Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ০৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

চোখ সুন্দর করুন

| প্রকাশের সময় : ২৭ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

চোখ আল্লাহর দান। কিন্তু চোখ সুন্দর না হলেও, নিয়মিত পরিচর্যা করে চোখ সুন্দর করে তোলা যায়। মহিলারা চোখের গুরুত্ব বোঝেন, তবে চোখের জন্য প্রয়োজনীয় বিশ্রাম তথা পুষ্টির বিষয়ে গা ছাড়া মনোভাব পোষণ করেন। চোখ ভালো থাকা না থাকা অনেকটাই স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারলেই এক জোড়া সুন্দর চোখের মালিক হওয়া যায়। স্বাস্থ্যবান চোখের জন্য প্রোটিন ও ভিটামিনের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে ভিটামিন-এ যুক্ত খাদ্য চোখের জন্য খুবই উপকারী। এর জন্য প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি , কুল , খেজুর, গাজর ইত্যাদি খাওয়া উচিত। সকালের খাবার খাওয়ার ঘন্টাখানেক আগে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খান। এতে চোখের উপকার হয়।
আমরা যতক্ষণ জেগে থাকি, ততক্ষণ আমাদের চোখ খোলা থাকে। মাঝে মাঝে চোখের পাতা ফেললেও, উজ্জ্বল বা কম আলোয় কাজ করা, একনাগাড়ে কিছু পড়া, পরীক্ষাগারে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজের চাপে আমাদের চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। কাজেই চোখের বিশ্রামের প্রয়োজন। বিশেষ করে, নিয়মিত তথা পর্যাপ্ত ঘুম চোখের জন্য খুবই জরুরি। ঘুম না হলে চোখ ক্লান্ত দেখায় এবং চোখের উজ্জ্বলতা হ্রাস পায়। যাদের রাত জাগার অভ্যেস রয়েছে, তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন। এতে মাথাব্যথা ছাড়াও চোখেও ব্যথা হতে পারে। পাশাপাশি, বেডরুম শান্ত পরিবেশ হওয়া উচিত। ঘুম যাতে গভীর হয় এদিকে লক্ষ্য রাখবেন। এর জন্য রাতের খাবার খাওয়ার একটু পড়ে শুয়ে পড়–ন। এতে ঘুম গভীর হবে। রাতে শুতে যাওয়ার আগে চা-কফি খাবেন না। এতে ঘুম পাতলা হয়। ফলে তার প্রভাব চোখে পড়ে। দুদিন ঘুম ভালো না হলেই দেখবেন চোখের তলায় কালি পড়তে শুরুকরে। তাই চোখের ক্লান্তি মেটাতে অন্তত সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমোন। তবে মনে রাখবেন , বেশি ঘুমও চোখের জন্য ভালো নয়।
* মাঝে মধ্যে গোলাপ জল দিয়ে চোখ ধোবেন। এতে চোখ আরাম পাবে এবং চোখে জমা ময়লা পরিষ্কার হবে।
* চোখে প্রসাধন থাকলে সেগুলো ভালো করে তুলে চোখ বন্ধ করে চোখের পাতায় কিছু সময়ের জন্য শসা কেটে দিয়ে রাখুন। এই পদ্ধতি খুবই জনপ্রিয় এবং উপযোগী।
* অন্ধকার কোঠায় চিত হয়ে শুয়ে পা দুটি বালিশ দিয়ে উচুঁ করে শুয়ে থাকুন। দেওয়ালে পা তুলেও শুতে পারেন। এই পদ্ধতি চোখ ও মগজ দুটোর জন্য উপকারী। এতে হৃৎপিন্ডে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি হয় তথা শরীরে সজীবতা আসে। অনেক সময় ধরে চোখ জোড় পড়া কাজ করার পর এই পদ্ধতিতে আরাম করলে সুফল পাবেন।
* কিছু সময়ের ব্যবধানে চোখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ঝাপটা দিন। * কাজের জায়গায় পর্যাপ্ত লাইট আছে কি না, তা লক্ষ্য রাখুন।
* ঠান্ডা দুধ চোখের ক্লান্তি কাটাতে অতি উপযোগী। জলপাইয়ের তেল বন্ধ চোখের পাতায় আলতো মালিশ করুন। এতে চোখের ক্লান্তি কাটবে এবং চোখের চামড়া কোঁচকাবে না।
* দুটি টি ব্যাগ কিছু সময়ের জন্য গোলাপ জলে চুবিয়ে রেখে দিন। এবার ঠান্ডা টি ব্যাগ দুটি কিছু সময়ের জন্য চোখের দুই পাতায় রেখে দিন। পলকেই চোখের ক্লান্তি দূর হবে।
* দিনের বেলায় অবশ্যই ভালো সানগ্লাস ব্যবহার করুন। এতে চোখ রোদের আলো থেকেও বাঁচবে আর ধুলো থেকে রেহাই পাবে।
* চলন্ত ট্রেন, বাস বা গাড়িতে বই পড়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। এতে চোখের ক্ষতি হয়। পরিবর্তে দূরের পাহাড় , ঘাস , বন দেখুন। সবুজ চোখকে সতেজ রাখবে।
* বিছানায় শুয়ে বই পড়া চোখের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। এই বদভ্যাস থাকলে অচিরেই ত্যাগ করুন।
* আধঘন্টার বেশি এক নাগালে টিভি দেখবেন না। অন্তত আট থেকে নয় ফুট দূর থেকে টিভি দেখবেন। দিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাবেন।

-আফতাব চৌধুরী
সাংবাদিক-কলামিস্ট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ