্লিশ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে। ছোট আকারে প্রকাশিত সেই সংবাদটা দেখেই খোঁজখবর করতে গিয়ে জানা গেল যে কৌমার্য পরীক্ষার মতো একটা মধ্যযুগীয় বর্বর প্রথা এখনও চলছে। কৌমার্যের পরীক্ষায় বিয়ের ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ শেষ হওয়ার পরে নববিবাহিত দম্পতিকে একটা হোটেলের ঘরে পাঠানো হয়, সঙ্গে দেওয়া হয় একটা সাদা চাদর। যদি হোটেলের ভাড়া দিতে নববিবাহিত দম্পতির পরিবার অক্ষম হয়, তাহলে পঞ্চায়েতই এগিয়ে এসে সেই ভাড়া মিটিয়ে দেয়। ঘরের বাইরে অপেক্ষায় থাকেন দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনরা। বিবেক তামাইচিকার বলছিলেন, অনেক সময়ে ঘরের ভেতরে পাঠানোর আগে বরকে শিক্ষিত করে তোলার নাম করে মদ খাওয়ানো হয় আর পর্ণোগ্রাফি দেখানো হয়। শারীরিক মিলনের শেষে যখন নবদম্পতি বাইরে আসেন, তখন দেখা হয় যে ওই সাদা চাদরে নববধূর রক্তের দাগ লেগেছে কী না। দাগ থাকলে নববধূ যে বিয়ের সময় পর্যন্ত কুমারী-ই ছিলেন, সেটাই মনে করা হয়। তবেই পঞ্চায়েত ওই বিবাহকে স্বীকৃতি দেয়। আর যদি সদ্য বিবাহিতা নারী সেই পরীক্ষায় ফেল করেন, তাহলে তার পরিণাম ভোগার জন্য তাঁকে তৈরি থাকতে হয়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সোনিয়া নায়েক বিবিসিকে বলছিলেন, প্রথমবার শারীরিক সম্পর্কের সময়ে যে নারীর দেহ থেকে রক্ত বেরবেই, এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। অনেক সময়ে প্রথমবার শারীরিক মিলন হলেও সতী মেয়েদের শরীর থেকে রক্ত নাও বেরোতে পারে। এর অনেক কারণ রয়েছে। কিন্তু রক্ত না বেরনো মানেই যে কোনও নারী সতী নন, এটা বলা অবৈজ্ঞানিক। সতী না হওয়ার অপরাধে নববধূকে বেইজ্জত তো করাই হয়, এমনকি পেটানোও হতে পারে। আর স্বামীটি পেয়ে যায় সদ্যবিবাহিত স্ত্রীকে সঙ্গে সঙ্গে ত্যাগ করার অধিকার। বিবিসি।

 


Show all comments
  • তামিম ২২ এপ্রিল, ২০১৮, ৫:২৪ এএম says : 1
    এটা আসলেই অমানবিক
    Total Reply(0) Reply
  • রিয়াজ ২২ এপ্রিল, ২০১৮, ৫:২৫ এএম says : 1
    ওই অঞ্চলের মানুষদেরকে এটা বুঝানো উচিত
    Total Reply(0) Reply
  • rafiqul islam ২২ এপ্রিল, ২০১৮, ৬:১৭ পিএম says : 0
    ata holo morokkhata
    Total Reply(0) Reply
  • Abdul wakl ২৩ এপ্রিল, ২০১৮, ৯:০৬ পিএম says : 0
    This is no good
    Total Reply(0) Reply
  • তৌহিদুল ইসলাম ২৭ এপ্রিল, ২০১৮, ২:২৫ পিএম says : 0
    এই ধরনের বহু কুসংস্কার রয়েছে আর যোতুক মানেকি ভাই এইটা কোন সভ্যতা বতমান শিক্ষিত সমাজে অহরহ হইতেছে গরিবের কেমন অবস্থা
    Total Reply(0) Reply
  • Amith ২৮ এপ্রিল, ২০১৮, ৭:১১ পিএম says : 0
    That is a great fun.Right this moment need to stop the kowmajjo necket system.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।