Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

তরুণ: কবিতা

| প্রকাশের সময় : ২৭ এপ্রিল, ২০১৮, ১২:০০ এএম

শাহিদ উল ইসলাম

কদম আলী বারমাসি

কেমন আছি? জানতে চেওনা কেউ
বুকে আমার সাতসাগরের
এক উথাল পাথাল ঢেউ
জানতে চেও না সেও।
আধা বছর জলে থাকি আধা বছর চলে
বারমাসি দুঃখ জলে উজান। গাঙ্গের ছলে
গেল বছর ঘরটা গেল বোশেখ মাসের ঝড়ে
এত দুঃখ কোথায় রাখি দু,চোখ ভরে জলে।
ছেলেটা যে আরব গেল দেনার দায়ে ফেলে
আদম বেটার খপ্পরে সে এখন নাকি জেলে
পাঁচটি বছর কেটে গেল তার খবর না জানি
ঘরের বুড়ি ছেলের শোকে ছোঁয় না দানাপানি।
দাদন নিয়ে বাঁচতে চেয়ে দাদন শোধে মরি
নিজের জমিন বন্ধকী তাই বরগা জমিন ধরি
পায় না রেহাই পাপের ভিটা হয় না টাকা কড়ি
সুখের ছোঁয়া পেতে বৃথা দুঃখের অংক গড়ি।
চন্দনাকে বিয়ে দিলাম বয়স কালের আগে
ফুটফুটে এক ছানা রেখে মেয়ে খেল বাঘে
এই দুঃখটা পাহাড় সমান যায় না রাখা বুকে
বারমাসি দুঃখ আমার সুখ ভাঙে সব দুঃখে।

হারুন আল রাশিদ
জীবনের জন্য জীবনকে

অবশেষে জীবনের মূল্য বুঝতে পারি।
বৃক্ষ সজীবতার পাঠ দান করে
ফুল ভালোবাসতে শেখায়
নদী জীবনের গান শোনায়
আকাশ বেঁচে থাকার মূল্য বোঝায়
বাতাস মনটা উদাস করে
তারকা ভালো কিছু ভাবতে বলে।
জীবনের জন্য জীবনকে
পূনরায় সাজাতে আরম্ভ করি।

সবুজ আহমেদ কক্স
মাঝে মাঝে অবাক লাগে বেঁচে আছি কি?

বালিশের পাশে নজরুল সঙ্গীত, রবীন্দ্র সঙ্গীত রেখে
ঘুমাচ্ছি আজ বহু দিন, বহু বছর
অথচ রক গানের মশগুল ছিলাম পুরো যৌবন
একদিন কতো পাখি গান শুনাতো সহস্র সুরে
স্বরচিত কথায় অডিও ভিড়িও
পরিচিতি পথ, পার্ক, রেস্তোরা অলিগলি রিক্সাওলা
কেউ আমাকে চিনে না এখন
অথচ চোখের ইশারায় কতো কি না করেছি
যে পাখিরা গান শুনাতো সে পাখিগুলো
খুব অচেনা অপরিচিতা
মাঝে মাঝে অবাক লাগে বেঁচে আছি কি?
চিমটি কাটি আয়নার সামনে যতোবার যাই...

রাজু ইসলাম
লাল পেড়ে শাড়ির আচল

একদিন একটি ঘাস ফড়িং এর পিঠে চড়ে
পাড়ি দেবো নরোম ভোর কিংবা মনোরম সন্ধ্যা।
সেদিন বকুলের মত স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পাড়ি দেবো তোমার সক্রিয় নিঃশ্বাস,
যেন মুগ্ধতার আকাশ ভেঙে পড়ে তোমার চিবুক ও চোখের কাজলে।
সমস্ত দিন তোমার আঁচলের বাসন্তীতে গাঁদাফুলের গুচ্ছের মতো-
থোকা থোকা ভালোলাগায় ভরে থাকবে তোমার চারপাশ।
ওখানে আমি হাওয়ার দোলনী হয়ে গুঁজে থাকবো তোমার খোঁপায়
যেন গ্রীষ্মের খরতা স্পর্শ না করে তোমায়।
আরো একটি সবুজ সকাল চেয়ে নেব আকাশের বুক থেকে
যেন তার বিশালতায় তোমার ক্লান্তিগুলো ফিরে যায় আমার পিঠে।
তারপর এক উদাস দুপুরে সমস্ত আবেগ আর আকাংখা ঢেলে
বটের ছায়া হয়ে দেখব তোমার পান্তা-জলে রূপালী ইলিশ গন্ধ
যেন বৈশাখের প্রথম দিনটি আমি প্রকৃতির মতো মিশে থাকি
তোমার লাল পেড়ে সাদা শাড়ির আঁচলে।

সুব্রত দাশ আপন
ভয়াল উনত্রিশ এপ্রিল

স্বপ্নের রঙিন পালঙ্কে বিনিদ্র রাত
আকষ্মিক খোদার উর্ধ্বক্ষেপন,
হ্যারিকেনের উন্মত্ততায় দেখিছি
বেলাভুমি জুড়ে ঝোঁপেঝাড়ে লাশের মিছিল
এলাকাজুড়ে শুনেছি মরা চিৎকার।

ভগ্নহৃদয়ে বিষন্ন আর্তনাদের বিলাপ
এখনো ফিরে আসেনি প্রিয়তম স্বামী
মাথা গোঁজার ঠাঁই গৃহভুমি, খাট, পালঙ্ক
বুকের নবজাত শিশু, বৃদ্ধপিতা, অসুস্থ মা
নিমজ্জিত জলদেশের রাজ্য সভায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর