Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮, ০৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ৬ রমজান ১৪৩৯ হিজরী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট দুর্ভোগে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

| প্রকাশের সময় : ২৬ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম


চান্দিন (কুমিল্লা) উপজেলা সংবাদদাতা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের দাউদকান্দি এলাকায় বুধবার ভোর থেকে দিনভর থেমে থেমে যানজট চলছে। যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে যাত্রীদের নাকাল হতে হচ্ছে। এসময় অনেক যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন ধীরগতিতে চলার কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। গাড়ির চালক ও যাত্রীরা বলছেন, কুমিল্লা থেকে ঢাকা যাতায়াতের ২ ঘণ্টার রাস্তায় প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতু থেকে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহসড়কের রায়পুর পর্যন্ত মহাসড়কের ৪০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে একটি ট্রাক সেতুর ওপর বিকল হয়ে যায়। দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ রেকার এনে আধা ঘণ্টা পর বিকল ট্রাকটি অন্যত্র সরালেও বুধবার ভোররাতের যানবাহনের চাপে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তীব্র যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। দাউদকান্দির গৌরীপুর সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার, রুবি আক্তার, নিপা আক্তার, তাছলিমা, রিংকী আক্তারদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানায়, যানজটে আটকা পড়ে আট কিলোমিটার পথ হেঁটে-দৌড়ে কোনো রকমে সকাল সাড়ে নয়টায় যথাসময়ে হাসানপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পৌঁছায়।
যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ মেঘনা ও দাউদকান্দি সেতুতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দাউদকান্দির টোলপ্লাজা এলাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেলে সংশ্লিষ্টদের অবৈধ বাণিজ্য এবং অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও বেপরোয়া গতিতে এলোমেলো গাড়ি চলাচলের কারণে তারা ফোর লেনের তেমন সুফল পাচ্ছেন না। যানজটে আটকা পড়ে যাত্রী ছাড়াও পণ্যবাহী যানবাহন, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয়।
জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেন সড়কের যানবাহনের গতি ডাবল লেনের মেঘনা গোমতী ব্রিজে গিয়ে থেমে যাচ্ছে। এছাড়াও দাউদকান্দির টোল প্লাজা এলাকায় ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেলে অবৈধভাবে টাকা আদায় নিয়ে পণ্যবাহী যানবাহনের চালকদের সাথে সংশ্লিষ্টদের দর কষাকষির কারণে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেন হওয়ার কারণে মহাসড়কের অন্য কোথাও তেমন যানজট সৃষ্টি না হলেও টোল প্লাজায় পণ্যবাহী যানবাহন থেকে বখরা আদায় করতে গিয়ে ঢাকামুখী অংশে প্রতিদিনই কমবেশী যানজট লেগেই থাকে।
চাঁদপুরের মতলব উত্তরের কালীপুর স্কুল ও কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন ও মুরাদনগর উপজেলার পরমতলা ইদ্রিসিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, যানজটে আটকা পড়ে পরীক্ষার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে ১১ কিলোমিটার পথ হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছতে হয়েছে।
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শিবপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, মেয়ে আঞ্জুমানকে চিকিৎসক দেখাতে ঢাকায় রওনা দিয়ে তীব্র যানজটে সকাল সাতটা থেকে আটকে আছি। যথাসময়ে ঢাকায় পৌঁছে চিকিৎসককে দেখাতে পারব, কি না এ নিয়ে চিন্তায় আছি।
ঢাকাগামী সুরমা বাসের চালক মিজানুর রহমান বলেন, সকাল ছয়টা থেকে একটানা চার ঘণ্টা যানজটে আটকা আছি। কখন ঢাকায় পৌঁছাতে পারব জানা নেই। ঢাকা থেকে নোয়াখালীগামী লোকাল বাসের চালক লালন মিয়া বলেন, তীব্র যানজটে দাউদকান্দির মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত নয় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছে। দুপুর ১২ টায় দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কামরুল হাসান দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, পুলিশ যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে চেষ্টা চালাচ্ছে।
ঢাকাগামী এশিয়া পরিবহনের যাত্রী আবদুল ওয়াদুদ জানান, বেলা ১০টায় কুমিল্লা থেকে রওয়ানা করে দাউদকান্দি এলাকায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে সাড়ে ৪ ঘণ্টা। ঢাকায় কখন পৌঁছব বলতে পারছি না। বিকাল ৫ টায় হাইওয়ে পুলিশের দাউদকান্দি থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, সড়কে যানবাহনের চাপ বেশি। এছাড়াও দাউদকান্দি ও মেঘনা সেতুতে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং টোল প্লাজায় ওজন নিয়ন্ত্রণ স্কেলে ধীরগতির কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে যানজট স্থায়ী হচ্ছে না। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

Show all comments
  • kamal ২৬ এপ্রিল, ২০১৮, ১০:২৪ এএম says : 0
    Don't worry this is development . And half of the truck /trailer are carrying goods for india from chittagong port . Please don't worry though they are damaging our roads, highways, bridges but india our trusted neighbour and friend asper awami league so we have to help them though they don't pay to us as per international standard.
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ